পানি কমতে শুরু করেছে দিনাজপুরে, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে জনগন

refugee
আশ্রয় কেন্দ্রে মালেকা বানু একাকী বসে আছেন তার একমাত্র অবলম্বন একটি ছাগলকে নিয়ে।

ভয়াবহ বন্যায় দিনাজপুর শহর তলিয়ে গিয়েছে। শহরের অধিকাংশ স্থানেই ছিল পানির নিচে। ছিল না বিদ্যুৎ। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল যান চলাচল, এমনকি ট্রেনও। তবে সেই পানি ইদানিং কমতে শুরু করেছে। মূল শহর এখন শুকনো। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ফিরতে শুরু করেছে লোকজন। তবে শহরের বিভিন্ন কোনায় জমে থাকা পানির কারণে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যার পানিতে মৃত্যু হয়েছে অনেক প্রাণীর আর এতেই বৃদ্ধি পেয়েছে পচা দুর্গন্ধ। অন্যদিকে এখনও রয়েছে তীব্র খাবার সংকট। বিশুদ্ধ পানির অভাবও প্রকট। পৌরসভা থেকে পানি দেয়া হচ্ছে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় নগন্য।

Flood

আক্রান্ত লোকজন এখন অসহায়, তাদের বাড়িঘর হারিয়ে। অনেকেই হারিয়েছেন উপার্জনের অবলম্বন গবাদি পশু। লোকজন এ কারণে এখন দিশেহারা। তারা কি করবে, বুঝতে পারছে না। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে অনেকের টাকা-পয়সা লুট হয়েছে। অনেকেই এসকল অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়িয়েছেন, কিন্তু এটা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। অসহায় লোকজন এখন তাকিয়ে আছে কিছুটা সাহায্যের আশায়, যাতে তারা আবার একটু দাড়াতে পাড়ে।

পানির নিচে দিনাজপুর

Hospital
অসুস্থ রোগীকে হাসপাতাল থেকে নেয়া হচ্ছে আশ্রয় কেন্দ্রে।

ভয়াবহ বন্যার কারণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে দিনাজপুর এর অধিকাংশ স্থান। ভেঙ্গে গেছে বাধের অনেক স্থান। আর এতেই শহর এবং গ্রামে ঢুকে পড়েছে পানি। বেশ কিছু স্থানে পানি এতটাই উচু স্থানে, যে তাদের বাসার বিদ্যুৎ লাইনে পানির সীমে অতিক্রম করেছে। আর এ জন্য অনেক স্থানেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। দোকান-পাট বন্ধ থাকার কারণেই খাবার সঙ্কট বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্ধ হয়ে গেছে রেল চলাচল। এ ছাড়াও পানির জন্য অনেক স্থানেই সকল ধরণের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেছে, কেননা হাসপাতালের অভ্যন্তরে পানি প্রবেশ করেছে। এ সকল হাসপাতাল থেকে রোগীদের সরিয়ে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্র কিংবা অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, এতে বহ্যত হচ্ছে চিকিৎসা।

প্রায় দের লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে। তবে এ সকল স্থান তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ এর রয়ছে তীব্র অভাব। এ সকল আশ্রয় কেন্দ্রের অধিকাংশ স্থানেই নেই বিদ্যুৎ। ফলে রাতের বেলায় অন্ধকারের ভেতরেই কাটাতে হচ্ছে তাদের। একই সাথে বসবাস করছে গবাদি পশু ও মানুষ। গবাদি পশু’র মল-মূত্র’র জন্য তৈরি হচ্ছে তীব্র গন্ধ ও দূষণ।

Flood
পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ছোট্ট একটি ঘড়। আর এখানেই থাকছে গবাদি পশু এবং মানুষ একসাথে।

এর আগে এরকম হয়েছিল ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালে। তবে অনেকেরই আশংকা, এবার হয়ত আগের দুবারের চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন তাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে। মানণীয় হুইপ ইকবালুর রহিম নিজে পানিতে ভিজে খাবার ও অন্যান্য জরুরি জিনিসপত্র সরবরাহ করেছেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাব পাটওয়ারী প্রতিদিন খিচুরি রান্না করে সরবরাহ করছেন। এ ছাড়াও অনেক তরুণ এগিয়ে এসেছে, যারা নিজেরা সংগ্রহ করছেন অর্থ এবং খাবার। তারা নিজেরা তৈরি করছেন খাবার এবং সরবরাহ করছেন।

Sport
এক সময়ে এটি ছিল খেলার মাঠ, কিন্তু বন্যার পানির কারণে মাঠটি এখন তলিয়ে গেছে পানির নিচে। কিন্তু বালকটি এখনও খেলছেন তার পুরনো প্রিয় খেলার মাঠে।

নারী উদ্যোক্তা

ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ প্যাস্টেল

সৈয়দা সালমা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ Dress Delight

তাবাসসুম রহমান

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ কুইকার বিডি

আনিলা মায়োশি

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ Vibgyor a fashion booth

উম্মে সালমা সোমা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ ক্রাফ্টস অ্যান্ড আর্টিস্ট্রি

ইসপিয়া মমতা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ তরুনিমা’স বিবর্তন

নবনীতা রায়

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ গ্রাম্পি ফিশ

অন্তরা মেহরুখ আজাদ ও অনন্যা মেহপার আজাদ

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ মালাইকাট ক্যাসকেট

হলিউডে বাংলাদেশের নির্মাতা পান্থ রহমান এর সগর্ব পদচারনা

Director
পান্থ রহমান

ছেলেটা বেশ মেধাবী। পড়াশোনায়ও সেই ভাল। স্বপ্ন দেখতে দেশের শীর্ষ বিদ্যাপিঠ প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন। মেধাবী ছেলে, স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা যার নেশা, তার জন্য এটা হতেই হবে। সুযোগও চলে এল। স্বপ্নের বিভাগ অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস এ পড়াশোনা শুরু হল।

তবে এর পাশা পাশি একটা নেশাও যে ছিল তার, আর তা হচ্ছে ক্যামেরা। একটা গ্রুপ, গ্রুপের সকলেই মিলে বিভিন্ন জায়গায় যেতেন তারা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে আজকে কাশ্মীর কালকে নেপাল, আবার কখনওবা ভারত। অর্জন করলেন বেশ কিছু পুরস্কার। এ সময়ে ছবি তোলার পাশাপাশি প্রামাণ্য চিত্র এবং বিজ্ঞ্যাপনেরও কিছু কাজ শুরু করেছেন তিনি। এভাবেই পেরিয়ে গেল প্রায় দশ বছর।

এরপরে এল এক মহেন্দ্রক্ষণ। সুযোগ পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে পড়াশোনা করার। দু বছর সেখানে কাটালেন। এ সময়ে তৈরি করেছেন বেশ কিছু ফিল্ম। অধিকাংশই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর মাঝে তিনি তৈরি করলেন তার মা আফরোজা পারভীন এর ছোট গল্প “লাশ” অবলম্বনে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “Deceased”। বার মিনিট এর এ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি তৈরি করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দশ লক্ষ টাকা।কয়েকটি দৃশ্য হলিউড সুপার স্টার টম ক্রুজ এর বাড়িতে ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া হলিউডে গ্রাম-বাংলার দৃশ্য তৈরি করাটাও ছিল একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। আর সে চ্যালঞ্জ তিনি অতিক্রম করেছেন খুব ভালভাবেই। শুট করেছেন RED ক্যামেরা দিয়ে।

Deceased
Deceased ফিল্ম এর একটি দৃশ্য

বাংলাদেশ, আমেরিকা, নেপাল, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডে প্রদর্শিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “Deceased।” এ ফিল্মের মাধ্যমে অর্জন করেছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার।

কালার ব্লাইন্ড স্টুডিওতে এক আড্ডায় তিনি দেখালেন, স্ক্রিপ্ট। একটা ফিল্মের জন্য কি পরিমাণ পরিশ্রম করেছেন, তা কেবল স্ক্রিপ্ট দেখলেই বোঝা গেল। বার মিনিটের এ ফিল্মের জন্য প্রায় ২৫০ পাতার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়ছে।

যখন তিনি জানতে পারলেন তার এ ফিল্মটি ওয়ার্নার ব্রাদার্সে প্রদর্শিত হবে, তখন তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। এভাবে তার স্বপ্ন পুরণ হবে, হয়ত স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেন নি তিনি। স্বপ্নপূরণের অনুভূতিটা কেমন? পান্থ রহমানের ভাষায়, ‘ভয়ংকর!’ ছবির প্রদর্শনী দেখার পর তাঁর সহপাঠী, শিক্ষক এবং দর্শকদের প্রশংসাতে ভেসেছেন।

এখন তিনি ঢাকায় করেছেন নিজস্ব প্রোডাকশন হাউস। ব্যস্ত রয়েছেন নাটক ও টিভি সিরিয়াল নিয়ে। সেই সাথে তৈরি করছেন কয়েকটি ওয়েব সিরিজ। এবার ঈদ-উল-ফিতরে যে সকল নাটক তৈরি হয়েছে, তার মাঝে অন্যতম “ওপারে বসন্ত” এটির ডিওপি হিসাবে কাজ করেছেন।

এমদাদুল হক হৃদয় এর ফেসবুক পেজ এক লক্ষ ফ্যান এর মাইল ফলক

mirakkel akkel
এমদাদুল হক হৃদয়

স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান এমদাদুল হক হৃদয় এর ফেসবুক পেজ এক লক্ষ ফ্যান এর মাইল ফলক স্পর্শ করেছে। যদিও বাস্তবে এ তারকার ভক্তের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। মিরাক্কেল খ্যাত এ তারকা এ মাইলফলক অর্জন করে তার ভক্তদের নিকট প্রকাশ করেছেন কৃতজ্ঞতা। জানিয়েছেন ধন্যবাদ, তার সাথে থাকার জন্য।

তিনি জানিয়েছেন, তার ভক্তদের জন্যই তার বেচে থাকা, সামনে এগিয়ে যাওয়া। বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন বিভিন্ন স্থানে স্টেজ পারফরম্যান্স নিয়ে, আর সেই সাথে রয়েছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ব্যস্ত পদচারনা।

ফেসবুক পেজ লিঙ্কঃ www.facebook.com/emdadulhaquehridoyofficial

Press Bangladesh

নববর্ষের রাতে ভারতে যৌন হামলার ছড়াছড়ি

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভারতে ঘটা করে পালিত হয়েছে ইংরেজি নববর্ষ। লোকজন নানাভাবে এ রাতটি উদযাপন করেছে। তবে মাদক ও নারী নির্যাতন এর ঘটনা ঘটেছে প্রচুর। আশঙ্কাজনকভাবে ঘটেছে নারী নির্যাতন এর ঘটনা। এরকমই একজন আলোকচিত্রী চৈতালি ওয়ানসিক। এই তরুণী জানিয়েছেন, দুজন লোক তাকে শ্লীলতাহানি করার চেস্টা করলে তিনিও তাদের লাথি মারতে শুরু করেন। এসময়ে পাশেই পুলিশ ছিল, কিন্তু তারা কেউই এগিয়ে আসে নি। পরে কয়েকজন এগিয়ে এলে তারা চলে যায়।

কল্পনা পাল, যিনি পেশায় একজন সাংবাদিক, তিনি জানিয়েছেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য তিনি একটি বারের পেছনে যান, সেখানে কয়েকজন লোক মাতাল হয়ে বসে ছিল, তাদের মধ্যে থেকে একজন এগিয়ে এসে তাকে জাপটে ধরে। পরে তার ক্যামেরা মান মাধব তাকে মুক্ত করেন। কল্পনা পাল এ ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ২৫৬ টি অভিযোগ এসেছে। তারা সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাংবাদিকদের ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের খুজে বের করার চেস্টা করছেন।

মুম্বাই পুলিশের কাছে ৮৪৫ টি অভিযোগ করা হয়েছে। তারা একটি তদন্ত দল গঠন করেছে, যাতে এসকল অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা যায়।

কলকাতা পুলিশের কাছে ৬৭৯ টি অভিযোগ আনা হয়েছে শ্লীলতাহানির। এর মাঝে রয়েছে একজন পতিতা, নন্দিনী দেবী। নন্দিনী দেবী পুলিশকে জানিয়েছেন, একজন লোক তাকে জোর করে তার সাথে যৌন কাজে লিপ্ত হয়েছে। তিনি পেশায় একজন পতিতা হলেও তারও রয়েছে অধিকার। আর এ কারণেই কলকাতা পুলিশ তার এ অভিযোগ আমলে নিয়েছে। নন্দিনী দেবী আরও জানিয়েছেন, তিনি ওই লোককে চেনেন, তার নাম অর্জুন ঠাকুর। তিনি এইচ আই ভি পজিটিভ। কলকাতা পুলিশের নির্দেশে নন্দিনী দেবীর শারীরিক পরীক্ষাও করা হচ্ছে এবং চিকিৎসকদের আদেশ দেয়া হয়েছে, তার সঠিক চিকিৎসা করতে।

বিগত বছরগুলোতে এত অভিযোগ কখনও আসে নি। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, শ্লীলতাহানির ঘটনা আরও অনেক বেশি, অনেকেই পুলিশের কাছে অভিযোগ করে নি।

সমাজবাদী দলের বিধায়ক আবু আজমি ও কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর বলেছেন, নারীদের ছোট পোশাকের কারণেই এমনটা হয়েছে। তাদের এ মন্তব্যের পরে, তাদের পদত্যাগের দাবী উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও সাধারণ জনগণও তাদের এ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

পাকিস্তানেও এ বছর বেশ ঘটা করেই উদযাপন করা হয়েছে থার্টি ফাস্ট, কিন্তু সেখানে কোন যৌন হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ পুলিশ।