মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করার নিয়ম

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় ৬৭ তম আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ থেকে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে, প্রথমে অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে নাম নিবন্ধন করতে হবে।

ওয়েব সাইটঃ www.missworldbangladesh.com

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করার শর্তাবলীঃ

  1. অবিবাহিত হতে হবে
  2. কখনও কোন সন্তান্ত জন্ম দেয়া হয় নি
  3. বয়স সীমাঃ ১৮ বছর থেকে ২৭ বছর
  4. বাংলাদেশী নাগরিক হতে হবে

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নিবন্ধন করার ছবি
তিনটি ছবি জমা দিতে হবে। অবশ্যই ছবি হতে হবে প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারদের দ্বারা তোলা।

Wedding Gallery জানিয়েছে তারা মাত্র ১৫০০ টাকায় প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার দ্বারা এ তিনটি প্রফেশনাল স্টুডিও “কালার ব্লাইন্ড” স্টুডিওতে তুলে দেবে। এ ছাড়া তারা এ তিনটি ছবি 5R সাইজ করে প্রিন্টও করে দেবে।

প্রফেশনাল স্টুডিও এর ঠিকানা
Parijat
House No: 11 (Ground Floor)
Road No: 19
Mohammadpur Housing Society
Dhaka – 1209

Phone: +8801714332553
www.jbigallery.com

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

মিস ওয়ার্ল্ড
এ বছর এখানে দেখা যাবে বাংলাদেশ এর নাম

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ৬৭ তম আসর হতে যাচ্ছে চীনে, আর এ বছর এতে অংশ নেবে বাংলাদেশ। সেখানে অংশ নেবার জন্য এ বছর বাংলাদেশ ইতিমধ্যে নিবন্ধন করেছে। সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘নারীরা তাঁদের মেধা, সৌন্দর্য, মনন এবং পোশাক-পরিচ্ছদের মধ্য দিয়ে একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে। সুতরাং সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় আমাদের অংশগ্রহণে কোনো অসুবিধা নেই।’

আজ থেকে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত নারীরা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। তবে কেবলমাত্র ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী বাংলাদেশি মেয়েরা এতে অংশ নিতে পারবেন। বিবাহিত এবং সন্তান জন্ম দিয়েছেন, এমন নারীরা আবেদন করতে পারবে না। তিনটি ছবি জমা দিতে হবে। একটি ক্লোজআপ, একটি মাঝারি এবং একটি ফুল ছবি।

নিবন্ধন করতে হবে www.missworldbangladesh.com ওয়েবসাইটে। তথ্যমন্ত্রী ইনু আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, এখানে অংশ নেয়ার মাধ্যমে নারীরা তাদের বিকশিত করতে পারবে।

Wedding Gallery জানিয়েছে তারা মাত্র ১৫০০ টাকায় প্রফেশনাল ফটোগ্রাফার দ্বারা এ তিনটি প্রফেশনাল স্টুডিও “কালার ব্লাইন্ড” স্টুডিওতে তুলে দেবে। এ ছাড়া তারা এ তিনটি ছবি 5R সাইজ করে প্রিন্টও করে দেবে।

স্টুডিও এর ঠিকানা
Parijat
House No: 11 (Ground Floor)
Road No: 19
Mohammadpur Housing Society
Dhaka – 1209

Phone: +8801714332553
www.jbigallery.com

Miss World Registration for Bangladesh

Miss World 2017
Photo Session for Miss World 2017

ইফফাত ই ফারিয়া ও তার প্যাস্টেলস এর গল্প

entrepreneur
ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

সফল নারী উদ্যক্তা (Woman Entrepreneur) ইফফাত ই ফারিয়া ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্যাস্টেলস নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তিনি সাধারণত নিজের ডিজাইন করা পোশাক পরিধান করতেন আর এতে তিনি পেতেন সকলে প্রশংসাও। এরপরে অনেকেই তার কাছ থেকে নকশা করে জামা বানাত। এভাবেই তিনি প্যাস্টেলসের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। ২০১৪ সালে উচ্চশিক্ষার্থে মেলবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর সব কাজ শেষ করে অবসর সময়েই শুরু করলেন প্যাস্টেলস। শুধুমাত্র ৬০০০ টাকা মূলধনের সেই প্যাস্টেলসই ফারিয়া’র জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াল। এক বন্ধুর হলুদের পোশাক তৈরি করা থেকে শুরু করে তার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়, এরপর আর তাকে পেছনে ফিরতে হয় নি। বিয়ে কিংবা উৎসবের গাউন ডিজাইন করেন তিনি।

ছোট পরিসরে শুরু করা কাজ দিয়ে শুরু হয়ে প্যাস্টেলসের আজ আছে নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে আট জন কর্মচারী প্রতিনিয়ত কাজ করে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে তিনি তৈরি করেছেন এ উৎপাদন কেন্দ্র। অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে।তাদের ফেসবুক পেজটি হ্যাক হয়েছে, কিন্তু থেমে থাকেন নি ফারিয়া সদা হাস্যজ্জল এ সফল নারী। বাণিজ্যিক লাইসেন্স পেয়ে এখন আরও বড় পরিসরে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্বপ্নের প্যাস্টেলস প্রসঙ্গে রঙ বলেন, ‘আমার ডিজাইন করা পোশাক পরে একজন নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পদার্পণ করবে ভাবলেও একটা শিহরণ অনুভব করি। রঙিন পোশাকে হাসিখুশি তরুণীরা একেকজন পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে বহুগুণ। দেশের বাইরে থেকেও আসে প্রচুর অর্ডার।

বৃস্টিভেজা সন্ধ্যায় ব্যালকনিতে এক হাতে নজরুল এর একটি কবিতার বই নিয়ে আর কফি’র কাপে চুমুক দিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো ফ্যাশন উইকে প্যাস্টেলসের পোশাক পরে সুপার মডেলরা হাঁটবে, এই স্বপ্ন দেখেন তিনি। আর এমন স্বপ্ন দেখতেই তিনি পারেন। তার বন্ধুরা জানালেন, রঙ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এ ছাড়াও তিনি কাজ করছেন, ইউনিসেফ, জাস্টিস ফর ওম্যান ফাউন্ডেশন, সেভ দ্য চিল্ড্রেন্স অস্ট্রেলিয়া, ন্যাশনাল চিল্ড্রেন্স টাস্ক ফোর্স, লাইটার ফাউন্ডেশন সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। এ নারী সর্বদা স্বপ্ন দেখেন, একটি সুন্দর পৃথিবীর। যেখানে থাকবে না, কোন অন্যায়, অবিচার। এমন একটি পৃথিবী, যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে একজন নারী’র অধিকার। বিভিন্ন নারী উদ্যক্তাদের নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন তিনি। জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক এবং চ্যানেল আই অনলাইন পত্রিকায় নিয়মিত ফিচার লেখেন দেশের বিভিন্ন নারী উদ্যক্তাদের নিয়ে।

wedding dairy

নারী উদ্যোক্তা

ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ প্যাস্টেল

সৈয়দা সালমা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ Dress Delight

তাবাসসুম রহমান

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ কুইকার বিডি

আনিলা মায়োশি

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ Vibgyor a fashion booth

উম্মে সালমা সোমা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ ক্রাফ্টস অ্যান্ড আর্টিস্ট্রি

ইসপিয়া মমতা

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ তরুনিমা’স বিবর্তন

নবনীতা রায়

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ গ্রাম্পি ফিশ

অন্তরা মেহরুখ আজাদ ও অনন্যা মেহপার আজাদ

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানঃ মালাইকাট ক্যাসকেট

পারমিতা’র জীবনের বাস্তবতা

 Barish Haque
বারিশ হক

একজন নারীর জীবনের কঠিন মুহুর্তের বাস্তবতা আর একটি ছেলের বেড়ে ওঠার সময়ের চিন্তাধারা এ দুটি ঘটনাকে এক সুতোয় গেথে মাসুদুল হক নির্মাণ করেছেন স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “পারমিতা” আর এ গল্পের পারমিতা চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন অনিন্দ্য সুন্দরী নৃত্যশিল্পি এবং ভিবগেয়র ফ্যাশন বুথ এর ব্রান্ড এম্বাসেডর বারিশ হক। এ ছাড়া বারিশ হক এর বিপরীত এ অভিনয় করেছেন সাদাব সৃজন।

২২ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের এ স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে জিরো বাজেটে। সকলেই মিলে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই কাজটি করেছেন। শুটিং করা হয়েছিল জাহাঙ্গির নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। পানির ভেতরে ক্যামেরা নিয়েও শুট করা হয়েছে।

বারিশ জানিয়েছেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে এ কাজটি করেছেন। এ ছাড়া সকলেই কাজটি করেছেন অত্যন্ত আনন্দের সাথেই।

মিরপুর মিলনায়তনে প্রথম প্রদর্শন করা হয় এটি। বেশ কয়েকটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শন করা হয়েছে এটি এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পায় এটি। আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেও প্রদর্শন করা হয়েছে এই অসাধারণ স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি।

সান ফ্রান্সিস্কোর র‍্যাম্পে লাল সবুজ পতাকা

bangladesh flag
প্রিয় লাল সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে র‍্যাম্পে হাটছেন ফাহিমা মাহজাবীন চৌধুরী

সান ফ্রান্সিস্কো, র‍্যাম্প, বাংলাদেশের পতাকা!!! এ তিনটি জিনিসকে এবার এক করে ফেলুন। কেমন যেন বিস্ময়কর লাগছে, তাই না? মেলানো যাচ্ছে না কিছুই। কিন্তু এবার এমনটাই হয়েছে। সান ফ্রান্সিস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটির একটি র‍্যাম্পে বাংলাদেশের একজন কন্যা হেঁটেছেন, আর তার হাতে ছিল বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক, লাল সবুজ পতাকা। আর এ কাজটি করেছেন ফাহিমা মাহজাবীন চৌধুরী। র‍্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল, নারীর ক্ষমতায়ন। কিন্তু তিনি নারীর ক্ষমতায়ন এর সাথে সাথে নিজের দেশকেও তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, বিশ্বের সামনে।

ফাহিমা মাহজাবীন চৌধুরী পড়াশোনা করছেন সান ফ্রান্সিস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। এর আগে তিনি United Nations Youth and Students Association of Bangladesh (UNYSAB) এর সদস্য ছিলেন।

নারী উদ্যোক্তা তাবাসসুম রহমান এর সৃষ্টি কুইকার বিডি

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী মানেই ঘরকন্যার দেখা শোনা করবে। চার দেয়ালের ভিতরে থেকে স্বামী সন্তানের দেখা শোনা করবে। কিন্তু জাতীয় কবি নজরুল তো বলেছেন, অর্ধেক কাজ করিয়াছে নারী। তাহলে সারা বিশ্বেই যখন নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে, রেখেছে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর, সেখানে আমাদের দেশের নারীরা কেন পিছিয়ে থাকবেন?

অনেক নারীই উঠে এসেছেন তাদের কাজের মাধ্যমে। কেও গায়িকা, কেও নায়িকা। আবার কেও অভিনেত্রি। অনেকেই নিয়েছেন ব্যবসার মত কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাদের অনেকেই দেখেছেন সাফল্য। অনেকেই আবার সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে আরোহণ করেছেন। অনেকেই আবার এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্দান্ত গতিতে। এরকমই একজন নারী তাবাসসুম রহমান

স্নাতক পাশ করার পরেই বিয়ে করে যখন ঘরের ভিতরে বসে ছিলেন, তিনি একে দেখেছেন সময় অপচয় হিসাবে। কিছু একটা করা দরকার। বেশ কিছু জিনিসের পরকল্পনা করেছিলেন।

অনলাইন কুরিয়ার সার্ভিস “কুইকার বিডি” প্রতিষ্ঠা করেন এ নারী উদ্যোক্তা। ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এ সার্ভিস। প্রথমে খুব ছোট পরিসরে কাজ শুরু করলেও এক বছরে তা বিস্তৃতি লাভ করেছে অনেকাংশে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ও বরিশালে রয়েছে তাদের শাখা অফিস। তার ব্যবসায়িক সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসাবে তিনি বেছে নিয়েছেন কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন। তাছাড়া আরা ক্রেতদের দিয়ে থাকেন বিভিন্ন অফার ও মূল্যছাড়। শুরুটা হয়েছিলো মাত্র একজন ডেলিভারি ম্যান দিয়ে। তাবাসসুম দেখাশোনা করতেন একাউন্টস ও কাস্টমার কেয়ার। এখন ১২ জন ডেলিভারি ম্যান এবং ২ জন পিকা আপ ম্যান এবং ১ জন কাস্টমার কেয়ার কর্মরত রয়েছেন এখানে। পঞ্চাশ হাজার টাকা মূলধন দিয়ে তিনি শুরু করেন এ যাত্রা।

বর্তমানে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ব্যস্ত রেখেছেন এ কাজে। সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে ওঠার নেশা তাকে এমনভাবে পেয়ে বসেছে, যাতে অবসরের কোন চিন্তাই তিনি এখন করতে পারেন না। সফল নারী উদ্যোক্তা ইফফাত ই ফারিয়া বলেন, যদি এরকম নেশা সকল নারীদের পেয়ে বসে, তাহলে আমাদের দেশটা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর তালিকায় উপরের দিকে থাকবে।

স্বামী ওয়াহিদ মুরাদ তাকে একাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। সন্তানদের সুন্দরভবাবে লালন পালন করে তিনি যেভাবে তিনি ব্যবসায় নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তা অন্য আট-দশজন নারীদের কাছে রীতিমত ইর্শনীয় ব্যাপার।

ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

ইফফাত ই ফারিয়া
ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালে জন্ম এ নেয়া এ কন্যা, আসলে ত কোন কন্যা নয়, যেন একজন অগ্নিকন্যা!!! অত্যন্ত স্বাধীনচেতা এ রঙ। ই-কমার্স নিয়ে অনলাইনে পড়াশোনা করে তিনিও স্বপ্ন দেখতে থাকেন, তিনি নিজেই কিছু করবেন। আর যেহেতু ইন্টেরনেট এখন অনেক সহজলভ্য, তাই তিনি ই-কমার্স নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ঝোঁক ছিল তার রান্নার প্রতি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেছে নেন পোশাক। জন্ম দিয়েছেন প্যাস্টেলস এর। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে থাকেন পোশাকের এমনকি বিয়ের পোশাকও। তৈরি করেছেন সুন্দর একটি ফ্যাক্টরি। সব কাজ সেখানে করা হয়। ধীরে ধীরে সুনাম আসছে।

জামার মাপ ও কাটার জন্য রয়েছেন একজন সুদক্ষ কর্মী। কারখানায় কারচুপি এম্ব্রয়ডারি ও নকশীকাঁথার কাজগুলো করা হয় সুনিপুণভাবে। এ মুহুর্তে সর্বমোট আটজন কাজ করছে এ কারখানায়।

জদিও শুরুটা সহজ ছিল না। চারদিক থেকে অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা। তবে এ প্রতিবন্ধকতাই তাকে উপরে এনেছে। একমাত্র বাবা ছাড়া আর তেমন কারোও সহযোগিতা পাননি। সবাই যখন পড়াশোনা শেষ করে একটি ভাল কোম্পানিতে চাকরি খুজতে চায়, তখন তিনি হেটেছেন বিপরীতে। । প্রতিদিনই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কাজ করছেন আমাদেরই জন্য। পড়াশোনা করছেন ইউনিভারসিটি অফ মেলবোর্ন, ফাউন্ডেশন ইয়ার, কেমিকৌশল বিভাগে।

স্বাধীনচেতা এ অগ্নিকন্যা প্রতিটী ইভটিজিং এর ঘটনা তিনি প্রতিবাদ করে আসছেন অত্যন্ত সাহস আর বুদ্ধির সাথে।

অগ্নিকন্যা আজ মুখোমুখি হয়েছিলো প্রেস বাংলাদেশ এর, সাথে ছিলেন যুবাইর বিন ইকবাল। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে অনেক কিছুই। পাঠকদের জন্য নির্বাচিত অংশ –

প্রশ্নঃ কবে সূচনা করেছেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ সেটা ছিলো ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪!

প্রশ্নঃ এ ব্যবসা শুরু করার পেছনের কারণ?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার আসলে ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করার। এডমিশনের পরে ৬ মাস সময় হাতে ছিলো। আমি একটা বিজনেস এডমিনিস্ট্রেসশন এর শর্ট কোর্স করে ফেলি তার মাঝে। ই-কমার্সের ব্যপারে ঘাটাঘাটি করে আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।
আমি একি দিনে ২টা পেজ খুলি অনলাইনে। একটা ছিলো Pastels, আরেকটি Cookies, cupcakes & cardio. পোশাক আর ডেজার্ট আইটেমের ভেতর যেটা চলবে মনে হয়েছিলো সেটাই বেছে নিয়েছি পরে। মানুষের এখন বিয়ের শপিংয়েভারত পাকিস্তান যাবার যে ট্রেন্ড চলছে, আমার দেখে খুব খারাপ লাগত। তখন ভাবলা আমরা তো নিজেরাই পারি আনতে বা বানাতে!

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি এখন কামলা খাটি সোজা বাংলায় বলতে গেলে! পড়ালেখা+পার্টটাইম জব+নিজের ব্যবসা। সময় থাকে?

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার ইচ্ছা আছে দুই বিষয়ে স্নাতক শেষ করবো।ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ফ্যাশান ডিজাইনিং নিয়ে বিজনেস! ইন্টারেস্টিং না?

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার অনেক বড় ক্ষতি করা হয়েছে। ৬৫ হাজার ফলোয়ারের ফেসবুক পেজ টা হ্যাক করে নিয়েছে একজন। ফেরত আনার চেস্টা করিনি আর। নতুন খুলে ফেলেছি। জীবনে থেমে গেলে চলবে?

প্রশ্নঃ কতজন কাজ করছে আপনার এ প্রতিষ্ঠানে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি প্রতিষ্ঠাতা। আমার সাথে আরো ৬ জন আছেন। তানভীর অরণ্য,জিহাদ কবি,রাহা চৌধুরি, সারোয়াত বারি,মুবাসসির সাকিব এবং জয় আচার্য। ৮ জন কাজ করে। কেউ করে কারচুপি, কেউ এম্ব্রয়ডারি, কেউ নকশীকাঁথা, মাপ মতো কাটা এবং সেলাইয়ের জন্য আলাদা মানুষ।
আর ইসলামবাদে আমাদের একটা শাখা আছে। প্রয়োজনে আমদানি করা হয় এজেন্ট এর মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ শুরুতে মূলধন কত ছিল?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ৬০০০ টাকা!

প্রশ্নঃ বর্তমানে কিরকম আয় হচ্ছে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ খারাপ না। কিন্তু আমি খুব খরুচে স্বভাবের। সব খরচ করে ফেলি। পরে আবার টানাটানি তে পড়ে যাই!

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি সবসময় চাঁদ লক্ষ্যে রেখে আগাই। সেটা যদি হাতছাড়াও হয়ে যায়, কোনো না কোনো তারা তো হাতে পাবো?

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ৮০% ভালো। খারাপ কেউ বলেনা আসলে। হয়তো ডেলিভারি তে সময় লাগে, কাজে সামান্য ভুল হয়,মাপে গোলমাল হয়। সেটা আমরাই আবার ঠিক করে দেই। সবাই তো স্টুডেন্ট, এতো প্রফেশনালি কাজ পারিনা।

পুরষ্কার / সম্মাননাঃ
ইফফাত ই ফারিয়াঃ এটা আবার কি! প্যাস্টেলস নিয়ে ৫-৬ টা ফিচার হয়েছে কয়েক জায়গায়। সেটা কি সম্মাননা? আমি ছোটতে খুব ভালো নাচ-কবিতা-ড্রয়িং-গান পারতাম। নতুন কুঁড়ি, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা, ইফা এর জেলা-বিভাগীয়-জাতীয় পর্যায় এর অনেক প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছি।সেগুলা কি পুরস্কার? ওহ হ্যা, ২০১২ তে গ্রামীনফোন আই জিনিয়াস প্রতিযোগীতায় রাজশাহী বিভাগে রানার্স আপ ছিলাম। ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর CR আমি। এটা চলে?

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ গান। আর খাদ্য। আমি খুব ভালো রান্না জানি।এতো ভালো, যে আমি একা ছাড়া আর কেউ খেতে পারেনা। অবসরে সেগুলো খাই।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার পাথরের পাহাড় ভালো লাগে। সবুজ চোখ,বাদামি চুলের কোন মেয়ে সাথে থাকলে ভালো লাগবে।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ প্রশ্ন করা।মানুষ এর কৌতুহল আমার অসহ্য লাগে।সবকিছু জেনে ফেলতে চায় এরা। আর মানুষকে অবিশ্বাস করা।দয়াশীলতার অভাব ও অপছন্দ।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ৫ জনের সাথে একত্রে যাওয়া যাবে? জনি ডেপ, ফারহান আখতার, প্যাট্রিক ডেম্পসে, আরেফিন শুভ আর এমা ওয়াটসন!!!
কেনোর কোন উত্তর নাই। ভাল্লাগে, তাই।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ
ইফফাত ই ফারিয়াঃ না, আমি পরামর্শ দেবার মতো এমন কিছু এখনো হয়ে যাইনাই।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার নাম লিখে গুগল করেন! বাকিটা আপনি ও বুঝবেন। সে জোস!

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন তাকে দুর্বলতা মনে করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি মানুষকে অনেক বেশি তথ্য দিয়ে ফেলি নিজের বিষয়ে,যেটা তারা পরবর্তীতে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করে। বিশ্বাস করি এবং আমি খুব ভালোবাসতে জানি। এটা খুব বড় দূর্বলতা।

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আসলে আমাদের প্রজন্মটা কেমন জানি। এদের বুকের ভেতর মায়া নাই দেশটার জন্য। আমি অবশ্যই চেস্টা করবো খুব বড় কিছু করে ফেলার। কিন্তু সেটা কি হবে এখনো ঠিক বুঝতে পারিনা। কিন্তু করবো।

প্রশ্নঃ সবুজ পৃথিবী তৈরি করতে আপনার অভিমত?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ শুধু সাদা মেঘ বা নীল পানি, ফিফটি শেডস অফ গ্রে দিয়ে ত জীবন চলবেনা। সবুজ লাগবে। গাছ যদি ফ্রি ওয়াইফাই দিতো, আমরা বোধহয় তাইলে সারাদিন গাছ লাগাতাম! আফসোস গাছ শুধু একটুখানি অক্সিজেন দেয়!

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার মাথা খারাপ হয়ে যায় মাঝেমধ্যে খবর দেখে। প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অসুখ, ঘুষ, এক্সিডেন্ট। আমার দেশটা রসাতলে যাচ্ছে! আমি বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে কাজ করি। ইউনিসেফ, জাস্টিস ফর ওম্যান ফাউন্ডেশন, সেভ দ্য চিল্ড্রেন্স অস্ট্রেলিয়া, ন্যাশনাল চিল্ড্রেন্স টাস্ক ফোর্স, লাইটার ফাউন্ডেশন। সবখানেই খুব ছোট ছোট প্রচেষ্টা নিয়ে কয়েকজন আপ্রাণ চেস্টা করে যাচ্ছে! এটুকু তে ধীরে ধীরে একদিন খুব বড় কোনো পরিবর্তন হয়ে যাবে আশা করি! সবচেয়ে বড় কথা সচেতনতা লাগবে। অন্যায়ে আগায়ে গিয়ে প্রতিবাদ করা লাগবে। আজ অন্যের সাথে হচ্ছে, কাল আমার আপনার সাথেও হবে। শাস্তিদান নিশ্চিত করতে হবে অপরাধীর। কতোদিন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়ানো যাবে?

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ বাংলাদেশ তো আমার একার হাতে না। আমি চেষ্টা করি সবসময় ভালো কিছু করার। কিন্তু সবাই মিলে যা শুরু করেছে,
আজকাল সবুজ পাসপোর্ট হাতে থাকা মানে অভিশাপ মনে হয়।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ নেই না। আমি খুব হতাশাবাদী মানুষ। আমি কোনো ঝামেলায় পড়লে নিজেকে গোল আলু মনে করে চুপচাপ বসে থাকি।

প্রশ্নঃ বিনে পয়সায় কেও কাজ করাতে চাইলে কিভাবে তাকে অপমান করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ অপমান করিনা। হয়তো স্ক্রিনশট নাম ঢেকে ফেসবুকে দিয়ে দেই। লজ্জা এমনিতেই পায়।
তবে কয়েকবার কিছু উদ্ভট ক্লায়েন্ট পেয়েছি যাদের আচার আচরণ এ বিরক্ত হয়ে মনে হয়েছে গিফট করে দেই। দানের খাতায় চলে যাবে।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার নিজেকে খুব পছন্দ। কেন হবেনা? এরকম আর কেউ আছে?

প্রশ্নঃ কিসের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা এবং কেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ভালো গান গাইতে পারে এরকম যেকোনো মানুষের প্রতি আমি টান অনুভব করি। চওড়া কাঁধ, সুন্দর চোখ, কোঁকড়া বাদামি চুল আর সুন্দর জুতা! আমার দূর্বল দিক।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার ইন্সমনিয়া আছে। আমি অন্ধকার ভয় পাই। এজন্য দিনে ঘুমাই। তাও খুব কম। আর পানি ভয় পাই।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার লম্বা গোলগাল কোঁকড়া বাদামি চুলের মেয়ে পছন্দ। খুব শখ একটা বৌ থাকবে নিজের!

প্রশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষেরা কেন জানি ক্যান্সারে মারা যায়। এটা খুবই অদ্ভুত।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত আমার জানা নাই এখনো। কষ্টের কথা মনে হয় একজন আমার কোলে মাথা রেখে মারা যায়। তার রক্তবমি হচ্ছিলো,আমার গায়ে মেখে যায়। আমি সেদিন থেকে রাতে ঘুমাতে পারিনা। এটাই মনে হয়।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ প্রেমের সম্পর্ক? তানভীর অরণ্য। প্রথম ভালোবাসা অন্য আরেকজন।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ শব্দ। অসাধারণ গানের গলার রুপবান একটা ছেলে যে এখন ঘুমিয়ে আছে একটা পুকুর পাড়ে।

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ টিকিয়া। বাঁশপাতা মাছ। খাসির কাচ্চি। গাজরের হালুয়া। ব্লুবেরি পাই। পেস্তা বাদামের আইস্ক্রিম! লিস্ট শেষ হবেনা।

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ হাহা! আমি!

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি গালি দেই খুব। “ধুর্বাল” খুবই কমন। রাস্তা ঘাটে রিক্সাওয়ালা, বাসার দারোয়ান, চটপটির লোকের দেয়া প্রতিটা গালি আমি নোট করে রাখি আর সময়মত প্রয়োগ করি।

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আম্মুকে মালদ্বীপ এর একটা ছোট অংশ কিনে রেখে আসব। জ্বালায় খুব।

প্রশ্নঃ বিয়ের পরে পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ জিজ্ঞেস করবো, “যে ৮০০০ টাকা ধার নিয়েছিলা, দিবা কবে?”

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
ইফফাত ই ফারিয়াঃ
১. গালি দেই
২. বেশি কথা বলি
৩. অল্পতে বিরক্ত হই
৪. নখ কামড়ে খাই!
৫. চুল আঁচড়াই না

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু
ইফফাত ই ফারিয়াঃ কুকুর।

bridal
ইফফাত ই ফারিয়া এর ডিজাইন করা পোশাক। ছবি তুলেছেন বাংলাদেশ এর বিখ্যাত আলোকচিত্রি জিয়া উদ্দীন
bridal dress
ইফফাত ই ফারিয়া এর ডিজাইন করা বিয়ের পোশাক।

Bangladeshi Wedding Photographer