বিশ্বমানের ডিজে হবার পথে মিথিলা মিথি

ডিজে মিথিলা মিথি, আনিন্দ্য সুন্দরী একজন রমণী। তবে শুধু রূপ নয়, নিজেকে চিনিয়েছেন তিনি তার কাজের মাধ্যমে। অসাধারণ একজন ডিজে তিনি। মাতিয়ে তোলেন একটা পার্টি, সৃষ্টি করেন আনন্দ মুখর একটি পরিবেশ। তবে কেবল দেশের আঙ্গিনা নয়, হতে চান একজন বিশ্বমানের ডিজে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি ছুটে যেতে চান আর উজ্জ্বল করতে চান দেশের নাম। আর এ জন্য তিনি পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দিন-রাত্রি। প্রচন্ড ব্যস্ত তিনি কাজ আর অনুশীলন নিয়ে। ব্যস্ততার মাঝেও কিছুটা সময় তিনি দিয়েছেন প্রেস বাংলাদেশকে। সঙ্গে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। পড়ন্ত বিকেলে কফি টেবিলে দুজন মেতে উঠেছিলেন এক আনন্দঘন আড্ডায়। আর এখানেই তিনি জানালেন জানা-অজানা অনেক কিছুই। নির্বাচিত কিছু অংশ পাঠকদের জন্য

dj
ডিজে মিথিলা

প্রেস বাংলাদেশঃ পথ চলার শুরুটা কিভাবে? কেন মনে হল, আপনি একজন ডি জে হবেন এবং ডি জে হবার পরে কেন মানুষ আপনাকে গ্রহণ করবে?
মিথিলাঃ যখন ইউটিউবে অন্যান্য দেশের ডি জেদের ভিডিও দেখতাম, তখন খুব ইচ্ছে হত আমিও একদিন ওদের মত ডি জে হব। একটা বিশ্বাস ছিল, যদি ভাল করতে পারি, তাহলে দর্শক অবশ্যই আমাকে গ্রহণ করবে। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে শুরু হওয়া। এখন অনেকেই হিংসে করে আমায়। কিন্তু আমি আমার চলার পথে অটুট থাকব।

প্রেস বাংলাদেশঃ ক্যারিয়ারের শুরুতে কাদের সমর্থন পেয়েছিলেন?
মিথিলাঃ ক্যারিয়ারের শুরুতে ডি জে তৌফিক, ডি জে রনো এবং ডি জে রাহাত আমাকে সবদিক থেকে সহযোগিতা করেছিল। তাদের কারণেই আজ আমি এখানে। তাদের কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

প্রেস বাংলাদেশঃ ডি জে নিয়ে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি কি?
মিথিলাঃ আন্তর্জাতিক ডি জে হতে চাই।

প্রেস বাংলাদেশঃ এ পেশার চ্যলাঞ্জিং দিকগুলো কি?
মিথিলাঃ শো শেষ করে ফিরে আসাটাই অনেক চ্যালেঞ্জ মনে হয় আমার কাছে। কেন না অধিকাংশ শো শেষ হয় প্রায় মধ্য রাতে।

প্রেস বাংলাদেশঃ নতুন কেও এ পেশায় আসতে চাইলে কিভাবে আসা উচিৎ?
মিথিলাঃ ভাল কোন ডি জে এর কাছ থেকে আগে কাজ শেখা। এর পর শো করা।

প্রেস বাংলাদেশঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
মিথিলাঃ ডিজে জুইসি এবং ডিজে রাহাত

প্রেস বাংলাদেশঃ প্রথম প্রেমের গল্প?
মিথিলাঃ ভুলে গেছি!!! হা হা হা

প্রেস বাংলাদেশঃ কোন তারকার সাথে যেতে চান ডেটিঙে?
মিথিলাঃ সালমান খান। ইচ্ছে ছিল শহীদ কাপুর, কিন্তু এখন এক বাচ্চার বাবা!!!

প্রেস বাংলাদেশঃ বিয়ের পরে পূরোনো প্রেমিকের সাথে হুট করে দেখা হলে, কি বলবেন?
মিথিলাঃ দেখেও না দেখার ভান করব।

প্রেস বাংলাদেশঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
মিথিলাঃ গান শুনি, মাঝে মাঝে বই পড়ি।

প্রেস বাংলাদেশঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
মিথিলাঃ প্রথম পছন্দ কক্সবাজার এরপরে সিলেট।

প্রেস বাংলাদেশঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
মিথিলাঃ বিশ্ব ভ্রমণ

প্রেস বাংলাদেশঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
মিথিলাঃ দুটোকেই বেশ ভয় পাই, তবে সবচেয়ে বেশি ভয় পাই মানুষ। কেননা মানুষ বারবার রঙ বদলায়, এক রঙের আড়ালে থাকে আর এক রঙ।

ফটোশুট দিয়ে আলোচনায় পিয়া

জনপ্রিয় হিপ হপ ড্যান্সার পিয়া এবার আসছেন মডেলিং জগতে। আর তার এক্সক্লুসিভ ফটোশুট করলেন খ্যাতনামা ফটোগ্রাফার যুবাইর বিন ইকবাল। নন্দিত এ ফটোগ্রাফার পিয়া সম্পর্কে বলেছেন, পিয়া’র স্টাইল, লুক অসাধারণ। বিশেষ করে তাকানোর ভঙ্গি তাকে এনে দেবে মডেল হিসাবে খ্যাতি। জনপ্রিয় নির্মাতা পান্থ রহমান বলেছেন, তিনি পিয়ার শুট দেখার পরে তাকে তার পরের বিজ্ঞাপনের জন্য চুড়ান্ত করেছেন। ফটোশুটের পাশাপাশি মজার এক আড্ডায় মেতেছিলেন ফটোগ্রাফার যুবাইর এবং পিয়া। পিয়া শেয়ার করেছেন জানা-অজানা অনেক কিছুই। তাদের এ আড্ডার কিছু অংশ দর্শকদের জন্য –

Pia
পিয়া
ছবিঃ যুবাইর বিন ইকবাল

প্রশ্নঃ কবে সূচনা করেছেন? ড্যান্স
পিয়াঃ ২০১১ সালের দিকে প্রথম শুরু করি এবং আমার পছন্দ হিপ হপ। শুরুটা হয় নিজে নিজে টিভি দেখে দেখ। আর এখন কাজ করছি ঈগলস ড্যান্স কোম্পানি এর সাথে।

প্রশ্নঃ ড্যান্স শুরু করার পেছনের কারণ?
পিয়াঃ বাবা – মা’র অমতে শুরু করেছিলাম। ছিলাম অবাধ্য মেয়ে আর গুল্লি মেরেছিলাম পড়াশোনার।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা?
পিয়াঃ ড্যানশ, রিহার্সেল, শো। আর ইদানিং মডেলিং শুরু করতে যাচ্ছি।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ভাবছেন?
পিয়াঃ চলচ্চিত্রে কাজ করা

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
পিয়াঃ আমার মত ডেয়ারিং মেয়ের আবার প্রতিবন্ধকতা!!!

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
পিয়াঃ বড় পর্দার জন্য তৈরি করছি নিজেকে।

প্রশ্নঃ দর্শক ফিডব্যাক কেমন?
পিয়াঃ স্টেজ ফাটায়া দেইতো!!!

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
পিয়াঃ বান্ধবীদের সাথে চ্যাটিং!!!

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
পিয়াঃ নদীর পারে, ছোট বোন

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
পিয়াঃ কথা শুরু করতে না করতেই অনেক ছেলের I love you বলাটা খুব অপছন্দের!!!

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
পিয়াঃ হিরো আলম কেননা হেব্ব লাগে

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
পিয়াঃ ক্যাটরিনা কাইফ

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন তাকে দুর্বলতা মনে করেন?
পিয়াঃ মানুষকে খুব দ্রুত আপন করে নেয়া

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
পিয়াঃ শপিং। কেন, এটার উত্তর সকলেরি জানা। হা হা হা

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
পিয়াঃ যদি মা’র মৃত্যু হয়!!!

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
পিয়াঃ খেলতে গিয়ে একটা ছেলেকে কিস করেছিলাম

প্রশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
পিয়াঃ হিরো আলমকে এখনও পেলাম না

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
পিয়াঃ হঠাত একিদন বাবা এসেছিল সেদিন। যখন বাবা অন্যত্র চলে গিয়েছিল।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
পিয়াঃ তেমন করে কাওকে ভালবাসা হয় নি।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
পিয়াঃ অঙ্কুশ

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
পিয়াঃ অরেঞ্জ জুস

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
পিয়াঃ ঘুমানোর সময়ে আঙ্গুল চুষতে থাকি

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
পিয়াঃ হিরো আলমকে দিয়ে দেব/ তারপরও অরে পাই

প্রশ্নঃ বিয়ের পরে পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
পিয়াঃ কানশা বরাবর চড় মাড়ব

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু
পিয়াঃ ইফফাত ই ফারিয়াঃ তেলাপোকা, ওকে কে বলেছে পাখির মত উড়তে

ফটোশুট

গল্পটা ফাইজা, তার তৃতীয় চোখ আর হাতের

Bangladeshi Wedding Photographer

Photographer
ফাইজা ইসলাম

ফটোগ্রাফি করতে যে ইচ্ছা লাগে ডিএসএলআর না“, ঠিক এমনটাই বিশ্বাস করেন, আলোকচিত্রি ফাইজা ইসলাম। সেই ২০০৯ এ শুরু হয়েছিল, তার যাত্রা, একটা ৯.৫ মেগার ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে। তখন তিনি স্কুলে পরতেন। শুরুর দিকে তুলতেন কন্সেপ্টচুয়াল এবং সেলফ প্রোট্রেট। আর এ কারণে পাশের বাড়ির পিচ্চি বা নিজের ভাইবোনকেই মডেল বানিয়ে তুলে আনতেন কন্সেপ্টচুয়াল ছবিগুলো। আবার কখনওবা টাইমার সেট করে নিজেই দাড়িয়ে যেতেন ক্যামেরার সামনে!

Fashion Portrait
© ফাইজা ইসলাম

বর্তমানে একজন ফ্যাশন ফটোগ্রাফারের সাথে কো-ফোটগ্রাফার হিসাবে কাজ করছেন তিনি।

তবে, তিনি যে শুধু ছবি তোলেন, তা কিন্তু নয়, পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকেনও। আর তাই আর ইচ্ছা, আর্ট এবং ফটোগ্রাফিকে একসাথে নিয়ে নতুন কিছু করতে।

একজন নারী হিসাবে এ পেশায় কোন বাধা বিপত্তি আসে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, আপনি যদি মনে করেন, আপনি নারী, আপনি অবলা, তাহলে আর সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না। সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে, নিজেকে একজন মানুষ মনে করতে হবে। মনে করতে হবে, পৃথিবীকে সাম্নের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, যাদের উপরে রয়েছে দায়িত্ব, আমি তাদেরই একজন।

ফাইজা তার মনোমুগ্ধকর ছবি দিয়ে অর্জন করেছেন বেশ কিছু পুরষ্কার এবং তার বেশ কয়েকটি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।

Fine art Photography
© ফাইজা ইসলাম
FIne art photography
© ফাইজা ইসলাম
Conceptual Photography
© ফাইজা ইসলাম
Fine art Photo
© ফাইজা ইসলাম
Painting
ফাইজা ইসলাম
Painting
ফাইজা ইসলাম

লোপামুদ্রা তালুকদারের বিশ্বজয়

Lopamudra Talukdar
লোপামুদ্রা তালুকদার

বাঙালী রমণী তাকে মানায় রান্না ঘরে উনুনের পাশে অথবা উঠোনের কোণায় ধান মাড়াচ্ছে। স্বামীর ঘর করবে এইতো। কিন্তু এভাবে আর কতকাল নিজেদের ঘরে বন্দি করে রাখবে তারা নিজেদের? এক সময়ে তারা জেগে উঠলো। তারাও শুরু করলো নিজেদের যাত্রা। ঘর থেকে বের হলো। চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদি। অনেকেই নিজেদের আর একটু এগিয়ে নিয়ে নিজেদের চিনিয়েছেন ভিন্নভাবে। কেও হাতে নিয়েছেন রঙ তুলি আবার কেও বা হারমোনিয়াম। কিন্তু তাই বলে ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে বনে বাদারে ঘুরে বেড়াবে একজন রমণী? এ সমাজ সেই নারীকে কিভাবে মেনে নেবে? জাত গেল, সমাজ গেল, এরকম আরও কত কি? কিন্তু তাই বলে তারা বসে থাকবেন? কেন তারা বঞ্চিত হবেন, ক্যামেরা দিয়ে বিশ্বকে দেখার? সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাঈদা খানম সহ আরও অনেক নারীই বেরিয়ে পড়লেন ক্যামেরা হাতে নিয়ে বিশ্ব জয় করতে। সাঈদা খানমদের দেখানো সে পথে হেটেছেন আজকের নারীরা। এরকম একজন বাঙালী রমণী লোপামুদ্রা তালুকদার। জনপ্রিয় এ আলোকচিত্রি এবার মুখোমুখি হলেন প্রেস বাংলাদেশের। সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

Dream
স্বপ্ন

প্রশ্নঃ আপনি একজন অসাধারণ ফটোর। নিজেকে একজন সফল ফটোগ্রাফার হিসাবে কিভাবে গড়ে তুলেছেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ আমি নিজেকে একজন অসাধারণ নই সাধারণ ফটোগ্রাফার হিসাবেই গণ্য করি। ২০১০ সালে আমার ছবি তোলায় হাতে খড়ি। ওই বছর ইউরোপের অনেকগুলো দেশে যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় প্রথম স্ট্রিট ফটোগ্রাফির স্বাদ পাই। বিভিন্ন ডিজিটাল ফোরামে ছবি শেয়ার করার মাধ্যমে পজিটিভ ফিডব্যাক পেতে শুরু করি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছবি পাঠিয়ে আশাতীত সাফল্য পাই, উৎসাহিত হই। এরপর ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেকে নিজেই শিক্ষিত করি। আমার মনে হয় ভালো ছবি তুলতে হলে ভালো ছবি দেখা, বোঝা, পর্যালোচনা করা ভীষন জরুরি।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা কি?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ এই মুহূর্তে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্টারি ছবি তুলছি তবে ফোটো স্টোরি করাতেই আমার বেশি আগ্রহ।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ অনেকের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি তবে আলাদা করে কাউকে আদর্শ মনে করি না। আমার মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কিছু শেখার আছে।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ ফটোগ্রাফির বাইরে সবচেয়ে পছন্দের বিষয় ভ্রমণ। কয়েক মাস বাইরে না গেলেই মন খারাপ হয়ে যায়। নতুন দেশ দেখতে, সেখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষজনের সঙ্গে পরিচিত হতে ভালো লাগে।

Potatso National Park, China
পটাতশ ন্যাশনাল পার্ক, চীন

প্রশ্নঃ কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন? ফটোগ্রাফির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা কতটুকু দরকার?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ আমার সেই অর্থে ফটোগ্রাফিতে কোনো প্রথাগত শিক্ষা নেই। যতটুকু শিখেছি তার অনেকটাই ইন্টারনেট থেকে। এটা ডিজিটাল যুগের এক বিশাল সুবিধা বলে আমার মনে হয়। সিনিয়রদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ পেয়েছি।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ বাংলা এবং ইংরেজি একাধিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের হয়ে ফোটো ফিচার করেছি।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ কাজ করতে গেলে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতেই হয়, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে তা সামলেও নিয়েছি।

প্রশ্নঃ পেশাগত জীবনে নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ নেতিবাচক কিছুর সম্মুখীন হলে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি।

প্রশ্নঃ নিজের দেশের বাইরেও আপনার অনেক ভক্ত রয়েছেন, যারা আপনার ছবি মুগ্ধ নয়নে দেখে। কেমন অনভব হয় তখন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ একজন আলোকচিত্র শিল্পী হিসাবে প্রশংসিত হতে, তা দেশে হোক বা বিদেশে, ভালোই লাগে। সবসময় চেষ্টা থাকে নিজের দেশ সম্পর্কে একটা ইতিবাচক চিত্র যাতে তুলে ধরতে পারি।

প্রশ্নঃ প্রথম পুরষ্কার পাবার পরের গল্পটা কি ছিল? কেমন অনুভুতি ছিল সে সময়ে?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ ছবি তুলতে শুরু করার এক বছরের মধ্যেই একটি প্রেসটিজিয়াস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পুরস্কার পাই। এটা সেই সময় আমার কাছে আশাতীত ছিল। তবে উৎসাহিতও হয়েছিলাম ফোটোগ্রাফিকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার জন্য।

প্রশ্নঃ নতুন ফটগ্রাফারদের জন্য কিছু পরামর্শ।
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ ভালো ছবি দেখ, ছবি নিয়ে আলোচনা করো। নিজের উপর অনাবশ্যক চাপ দিও না। অল্পে হাল ছেড়ে দিও না। প্রতেকদিন কারো ভালো ছবি হয় না। নিজের ছবির নিজেই কডা বিচারক হও।

River
নদী

ওয়েব সাইটঃ www.lopamudratalukdar.com

Press Bangladesh

রেজাউল হাফিয রাহী

Wild life Photographer
রেজাউল হাফিয রাহী

নিতান্তই শখের বশে তিনি পাখির ছবি তোলা শুরু করেছিলেন ২০১০ এর দিকে। আজ তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রি হিসাবে। বন-বাদারে ঘুরে বেড়ান তিনি পাখির সন্ধানে। আর সন্ধান পেলেই ক্যামেরার শাঁটার বাটনে আঙ্গুল চাপতে মোটেও দেরী হয় না। কেননা পাখীত আর অপেক্ষা করবে না কারও জন্য। শুধু যে তিনি পাখির ছবি তোলেন, টা নয়। কাজ করেন পাখী সংরক্ষণ ও রক্ষণা-বেক্ষনের জন্য। বিপন্নপ্রায় পাখিদের প্রজনন ও নিরাপদ আবাসের জন্যও তিনি নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বন্দি খাঁচা থেকে মুক্ত করে ছেড়ে দিয়েছেন কত শত পাখিকে। পাখির প্রতি মমতাময়ী এ আলোকচিত্রির সাথে কথা হয়েছে প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবালের। সে আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

egret
বক

প্রশ্নঃ কতদিন হল ফটোগ্রাফি শুরু করেছেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: ৬ বছর

প্রশ্নঃ শুরু করার পেছনের কারণ?
রেজাউল হাফিয রাহী: পাখিদের প্রতি ভালবাসা থেকেই ফটোগ্রাফি তে আসা হয় । এছাড়াও ক্যামেরা খুব প্রিয় ছিল

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে প্রাতিশঠাকনিক শিক্ষা?
রেজাউল হাফিয রাহী: কোন প্রাতিস্থানিক শিক্ষা নেই । ইন্টারনেট , বইপত্র থেকেই শেখা

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
রেজাউল হাফিয রাহী: ব্যবসা , ঠাকুরগাঁও ইলেক্ট্রনিক্স এর স্বত্তাধীকারি

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রেজাউল হাফিয রাহী: ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে কাজ করার ব্যপক আগ্রহ আছে

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ
রেজাউল হাফিয রাহী: যাই করো পাখি পরিবেশের দিকে একটু খেয়াল রেখো

প্রশ্নঃ বন্যপ্রাণী সংরক্ষনে বিশেষ করে বিল্পুপ্ত প্রায় প্রানীদের জন্য আপনার মতে কি কি করা উচিৎ?
রেজাউল হাফিয রাহী: ব্যপক গণসচেতনতা তৈরী করতে হবে । শিক্ষিত মহল কে এগিয়ে আসতে হবে । এ ছাড়া বন বিভাগ কে এগিয়ে আসতে হবে

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
রেজাউল হাফিয রাহী: নিজেকে অনেক অনেক পাখির মাঝে দেখতে চাই

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: ব্যবসার কারনে পাখির ছবি তোলার জন্য সময়ের খুব অভাব । ছুটির দিনে বা ব্যাস্ততার ফাকে সময় বের করে যা তুলি আর কি ।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
রেজাউল হাফিয রাহী: ফটোগ্রাফি নিতান্তই শখের বশে । কোন আয় নেই

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: পুরো উত্তরবঙ্গ । কক্সবাজার , বান্দরবন নেপাল যাওয়া হয় মাঝে মধ্যে ব্যবসার কাজে সেখানে টুকটাক ছবি তোলা হয়

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
রেজাউল হাফিয রাহী: অনেক ভালো । এর মাধ্যমে অনেকের মধ্যে প্রক্রিতি প্রেম জাগাতে পেরেছি । আমার ভাই ব্রাদার আমাকে পাখি ভাই বলে ডাকে , খুব ভালো লাগে শুনতে ।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: কয়েকজনকে গুরু মানি যেমন দীপন দা , লিটু ভাই , আবু বকর সিদ্দিক ভাই আর খুব কাছের ছোট ভাই ফিরোজ আল সাবাহ

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি । এটি আমার মনকে তৃপ্ত করে ও শান্তি আনে

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: আমার কোন দুর্বলতা নাই এটা জানি এবং মানি ।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
রেজাউল হাফিয রাহী: অবসর বলতে জীবনে কিছু নাই । ৬ দিন ব্যবসাপাতি পরিবার আর একদিন ছবি তুলে বেড়াই

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: বনে জঙ্গলে । আমার মত কএকজন পাখি প্রেমিক সাবাহ, আবু বকর ভাই ,এমদাদ ভাই

প্রশ্নঃ পছন্দের খাবার?
রেজাউল হাফিয রাহী: আজ পর্যন্ত পছন্দের কোন খাবার পেলাম না মাছ ভাত হলে ভাল হয়

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
রেজাউল হাফিয রাহী: ভালো ক্যামেরা ও লেন্সের দাম মাথার উপ্রে দিয়া যায়

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান? কেন ভয় পান?
রেজাউল হাফিয রাহী: কুকুর দেখে ভয় পাই 😛 কারন কুকুরের কামর খাইনাই

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত ও কষ্টের মুহুর্ত কি ছিল?
রেজাউল হাফিয রাহী: একটা বড় অপারেশন এর পর পরিবারের কাছে সুস্থ হয়ে ফিরে আশা ছিল সবচেয়ে আনন্দের আর বাবাকে হারানো ছিল সবচেয়ে কস্টের 🙁

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
রেজাউল হাফিয রাহী: ৫৫০ডি ও ১৮-৫৫ এম এম এর সাথে

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
রেজাউল হাফিয রাহী: ক্যানন ১০০-৪০০

প্রশ্নঃ কি দেখলে সবচেয়ে বেশি রেগে যান?
রেজাউল হাফিয রাহী: বেয়াদপ কুকুর দেখলে

প্রশ্নঃ কেমন দুষ্ট ছিলেন ছোটবেলায়?
রেজাউল হাফিয রাহী: এমনিতে দুস্ট ছিলাম না তবে একবার স্কুলে এক বান্ধবীর টিফিন ক্যারিয়ার এ ব্যাঙ রেখেছিলাম । কারন ছিল সে মিথ্যা বলে হাকিম স্যারের কাছে আমাকে মার খাওয়াতো

প্রশ্নঃ বাথরুমে সাধারণত কি ধরনের গান গেয়ে থাকেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: বাথরুম এ গান গাই না শুনী

প্রশ্নঃ চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে কার বিপরীতে অভিনয় করার ইচ্ছা?
রেজাউল হাফিয রাহী: অনন্ত জলীল এর বিপরীতে 😀

প্রশ্নঃ ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা।
রেজাউল হাফিয রাহী: জানিনা আমার মত পাগলের কজন ভক্ত আছে আর যদি থেকেই থাকে , তবে আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি আরো ভালো কাজ করতে পারি । সবার জন্য শুভকামনা ।

Black-hooded Oriole
হলদে পাখি

Bangladeshi Wedding Photographer

কাজী মুশফিক

Kazi Mushfiq
কাজী মুশফিক

অসাধারণ একটি ছবি দিয়ে একজন দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা যায়। তাকে নিয়ে যাওয়া যায় কল্পনার একটি জগতে। যেখানে তিনি বিচরণ করেন ঐ স্থানে। এন্সেল এডামস, স্টিভ ম্যাককারি, জি এম বি আকাশ এদের হাত ধরে তরুণরাও সে পথে উঠে আসছে। তারা রাখছে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর। এরকমই একজন বাংলাদেশী তরুণ কাজী মুশফিক হোসেন। সেলফোন ক্যামেরা দিয়ে যার শুরু হয়েছিল রহস্যময় এ জগতে যাত্রা। এরপর হাতে পান ক্যানন ই ওস ৫৫০ ডি ক্যামেরা। মূলত ট্রাভেল ও স্ট্রিট ফটোগ্রাফি করেন তিনি। সময় পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন সাথে তার প্রিয় ক্যামেরা।

Hanging Passenger
© কাজী মুশফিক

স্মৃতির পাতায় বিচরণ করে তিনি বলেন, “ছবি তোলার একদম আগের কথা। একবার এয়ারটেল একটা লাইক কন্টেস্ট আয়োজন করেছিল। ছবি ভাল থাকা সত্ত্বেও আমার ছবি এক্সিবিশনের জন্য নির্বাচিত হয়নি। এক্সিবিশনে যেয়ে মন খারাপ হয়েছিল। তখন একটা জেদ কাজ করেছিল। এমন একদিন আসবে আমার ছবি সবাই দেখবে। তখন ছোট ছিলাম । জেদটা কিন্তু বিফল এ যায়নাই। হাহা”

Photography
© কাজী মুশফিক

তার প্রথম পুরষ্কার ছিল পিউপ্ল’স চয়েস এওয়ার্ড ই ৩৬০ ফটোগ্রাফী কন্টেস্ট এ। স্মৃতির পাতায় আজীবন ধরে রাখার মত একটি মুহুর্ত সেটি।

তার অধিকাংশ ছবিতে ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স এর ব্যবহার দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে কম্পোজিশন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। তবে কাজটা বেশ কঠিন। তার আলোচিত অধিকাংশ ছবি গুলোতে তিনি ব্যবহার করেছেন ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স এবং এ ছবিগুলোর জন্য তিনি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও পুরষ্কার।

তার অর্জিত উল্লেখযোগ্য পুরষ্কারসমূহ হচ্ছে, হিউম্যানিটি ফটো ২০১৫ এর পারফরম্যান্স পুরষ্কার, সনি ওয়ার্ল্ড পুরস্কার এর বাংলাদেশ থেকে তৃতীয়, সেনোভেসন এর প্রথম পুরষ্কার। এছারাও তিনি আরও প্রায় দশটি পুরষ্কার পেয়েছেন।

Happiness
© কাজী মুশফিক

প্রতিশ্রুতিশীল এ তরুণ ফটোগ্রাফার এর সাথে ফটোগ্রাফারদের প্রাণের স্থান দৃক গ্যালেরিতে এক আড্ডায় ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। পাঠকদের কাছে তার নির্বাচিত অংশঃ

প্রশ্নঃ আপনি একজন অসাধারণ ফটোগ্রাফার। নিজেকে একজন সফল ফটোগ্রাফার হিসাবে কিভাবে গড়ে তুলেছেন?
কাজী মুশফিক: প্রথমেই বলে নেই আমি একজন সাধারণ মানুষ যে ছবি তুলতে অনেক ভালবাসে। এখনও নিজেকে ওই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারিনি। ২০১২ থেকে ছবি তোলা শুরু করি। এরপর যতটুকু অর্জন হয়েছে তা মহান আল্লাহর রহমত ও প্রিয় মানুষদের দোয়ায়।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্ম ব্যস্ততা কি?
কাজী মুশফিক: এইতো মাত্রই পাশ করলাম। বর্তমানে আমি একটি মাল্টিন্যাশনাল এড এজেন্সি “মেটাকানেক্ট” এ জুনিয়র সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার ও ভিজুয়াল ইন চার্জ পোস্ট এ দায়িত্বরত আছি। এছাড়া নিজের ফটোগ্রাফী ফার্ম “ফটোগ্রাফী বাই কাজী মুশফিক“ নিয়েও কাজ করছি।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎপরিকল্পনাকি?
কাজী মুশফিক: বেশী দূরের চিন্তা করিনাই। তবে হ্যা পুরো পৃথিবী একবার হলেও ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
কাজী মুশফিক: অবশ্যই এমন একটা জায়গায় যেখানে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা যায় সকলের কাছে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
কাজী মুশফিক: পাপা-আম্মু । কারণ বলে শেষ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
কাজী মুশফিক: ফটোগ্রাফী, ক্রিকেট, ট্রাভেল আর হ্যা অবশ্যই খাওয়া দাওয়া। কারণ তো জানিনা। ভাল লাগে তাই । হেহে

প্রশ্নঃ কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন? ফটোগ্রাফির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা কতটুকু দরকার?
কাজী মুশফিক: আলিয়াস ফ্রসেস এ ২০১১ তে একটা শর্ট কোর্স করসিলাম। প্রথম বারের মত হোয়াইট কার্ড রিডিং, এক্সপোজার নেওয়ার অনুভুতি অন্যরকম ছিল। আমি আসলে ফটোগ্রাফির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা জরুরি কিনা বলতে পারি না। হয়তবা জরুরি আবার নাও হতে পারে। ইদানিং অনলাইন এই অনেক কিছু শিখা যায়। ইচ্ছা থাকলে প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা না নিয়েও ভাল কিছু করা সম্ভব।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
কাজী মুশফিক: সবসময় ইচ্ছা ছিল নিজের কিছু করার। তাই ফটোগ্রাফার হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে আগে ওরকম কাজ করিনাই। তবে হ্যা ফ্রীল্যান্স করেছি অনেক।

প্রশ্নঃ পেশাগত জীবনে নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
কাজী মুশফিক: জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে বলি মনে মনে বলি আল্লাহ ভরসা, যা হয় ভালর জন্যি হয়। নেতিবাচক নিয়ে পড়ে না থেকে সামনের দিকে ভাবী সবসময়। সুফল আসে।

প্রশ্নঃ নিজের দেশের বাইরেও আপনার অনেক ভক্ত রয়েছেন, যারা আপনার ছবি মুগ্ধ নয়নে দেখে। কেমন অনুভব হয় তখন?
কাজী মুশফিক: হাহা। তাইনাকি? হ্যা ফ্লিকার বা অন্য কোন সোসাল প্লাটফর্ম এ ভাল ফিডব্যাক পেলে খুশি হই।

প্রশ্নঃ প্রথম পুরষ্কার পাবার পরের গল্পটা কি ছিল? কেমন অনুভুতি ছিল সেসময়ে?
কাজী মুশফিক: অসাধরণ। মনে রাখার মত দিন ছিল।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন।
কাজী মুশফিক: আমার মনে হয় আমাদের নিজেদের বদলানো দরকার। চেঞ্জ ইউরসেলফ ওয়ারল্ড উইল ফলো ইউ

প্রশ্নঃ খেলাধুলা করেন? পছন্দের খেলয়ার কে?
কাজী মুশফিক: এখন আর সময় পাইনা। আগে ক্রিকেট খেলতাম। পছন্দের খেলোয়াড় অনেকেই। মোহাম্মাদ আশরাফুল, শচীন তেন্ডুল্কার, এবিডিবিলিয়ার্স।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
কাজী মুশফিক: কাছের মানুষদের সাথে সময় কাটাই।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
কাজী মুশফিক: যেকোন দর্শনীয় যায়গাতেই ঘুরতে ভাল লাগে। সাধারণত বাবা-মা বা কাছের বন্ধুদের সাথেই ঘুরতে যাওয়া হয়।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
কাজী মুশফিক: মিথ্যা কথা বলা।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
কাজী মুশফিক: এখনও জানিনা

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ
কাজী মুশফিক: নীল

প্রশ্নঃ পছন্দের খাবার ও পানীয়
কাজী মুশফিক: লিস্ট টা অনেক বড় । হাহা

প্রশ্নঃ পছন্দের পোশাক
কাজী মুশফিক: পাঞ্জাবী

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ
কাজী মুশফিক: নেট এ অনেক অনেক ছবি দেখ এবং অনেক অনেক ছবি তুলো। গিয়ার এর পিছে না দৌড়ায়ে ছবির পিছে দৌড়াতে হবে। চেষ্টা থাকলে সাফল্য আসবেই। আর হ্যা সবসময় মাথায় রাখবা ঈউ আর ঈউর কান্ট্রি । সো এক্ট লাইক দ্যাট। অনেক ফাউ উপদেশ দিয়ে ফেললাম। নিজেকে এবার একটু জ্ঞানী লাগতিসে। হেহে

Photo
© কাজী মুশফিক

Bangladeshi Wedding Photographer

আনিলা মায়োশি

একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণদের উপরে। তারা যদি এগিয়ে যায়, তাহলে সে দেশের ভবিষ্যৎ যে উজ্জ্বল, তা বলা যায় কোনকিছু না ভেবেই। আর এরকম তরুণদের মাঝে যদি উদ্দ্যোক্তা থাকে, তাহলে উজ্জ্বলতম ভবিষ্যৎটা যে শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। ১৮ পেরনোর আগে তাকে শিশুই ধরা হয়। কিন্তু এ ১৮ পেরোনোর আগেই কেও যদি নিজেকে নিয়ে যায় অনন্য এক উচ্চতায়, কি বলবেন তাকে? এমনই একজন আনিলা মায়োশি। যিনি কাজ করছেন একজন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার হিসাবে। বৃষ্টিস্নাত এক সন্ধায় আনিলা মায়োশি কথা বললেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক নওরীন মেহনাজ বর্ষার সাথে। সে আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

প্রশ্নঃ ফ্যাশন হাউজ নিয়ে কিছু বলুন। কেন নিজেকে এখানে নিয়ে এলেন?
আনিলা মায়োশি: ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনার মত বয়স এখনো আমার হয় নি, আমার বয়স কেবল ১৮, ছোট বেলা থেকেই মাকে দেখে শেখার মধ্য দিয়ে আমার এ জগতে প্রবেশ। মাকে দেখেই মনে ইচ্ছে জাগে একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হবার। তারপরই অনলাইন পর্যায়ে আমি মা’র ব্যবসাটাকে নিয়ে আসি।

ভিবজিওর এ ফ্যাশন বুথ। এটি অনলাইন ফ্যাশন হাউজ। রংধনু এর ৭ রঙ যার শুরু লাল থেকে বেগুনী পর্যন্ত। এই রঙ এর ধারাবাহিকতা মনে রাখার জন্য রঙ এর প্রথম অক্ষর দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে ভিবজিওর হয়। এভাবেই VIBGYOR শব্দটি দাঁড়ায় v- violet , i – indigo ,b – blue , g- green . y- yellow , o- orange . r- red – । ৭ রঙের সমারহ এই ভিবজিওর এ।
অনলাইনে ভালভাবে শুরু করার পর আমি মায়ের সাহায্যে ডিজাইন করতে শুরু করি, ফটোশুট এর উদ্যোগ নেই, পুরো অনলাইনে তা পাব্লিসিটি করি এবং তা ক্রমশ খুব পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পায়। যা ছিল আমার জন্য অনেক বড় এক অনুপ্রেরণা।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
আনিলা মায়োশি: আমাদের ডিজাইনগুলো যখন খুব জনপ্রিয়তা পেল তখন ধীরে ধীরে আমাদের ডিজাইনের রেপ্লিকা করা শুরু হল। আমার আইডিয়া কে নকল করে ছড়িয়ে দিল সব জায়গায়, যা আমার জীবনে প্রথম প্রতিবন্ধকতা। খুব ভেঙ্গে পরেছিলাম। মা বোঝানোর পর নিজেকে সামলে নিলাম।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা কি?
আনিলা মায়োশি: আমি বর্তমানে ভিবজিওর এ ফ্যাশন ডিজাইন করি। অনলাইন প্রমোশন্‌, ম্যানেজমেন্ট, ফটোশুট, ইভেন্ট, র‍্যাম্প করানো ইত্যাদি আমি দেখাশুনা করি। ভিবজিওর এর অনেক ফ্যান ফলোয়ারস আমার আর মার অনেক সাধনার পর ভিবজিওর আজ এই অবস্থানে।
আমি পরাশুনা ও ফ্যাশান হাউজ এ কাজ করার পাশাপাশি ফটোগ্রাফিও করে থাকি, তার পাশাপাশি আমি একজন মেহেদি আর্টিস্ট।

ফটোগ্রাফি এর সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে আমাকে সামি আব্দুল ওয়াহেদ ভাইয়া যার ছিল আমার প্রতি অগাধ বিশ্বাস। তারপর আমি স্যার প্রিত রেযার কাছে কোর্স করি এবং ওনার কিছু ওয়ার্কশপে অংশ নিয়েছি। ইতিমধ%

ফিরোজ আল সাবাহ

Firoz Al Sabah
ফিরোজ আল সাবাহ এর এ ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রি নাজমুল হাসান

ফিরোজ আল সাবাহ ১৯৯০ সালে জন্ম নিয়েছেন এ দেশের পাখিদের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে। পেয়েছেন “DUPS National Photography Festival” এ প্রথম পুরষ্কার। এছাড়াও অর্জন করেছেন আরও বেশ কয়েকটি পুরষ্কার। প্রায় পনেরটি প্রদর্শনী স্থান পায় তার অসাধারণ সব ছবি। লেখালেখি করেন বাংলার পাখি ম্যগাজিনে। তিনটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে “National Geographic Birdwatch Magazine” এ। প্রেস বাংলাদেশের সাথে এক আড্ডায় তিনি জানিয়েছেন অনেক কথাই। সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। পাঠকদের জন্য নির্বাচিত অংশ।

Blue-tailed bee-eater
নীল লেজ সুইচোরা
ছবিঃ ফিরোজ আল সাবাহ

প্রশ্নঃ কতদিন হল ফটোগ্রাফি শুরু করেছেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: 5 বছর

প্রশ্নঃ শুরু করার পেছনের কারণ?
ফিরোজ আল সাবাহ: ছোট বেলা থেকেই ক্যামেরার প্রতি ভালবাসা ছিল। ছোট বেলায় ফিল্ম ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতাম। ২০১১ সালে ডিএসএলআর কেনার পর থেকে মুলত ফটোগ্রাফি শুরু হয়। পাখিদের প্রতি ভালোবাসা থেকে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি শুরু।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে প্রাতিশঠাকনিক শিক্ষা?
ফিরোজ আল সাবাহ: নেই।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
ফিরোজ আল সাবাহ: বর্তমান মহাবিপন্ন মদনটাক/Lesser Adjutant ও শেখ ফরিদ/Black Frankolin নিয়ে কনজারভেশন ও ডকুমেনটারি তৈরি করছি। আই ইউ সি এন এ “White rumped Vulture conservation project” নিয়ে ব্যস্ত।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফিরোজ আল সাবাহ: ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে কাজ করা। বাংলাদেশের পাখিদের মানসম্পন্ন ফটোগ্রাফিক একটি ডাটাবেজ তৈরি করা।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ
ফিরোজ আল সাবাহ: “Never give up”

প্রশ্নঃ বন্যপ্রাণী সংরক্ষনে বিশেষ করে বিল্পুপ্ত প্রায় প্রানীদের জন্য আপনার মতে কি কি করা উচিৎ?
ফিরোজ আল সাবাহ: জনগণের মাঝে ব্যাপক গনসচেতনতা , বন্যপ্রাণী পরিবেশ এর ভারসাম্য বজায় রাখতে কি কি ভুমিকা পালন করে তা বোঝানো । শিকারীদের প্রতিহত করা । সরকারকে আরো আগ্রহী হতে হবে।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
ফিরোজ আল সাবাহ: একজন সফল ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই, পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষন নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: অনেক যেমন পারিবারিক যদিও এখন আর সমস্যা নেই , আর্থিক । ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফির বাজার আমাদের দেশে নেই বললেই চলে । তাই এটিকে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছে থাকেলও উপায় নেই।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
ফিরোজ আল সাবাহ: যা আয় হয়, তার চেয়ে ছবি তোলায় ব্যয় অনেক বেশি। বন জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো, রাত কাটানো, বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: IUCN ও বন বিভাগ।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
ফিরোজ আল সাবাহ: এখন পর্যন্ত ভাল। চেষ্টা করব এটাকে ধরে রাখতে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: টিম ল্যেমান (ইউ এস এ)

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: ছবি তোলা, বই পড়া, ট্রাভেল করা, মুভি দেখা। কারণ এইসব থেকে আমি সবচেয়ে বেশি শিক্ষা নিতে পাড়ি জীবন সম্পর্কে।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: অল্পে রেগে যাই, খুব বেশী অলস। এইসব আমার কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
ফিরোজ আল সাবাহ: মুভি দেখি বই পড়ি।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: জঙ্গলে, পছন্দের কিছু ওয়াইল্ডমেট এর সাথে।

প্রশ্নঃ পছন্দের খাবার?
ফিরোজ আল সাবাহ: মায়ের হাতের আলু ভর্তা।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
ফিরোজ আল সাবাহ: অহংকার।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান? কেন ভয় পান?
ফিরোজ আল সাবাহ: মানুষ দেখে, কারণ পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে আর হিংস্র প্রাণী নেই।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
ফিরোজ আল সাবাহ: বলে ফেললে সবাই জেনে ফেলবে।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
ফিরোজ আল সাবাহ: বলে ফেললে তো আর লুকানো থাকবেনা।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত ও কষ্টের মুহুর্ত কি ছিল?
ফিরোজ আল সাবাহ: মা যখন হাসেন।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
ফিরোজ আল সাবাহ: কিছু কথা থাক না গুপনে গুপনে।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
ফিরোজ আল সাবাহ: আসেন কানে কানে বলি।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: গাল গাদত(ইসরায়েল)

প্রশ্নঃ কি দেখলে সবচেয়ে বেশি রেগে যান?
ফিরোজ আল সাবাহ: পাখি শিকার।

প্রশ্নঃ কেমন দুষ্ট ছিলেন ছোটবেলায়?
ফিরোজ আল সাবাহ: খুব বেশি।

প্রশ্নঃ বাথরুমে সাধারণত কি ধরনের গান গেয়ে থাকেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: ইদানিং “আমাকে আমার মত থাকে দাও” গাই। এই ধরনের গান আর কি।

প্রশ্নঃ চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে কার বিপরীতে অভিনয় করার ইচ্ছা?
ফিরোজ আল সাবাহ: গাল গাদত(ইসরায়েল)

প্রশ্নঃ ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা।
ফিরোজ আল সাবাহ: সামনে জন্মদিন আসছে। কেও চাইলে একটা ৮০০ মিমি লেন্স উপহার দিতে পারেন।

Bangladeshi Wedding Photographer

সৈয়দা সালমা

Salma
সৈয়দা সালমা

আমরা চাকরি করব না, আমরা চাকরি দেব, এ মন্ত্রেই উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশের অনেক তরুণ-তরুণী এখন নিজেরাই কিছু করার চেষ্টা করছে। কেও বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে ব্যান্ড গঠন করে এখন দেশ বিদেশে কনসার্ট করছে, আবার কেও ফটোগ্রাফি করে উপার্জন করছে। এমনও অনেকেই আছে, যারা সামান্য কিছু টাকা নিয়ে ব্যবসা করছে। তাদের কাছে টাকা নয়, তাদের বুদ্ধিমত্তাই আসল মূলধন। তবে শুরুতে অনেক বাধা-বিপত্তি আসে। কেননা আমরা সাধারণত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে দুটো পয়সা উপার্জন করাকেই নিরাপদ জীবন বলে ধরে নেই। এর বাইরে এশে কেউ কিছু চিন্তা করবে, এরকম লোক খুব কম আমাদের দেশে। কিন্তু এখন সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের ধ্যান ধারনাও। ঠিক এরকম একজন আশাবাদী মানুষ সৈয়দা সালমা যিনি সৃষ্টি করেছেন ড্রেস ডিলাইট যা বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এক নবদিগন্তের নাম। এ আশাবাদী মানুষটির সাথে এক আড্ডায় ছিলেন প্রেস বাংলাদেশের প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। তার সাথে তার স্বপ্ন ড্রেস ডিলাইট নিয়ে গল্প হয়, গল্প হয় আরও অনেক কিছুই নিয়ে। টার নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য-

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
সৈয়দা সালমা: দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চাই।

প্রশ্নঃ সবুজ পৃথিবী তৈরি করতে আপনার অভিমত
সৈয়দা সালমা: সুযোগ থাকলে গাছ লাগাতে হবে, বিদ্যুত ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে
আপনি মনে করেন।
সৈয়দা সালমা: মানুষের মৌলিক চাহিদা গুলো মিটাতে হবে।

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
সৈয়দা সালমা: যেখানে দেশের সবার মুখে হাসি থাকবে।কারো কোনো কষ্ট থাকবে না।

প্রশ্নঃ পোশাক তৈরির জন্য কি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন?
উত্তর: না। এই বিষয়ে আমি স্বশিক্ষিত। আমার গ্রেজুয়েশন ল তে।

প্রশ্নঃ ড্রেস ডিলাইট শুরু করার পেছনের কারণ?
সৈয়দা সালমা: সবার মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়া।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
সৈয়দা সালমা: বলার বাইরে।

প্রশ্নঃ ড্রেস ডিলাইট নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
সৈয়দা সালমা: দেশ ও বিদেশের মাটিতে ড্রেস ডিলাইটকে নিয়ে যাওয়া।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
সৈয়দা সালমা: সবার সাথে সবার মাঝে।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
সৈয়দা সালমা: অনেক, তবে আমার পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় সব পার হতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
সৈয়দা সালমা: ধৈর্য ধারন করি। কাউকে কষ্ট না দেয়ার চেষ্টা করি।

প্রশ্নঃ শুরুতে মূলধন কি ছিল?
সৈয়দা সালমা: ৫ হাজার টাকা।

প্রশ্নঃ কিরকম আয় হচ্ছে?
সৈয়দা সালমা: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
সৈয়দা সালমা: আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
উত্তর: হেলেন কিলার, উনি দৃষ্টি ও বাক প্রতিবন্ধী হয়েও মানুষের জন্য অনেক ভাবতেন এবং অনেক কিছু করেছেন, আমি সুস্থ থেকে কেন কিছু করতে পারব না?

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
সৈয়দা সালমা: অবশ্যই পোশাক, সাজগোজ, ভ্রমন, ফুটবল এবং ক্রিকেট।
অন্যান্য প্রশ্ন

প্রশ্নঃ এমন কিছু আছে যার প্রতি বিশেষ ধুর্বলতা এবং কেন?
সৈয়দা সালমা: পার্সিমন ফল এবং পেয়ারা, কোনো কারণ ছাড়াই।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা কি কি এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
সৈয়দা সালমা: কঠোর হতে পারি না। জীবনে কঠোর হওয়ারও দরকার হয়।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
সৈয়দা সালমা: গান শুনি, বেড়াতে যাই , সিনেমা বা টেলিভিশন দেখি।

প্রশ্নঃ খেলাধুলা করেন?
সৈয়দা সালমা: অল্প, সময় সুযোগ পেলে।

প্রশ্নঃ নিজেকে এতটা ফিট রেখেছেন, কিভাবে তা সম্ভব?
উত্তর: পরিমিত আহার এবং পরিশ্রম।

প্রশ্নঃ মেকাপ ছাড়া ফটোশুট এর অফার পেলে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: কে ছবি তুলবে তার উপর নির্ভর করবে।

প্রশ্নঃ সেলফি তোলার সময়ে সাধারনত মুখ কোন দিকে বাকা করেন?
সৈয়দা সালমা: নির্দিষ্ট কোনো দিক নেই। ছবি তোলার সময় আমি সবসময়ই হাসতে থাকি।

প্রশ্নঃ আচমকা কোন বিপদে পড়লে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: ধৈর্য্য ধরব এবং পরিচিত জনদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ বা সাহায্য চাবো।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
সৈয়দা সালমা: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরা পরিবেশ ভালো লাগে। সব সময়ই আমার বন্ধুদের এবং পরিবারের সাথে ঘুরতে ভালো লাগে।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
সৈয়দা সালমা: মানুষ ঠকানো, মিথ্যা কথা, প্রতারণা এসব।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
সৈয়দা সালমা: আমি ভুতের সিনেমা দেখি এবং পরে অসম্ভব ভয় পাই।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
সৈয়দা সালমা: সব কিছুই কেউ না কেউ জানে।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
সৈয়দা সালমা: নেই।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
সৈয়দা সালমা: যখন আমার ইয়ানার জন্ম হয়। সম্ভবত যখন ব্রাজিল জার্মানির কাছে ওয়ার্ল্ড কাপে হারে। অনেক কেদেছিলাম ঐদিন।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
সৈয়দা সালমা: যাকে ভালোবাসি তার সাথে।

প্রশ্নঃ এমন কেও আছে, যাকে বিয়ে করতে পারেন নি বলে কেদেছিলেন? নীরবে ফেলেছিলেন চোখের পানি?
সৈয়দা সালমা: না।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
সৈয়দা সালমা: ঋত্তিক রোশান। পেশীর ভাজগুলো দেখেছেন?

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
সৈয়দা সালমা: অনন্ত জলিল, কারণ উনি ভেরি ভেরি স্মার্ট।

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
সৈয়দা সালমা: দই ফুচকা।

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
সৈয়দা সালমা: সব রংই পছন্দ তবে নীল্ ও কালো রং বেশি ভালো লাগে।

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
সৈয়দা সালমা: বার বার সেলফি তুলা।

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: জনকল্যানমূলক কিছু করব।

প্রশ্নঃ পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: প্রেম করব, কারণ আমার জীবনে একজনই প্রেমিক এবং সেই আমার লাইফ পার্টনার।

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
সৈয়দা সালমা: সেলফি তুলা, সেলফি তুলা, সেলফি তুলা, সেলফি তুলা এবং সেলফি তুলা।

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
উত্তর: সবচেয়ে বেশি ভয় পাই কপিবাজদের যারা আমার ডিজাইন কপি করে।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ
উত্তর: ধৈর্য্য। এর কোনো বিকল্প নাই।

dress
সৈয়দা সালমার নকশা করা পোশাকে মডেল সাদিয়া আফরোজ ও আনুশকা রহমান

Bangladeshi Wedding Photographer

আটিলা ফ্রিচয

Photographer
আটিলা ফ্রিচয

আটিলা ফ্রিচয ইন্দোনেশিয়ার স্বনামধন্য ফ্যাশন ফটোগ্রাফার। অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরষ্কার। প্রকাশিত হয়েছে তার ছবি নামকরা সব ফ্যাশন ম্যাগাজিনে। তিনি তৈরি করেছেন “Women’s Portraits Only“। প্রেস বাংলাদেশকে তিনি দিয়েছেন কিছু সময়। জনিয়েছেন কিছু কথা। সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

Fashion Portrait
সমুদ্র সৈকতে তোলা আটিলা ফ্রিচয এর অসাধারণ একটি পোরট্রেইট

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফার হবার পেছনে রহস্য।
আটিলা ফ্রিচযঃ আমার সব অসাধারণ বন্ধু। যারা আমাকে সহযোগিতা করেছে

প্রশ্নঃ ফ্যাশন ফটোগ্রাফার হবার পেছনে রহস্য।
আটিলা ফ্রিচযঃ সুন্দরী রমনী।

প্রশ্নঃ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন ফটোগ্রাফি শেখার জন্য?
আটিলা ফ্রিচযঃ সেরকম নয়। অনেকটা নিজে থেকেই শেখা।

প্রশ্নঃ আপনার আদর্শ কে?
আটিলা ফ্রিচযঃ এরিখ ক্যাপারাস ও ডিনো এরোসা

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আটিলা ফ্রিচযঃ স্টক ফটো এজেন্সি তৈরি করা যেখানে একজন ফটোগ্রাফার ভাল মুল্যে তার ছবি বিক্রি করতে পারবে। বর্তমানে যেগুলো আছে, সেগুলো ফটোগ্রাফারদের শোষণ করে। খুব সামান্য পরিমাণ টাকা দেয়।

প্রশ্নঃ একটি ভাল ছবির জন্য দরকার মডেলদের সাথে সখ্যতা। আর এটি কিভাবে তৈরি করতে পাড়েন?
আটিলা ফ্রিচযঃ আমি তাদের ভালবাসি এবং তারা আমায় ভালবাসে। এভাবেই মডেলদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়, যা আমাকে একটি ভাল ছবি উপহার দেয়।

প্রশ্নঃ একটি সুন্দর ছবির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন জিনিস কোনটি বলে আপনার ধারণা?
আটিলা ফ্রিচযঃ সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হচ্ছে, তাদের হাসি। এটি আপনাকে বের করে আনতে হবে।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কবে আসছেন?
আটিলা ফ্রিচযঃ বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দর একটি দেশ। বিশেষ করে এর প্রাকৃতিক দৃশ্য যা আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করে। চেষ্টা করব, অতি শীঘ্রই এ সুন্দর দেশটি ভ্রমন করব।

Fashion Portrait
আটিলা ফ্রিচয এর তোলা অসাধারণ একটি পোরট্রেইট
Fashion Portrait
আটিলা ফ্রিচয এর তোলা অসাধারণ একটি পোরট্রেইট