Photographer

গল্পটা ফাইজা, তার তৃতীয় চোখ আর হাতের

Bangladeshi Wedding Photographer

Photographer
ফাইজা ইসলাম

ফটোগ্রাফি করতে যে ইচ্ছা লাগে ডিএসএলআর না“, ঠিক এমনটাই বিশ্বাস করেন, আলোকচিত্রি ফাইজা ইসলাম। সেই ২০০৯ এ শুরু হয়েছিল, তার যাত্রা, একটা ৯.৫ মেগার ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে। তখন তিনি স্কুলে পরতেন। শুরুর দিকে তুলতেন কন্সেপ্টচুয়াল এবং সেলফ প্রোট্রেট। আর এ কারণে পাশের বাড়ির পিচ্চি বা নিজের ভাইবোনকেই মডেল বানিয়ে তুলে আনতেন কন্সেপ্টচুয়াল ছবিগুলো। আবার কখনওবা টাইমার সেট করে নিজেই দাড়িয়ে যেতেন ক্যামেরার সামনে!

Fashion Portrait
© ফাইজা ইসলাম

বর্তমানে একজন ফ্যাশন ফটোগ্রাফারের সাথে কো-ফোটগ্রাফার হিসাবে কাজ করছেন তিনি।

তবে, তিনি যে শুধু ছবি তোলেন, তা কিন্তু নয়, পাশাপাশি তিনি ছবি আঁকেনও। আর তাই আর ইচ্ছা, আর্ট এবং ফটোগ্রাফিকে একসাথে নিয়ে নতুন কিছু করতে।

একজন নারী হিসাবে এ পেশায় কোন বাধা বিপত্তি আসে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানালেন, আপনি যদি মনে করেন, আপনি নারী, আপনি অবলা, তাহলে আর সামনে এগিয়ে যেতে পারবেন না। সামনে এগিয়ে যেতে চাইলে, নিজেকে একজন মানুষ মনে করতে হবে। মনে করতে হবে, পৃথিবীকে সাম্নের দিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য, যাদের উপরে রয়েছে দায়িত্ব, আমি তাদেরই একজন।

ফাইজা তার মনোমুগ্ধকর ছবি দিয়ে অর্জন করেছেন বেশ কিছু পুরষ্কার এবং তার বেশ কয়েকটি ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।

Fine art Photography
© ফাইজা ইসলাম
FIne art photography
© ফাইজা ইসলাম
Conceptual Photography
© ফাইজা ইসলাম
Fine art Photo
© ফাইজা ইসলাম
Painting
ফাইজা ইসলাম
Painting
ফাইজা ইসলাম
Lopamudra Talukdar

লোপামুদ্রা তালুকদারের বিশ্বজয়

Lopamudra Talukdar
লোপামুদ্রা তালুকদার

বাঙালী রমণী তাকে মানায় রান্না ঘরে উনুনের পাশে অথবা উঠোনের কোণায় ধান মাড়াচ্ছে। স্বামীর ঘর করবে এইতো। কিন্তু এভাবে আর কতকাল নিজেদের ঘরে বন্দি করে রাখবে তারা নিজেদের? এক সময়ে তারা জেগে উঠলো। তারাও শুরু করলো নিজেদের যাত্রা। ঘর থেকে বের হলো। চাকরি, ব্যবসা ইত্যাদি। অনেকেই নিজেদের আর একটু এগিয়ে নিয়ে নিজেদের চিনিয়েছেন ভিন্নভাবে। কেও হাতে নিয়েছেন রঙ তুলি আবার কেও বা হারমোনিয়াম। কিন্তু তাই বলে ক্যামেরা গলায় ঝুলিয়ে বনে বাদারে ঘুরে বেড়াবে একজন রমণী? এ সমাজ সেই নারীকে কিভাবে মেনে নেবে? জাত গেল, সমাজ গেল, এরকম আরও কত কি? কিন্তু তাই বলে তারা বসে থাকবেন? কেন তারা বঞ্চিত হবেন, ক্যামেরা দিয়ে বিশ্বকে দেখার? সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাঈদা খানম সহ আরও অনেক নারীই বেরিয়ে পড়লেন ক্যামেরা হাতে নিয়ে বিশ্ব জয় করতে। সাঈদা খানমদের দেখানো সে পথে হেটেছেন আজকের নারীরা। এরকম একজন বাঙালী রমণী লোপামুদ্রা তালুকদার। জনপ্রিয় এ আলোকচিত্রি এবার মুখোমুখি হলেন প্রেস বাংলাদেশের। সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

Dream
স্বপ্ন

প্রশ্নঃ আপনি একজন অসাধারণ ফটোর। নিজেকে একজন সফল ফটোগ্রাফার হিসাবে কিভাবে গড়ে তুলেছেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ আমি নিজেকে একজন অসাধারণ নই সাধারণ ফটোগ্রাফার হিসাবেই গণ্য করি। ২০১০ সালে আমার ছবি তোলায় হাতে খড়ি। ওই বছর ইউরোপের অনেকগুলো দেশে যাওয়ার সুযোগ হওয়ায় প্রথম স্ট্রিট ফটোগ্রাফির স্বাদ পাই। বিভিন্ন ডিজিটাল ফোরামে ছবি শেয়ার করার মাধ্যমে পজিটিভ ফিডব্যাক পেতে শুরু করি। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ছবি পাঠিয়ে আশাতীত সাফল্য পাই, উৎসাহিত হই। এরপর ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজেকে নিজেই শিক্ষিত করি। আমার মনে হয় ভালো ছবি তুলতে হলে ভালো ছবি দেখা, বোঝা, পর্যালোচনা করা ভীষন জরুরি।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা কি?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ এই মুহূর্তে বিভিন্ন ধরনের ডকুমেন্টারি ছবি তুলছি তবে ফোটো স্টোরি করাতেই আমার বেশি আগ্রহ।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ অনেকের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি তবে আলাদা করে কাউকে আদর্শ মনে করি না। আমার মনে হয় আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কিছু শেখার আছে।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ ফটোগ্রাফির বাইরে সবচেয়ে পছন্দের বিষয় ভ্রমণ। কয়েক মাস বাইরে না গেলেই মন খারাপ হয়ে যায়। নতুন দেশ দেখতে, সেখানকার সংস্কৃতির সঙ্গে মানুষজনের সঙ্গে পরিচিত হতে ভালো লাগে।

Potatso National Park, China
পটাতশ ন্যাশনাল পার্ক, চীন

প্রশ্নঃ কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন? ফটোগ্রাফির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা কতটুকু দরকার?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ আমার সেই অর্থে ফটোগ্রাফিতে কোনো প্রথাগত শিক্ষা নেই। যতটুকু শিখেছি তার অনেকটাই ইন্টারনেট থেকে। এটা ডিজিটাল যুগের এক বিশাল সুবিধা বলে আমার মনে হয়। সিনিয়রদের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ পেয়েছি।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ বাংলা এবং ইংরেজি একাধিক জনপ্রিয় ম্যাগাজিনের হয়ে ফোটো ফিচার করেছি।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ কাজ করতে গেলে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতেই হয়, আমিও তার ব্যতিক্রম নই। উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে তা সামলেও নিয়েছি।

প্রশ্নঃ পেশাগত জীবনে নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ নেতিবাচক কিছুর সম্মুখীন হলে সবসময় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে তা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি।

প্রশ্নঃ নিজের দেশের বাইরেও আপনার অনেক ভক্ত রয়েছেন, যারা আপনার ছবি মুগ্ধ নয়নে দেখে। কেমন অনভব হয় তখন?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ একজন আলোকচিত্র শিল্পী হিসাবে প্রশংসিত হতে, তা দেশে হোক বা বিদেশে, ভালোই লাগে। সবসময় চেষ্টা থাকে নিজের দেশ সম্পর্কে একটা ইতিবাচক চিত্র যাতে তুলে ধরতে পারি।

প্রশ্নঃ প্রথম পুরষ্কার পাবার পরের গল্পটা কি ছিল? কেমন অনুভুতি ছিল সে সময়ে?
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ ছবি তুলতে শুরু করার এক বছরের মধ্যেই একটি প্রেসটিজিয়াস আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণ পুরস্কার পাই। এটা সেই সময় আমার কাছে আশাতীত ছিল। তবে উৎসাহিতও হয়েছিলাম ফোটোগ্রাফিকে পেশা হিসাবে বেছে নেওয়ার জন্য।

প্রশ্নঃ নতুন ফটগ্রাফারদের জন্য কিছু পরামর্শ।
লোপামুদ্রা তালুকদারঃ ভালো ছবি দেখ, ছবি নিয়ে আলোচনা করো। নিজের উপর অনাবশ্যক চাপ দিও না। অল্পে হাল ছেড়ে দিও না। প্রতেকদিন কারো ভালো ছবি হয় না। নিজের ছবির নিজেই কডা বিচারক হও।

River
নদী

ওয়েব সাইটঃ www.lopamudratalukdar.com

Press Bangladesh

রেজাউল হাফিয রাহী

Wild life Photographer
রেজাউল হাফিয রাহী

নিতান্তই শখের বশে তিনি পাখির ছবি তোলা শুরু করেছিলেন ২০১০ এর দিকে। আজ তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন সফল বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রি হিসাবে। বন-বাদারে ঘুরে বেড়ান তিনি পাখির সন্ধানে। আর সন্ধান পেলেই ক্যামেরার শাঁটার বাটনে আঙ্গুল চাপতে মোটেও দেরী হয় না। কেননা পাখীত আর অপেক্ষা করবে না কারও জন্য। শুধু যে তিনি পাখির ছবি তোলেন, টা নয়। কাজ করেন পাখী সংরক্ষণ ও রক্ষণা-বেক্ষনের জন্য। বিপন্নপ্রায় পাখিদের প্রজনন ও নিরাপদ আবাসের জন্যও তিনি নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। বন্দি খাঁচা থেকে মুক্ত করে ছেড়ে দিয়েছেন কত শত পাখিকে। পাখির প্রতি মমতাময়ী এ আলোকচিত্রির সাথে কথা হয়েছে প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবালের। সে আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

egret
বক

প্রশ্নঃ কতদিন হল ফটোগ্রাফি শুরু করেছেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: ৬ বছর

প্রশ্নঃ শুরু করার পেছনের কারণ?
রেজাউল হাফিয রাহী: পাখিদের প্রতি ভালবাসা থেকেই ফটোগ্রাফি তে আসা হয় । এছাড়াও ক্যামেরা খুব প্রিয় ছিল

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে প্রাতিশঠাকনিক শিক্ষা?
রেজাউল হাফিয রাহী: কোন প্রাতিস্থানিক শিক্ষা নেই । ইন্টারনেট , বইপত্র থেকেই শেখা

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
রেজাউল হাফিয রাহী: ব্যবসা , ঠাকুরগাঁও ইলেক্ট্রনিক্স এর স্বত্তাধীকারি

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রেজাউল হাফিয রাহী: ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে কাজ করার ব্যপক আগ্রহ আছে

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ
রেজাউল হাফিয রাহী: যাই করো পাখি পরিবেশের দিকে একটু খেয়াল রেখো

প্রশ্নঃ বন্যপ্রাণী সংরক্ষনে বিশেষ করে বিল্পুপ্ত প্রায় প্রানীদের জন্য আপনার মতে কি কি করা উচিৎ?
রেজাউল হাফিয রাহী: ব্যপক গণসচেতনতা তৈরী করতে হবে । শিক্ষিত মহল কে এগিয়ে আসতে হবে । এ ছাড়া বন বিভাগ কে এগিয়ে আসতে হবে

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
রেজাউল হাফিয রাহী: নিজেকে অনেক অনেক পাখির মাঝে দেখতে চাই

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: ব্যবসার কারনে পাখির ছবি তোলার জন্য সময়ের খুব অভাব । ছুটির দিনে বা ব্যাস্ততার ফাকে সময় বের করে যা তুলি আর কি ।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
রেজাউল হাফিয রাহী: ফটোগ্রাফি নিতান্তই শখের বশে । কোন আয় নেই

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: পুরো উত্তরবঙ্গ । কক্সবাজার , বান্দরবন নেপাল যাওয়া হয় মাঝে মধ্যে ব্যবসার কাজে সেখানে টুকটাক ছবি তোলা হয়

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
রেজাউল হাফিয রাহী: অনেক ভালো । এর মাধ্যমে অনেকের মধ্যে প্রক্রিতি প্রেম জাগাতে পেরেছি । আমার ভাই ব্রাদার আমাকে পাখি ভাই বলে ডাকে , খুব ভালো লাগে শুনতে ।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: কয়েকজনকে গুরু মানি যেমন দীপন দা , লিটু ভাই , আবু বকর সিদ্দিক ভাই আর খুব কাছের ছোট ভাই ফিরোজ আল সাবাহ

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি । এটি আমার মনকে তৃপ্ত করে ও শান্তি আনে

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: আমার কোন দুর্বলতা নাই এটা জানি এবং মানি ।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
রেজাউল হাফিয রাহী: অবসর বলতে জীবনে কিছু নাই । ৬ দিন ব্যবসাপাতি পরিবার আর একদিন ছবি তুলে বেড়াই

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: বনে জঙ্গলে । আমার মত কএকজন পাখি প্রেমিক সাবাহ, আবু বকর ভাই ,এমদাদ ভাই

প্রশ্নঃ পছন্দের খাবার?
রেজাউল হাফিয রাহী: আজ পর্যন্ত পছন্দের কোন খাবার পেলাম না মাছ ভাত হলে ভাল হয়

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
রেজাউল হাফিয রাহী: ভালো ক্যামেরা ও লেন্সের দাম মাথার উপ্রে দিয়া যায়

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান? কেন ভয় পান?
রেজাউল হাফিয রাহী: কুকুর দেখে ভয় পাই 😛 কারন কুকুরের কামর খাইনাই

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত ও কষ্টের মুহুর্ত কি ছিল?
রেজাউল হাফিয রাহী: একটা বড় অপারেশন এর পর পরিবারের কাছে সুস্থ হয়ে ফিরে আশা ছিল সবচেয়ে আনন্দের আর বাবাকে হারানো ছিল সবচেয়ে কস্টের 🙁

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
রেজাউল হাফিয রাহী: ৫৫০ডি ও ১৮-৫৫ এম এম এর সাথে

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
রেজাউল হাফিয রাহী: ক্যানন ১০০-৪০০

প্রশ্নঃ কি দেখলে সবচেয়ে বেশি রেগে যান?
রেজাউল হাফিয রাহী: বেয়াদপ কুকুর দেখলে

প্রশ্নঃ কেমন দুষ্ট ছিলেন ছোটবেলায়?
রেজাউল হাফিয রাহী: এমনিতে দুস্ট ছিলাম না তবে একবার স্কুলে এক বান্ধবীর টিফিন ক্যারিয়ার এ ব্যাঙ রেখেছিলাম । কারন ছিল সে মিথ্যা বলে হাকিম স্যারের কাছে আমাকে মার খাওয়াতো

প্রশ্নঃ বাথরুমে সাধারণত কি ধরনের গান গেয়ে থাকেন?
রেজাউল হাফিয রাহী: বাথরুম এ গান গাই না শুনী

প্রশ্নঃ চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে কার বিপরীতে অভিনয় করার ইচ্ছা?
রেজাউল হাফিয রাহী: অনন্ত জলীল এর বিপরীতে 😀

প্রশ্নঃ ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা।
রেজাউল হাফিয রাহী: জানিনা আমার মত পাগলের কজন ভক্ত আছে আর যদি থেকেই থাকে , তবে আমার জন্য দোয়া করবেন যাতে আমি আরো ভালো কাজ করতে পারি । সবার জন্য শুভকামনা ।

Black-hooded Oriole
হলদে পাখি

Bangladeshi Wedding Photographer

Kazi Mushfiq

কাজী মুশফিক

Kazi Mushfiq
কাজী মুশফিক

অসাধারণ একটি ছবি দিয়ে একজন দর্শককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা যায়। তাকে নিয়ে যাওয়া যায় কল্পনার একটি জগতে। যেখানে তিনি বিচরণ করেন ঐ স্থানে। এন্সেল এডামস, স্টিভ ম্যাককারি, জি এম বি আকাশ এদের হাত ধরে তরুণরাও সে পথে উঠে আসছে। তারা রাখছে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর। এরকমই একজন বাংলাদেশী তরুণ কাজী মুশফিক হোসেন। সেলফোন ক্যামেরা দিয়ে যার শুরু হয়েছিল রহস্যময় এ জগতে যাত্রা। এরপর হাতে পান ক্যানন ই ওস ৫৫০ ডি ক্যামেরা। মূলত ট্রাভেল ও স্ট্রিট ফটোগ্রাফি করেন তিনি। সময় পেলেই ঘুরতে বেরিয়ে পড়েন সাথে তার প্রিয় ক্যামেরা।

Hanging Passenger
© কাজী মুশফিক

স্মৃতির পাতায় বিচরণ করে তিনি বলেন, “ছবি তোলার একদম আগের কথা। একবার এয়ারটেল একটা লাইক কন্টেস্ট আয়োজন করেছিল। ছবি ভাল থাকা সত্ত্বেও আমার ছবি এক্সিবিশনের জন্য নির্বাচিত হয়নি। এক্সিবিশনে যেয়ে মন খারাপ হয়েছিল। তখন একটা জেদ কাজ করেছিল। এমন একদিন আসবে আমার ছবি সবাই দেখবে। তখন ছোট ছিলাম । জেদটা কিন্তু বিফল এ যায়নাই। হাহা”

Photography
© কাজী মুশফিক

তার প্রথম পুরষ্কার ছিল পিউপ্ল’স চয়েস এওয়ার্ড ই ৩৬০ ফটোগ্রাফী কন্টেস্ট এ। স্মৃতির পাতায় আজীবন ধরে রাখার মত একটি মুহুর্ত সেটি।

তার অধিকাংশ ছবিতে ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স এর ব্যবহার দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এতে কম্পোজিশন নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করা যায়। তবে কাজটা বেশ কঠিন। তার আলোচিত অধিকাংশ ছবি গুলোতে তিনি ব্যবহার করেছেন ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স এবং এ ছবিগুলোর জন্য তিনি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও পুরষ্কার।

তার অর্জিত উল্লেখযোগ্য পুরষ্কারসমূহ হচ্ছে, হিউম্যানিটি ফটো ২০১৫ এর পারফরম্যান্স পুরষ্কার, সনি ওয়ার্ল্ড পুরস্কার এর বাংলাদেশ থেকে তৃতীয়, সেনোভেসন এর প্রথম পুরষ্কার। এছারাও তিনি আরও প্রায় দশটি পুরষ্কার পেয়েছেন।

Happiness
© কাজী মুশফিক

প্রতিশ্রুতিশীল এ তরুণ ফটোগ্রাফার এর সাথে ফটোগ্রাফারদের প্রাণের স্থান দৃক গ্যালেরিতে এক আড্ডায় ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। পাঠকদের কাছে তার নির্বাচিত অংশঃ

প্রশ্নঃ আপনি একজন অসাধারণ ফটোগ্রাফার। নিজেকে একজন সফল ফটোগ্রাফার হিসাবে কিভাবে গড়ে তুলেছেন?
কাজী মুশফিক: প্রথমেই বলে নেই আমি একজন সাধারণ মানুষ যে ছবি তুলতে অনেক ভালবাসে। এখনও নিজেকে ওই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারিনি। ২০১২ থেকে ছবি তোলা শুরু করি। এরপর যতটুকু অর্জন হয়েছে তা মহান আল্লাহর রহমত ও প্রিয় মানুষদের দোয়ায়।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্ম ব্যস্ততা কি?
কাজী মুশফিক: এইতো মাত্রই পাশ করলাম। বর্তমানে আমি একটি মাল্টিন্যাশনাল এড এজেন্সি “মেটাকানেক্ট” এ জুনিয়র সফটোয়ার ইঞ্জিনিয়ার ও ভিজুয়াল ইন চার্জ পোস্ট এ দায়িত্বরত আছি। এছাড়া নিজের ফটোগ্রাফী ফার্ম “ফটোগ্রাফী বাই কাজী মুশফিক“ নিয়েও কাজ করছি।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎপরিকল্পনাকি?
কাজী মুশফিক: বেশী দূরের চিন্তা করিনাই। তবে হ্যা পুরো পৃথিবী একবার হলেও ঘুরে দেখার ইচ্ছা আছে।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
কাজী মুশফিক: অবশ্যই এমন একটা জায়গায় যেখানে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা যায় সকলের কাছে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
কাজী মুশফিক: পাপা-আম্মু । কারণ বলে শেষ করা যাবে না।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
কাজী মুশফিক: ফটোগ্রাফী, ক্রিকেট, ট্রাভেল আর হ্যা অবশ্যই খাওয়া দাওয়া। কারণ তো জানিনা। ভাল লাগে তাই । হেহে

প্রশ্নঃ কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন? ফটোগ্রাফির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা কতটুকু দরকার?
কাজী মুশফিক: আলিয়াস ফ্রসেস এ ২০১১ তে একটা শর্ট কোর্স করসিলাম। প্রথম বারের মত হোয়াইট কার্ড রিডিং, এক্সপোজার নেওয়ার অনুভুতি অন্যরকম ছিল। আমি আসলে ফটোগ্রাফির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা জরুরি কিনা বলতে পারি না। হয়তবা জরুরি আবার নাও হতে পারে। ইদানিং অনলাইন এই অনেক কিছু শিখা যায়। ইচ্ছা থাকলে প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা না নিয়েও ভাল কিছু করা সম্ভব।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
কাজী মুশফিক: সবসময় ইচ্ছা ছিল নিজের কিছু করার। তাই ফটোগ্রাফার হিসেবে কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে আগে ওরকম কাজ করিনাই। তবে হ্যা ফ্রীল্যান্স করেছি অনেক।

প্রশ্নঃ পেশাগত জীবনে নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
কাজী মুশফিক: জোড়ে নিঃশ্বাস নিয়ে বলি মনে মনে বলি আল্লাহ ভরসা, যা হয় ভালর জন্যি হয়। নেতিবাচক নিয়ে পড়ে না থেকে সামনের দিকে ভাবী সবসময়। সুফল আসে।

প্রশ্নঃ নিজের দেশের বাইরেও আপনার অনেক ভক্ত রয়েছেন, যারা আপনার ছবি মুগ্ধ নয়নে দেখে। কেমন অনুভব হয় তখন?
কাজী মুশফিক: হাহা। তাইনাকি? হ্যা ফ্লিকার বা অন্য কোন সোসাল প্লাটফর্ম এ ভাল ফিডব্যাক পেলে খুশি হই।

প্রশ্নঃ প্রথম পুরষ্কার পাবার পরের গল্পটা কি ছিল? কেমন অনুভুতি ছিল সেসময়ে?
কাজী মুশফিক: অসাধরণ। মনে রাখার মত দিন ছিল।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন।
কাজী মুশফিক: আমার মনে হয় আমাদের নিজেদের বদলানো দরকার। চেঞ্জ ইউরসেলফ ওয়ারল্ড উইল ফলো ইউ

প্রশ্নঃ খেলাধুলা করেন? পছন্দের খেলয়ার কে?
কাজী মুশফিক: এখন আর সময় পাইনা। আগে ক্রিকেট খেলতাম। পছন্দের খেলোয়াড় অনেকেই। মোহাম্মাদ আশরাফুল, শচীন তেন্ডুল্কার, এবিডিবিলিয়ার্স।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
কাজী মুশফিক: কাছের মানুষদের সাথে সময় কাটাই।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
কাজী মুশফিক: যেকোন দর্শনীয় যায়গাতেই ঘুরতে ভাল লাগে। সাধারণত বাবা-মা বা কাছের বন্ধুদের সাথেই ঘুরতে যাওয়া হয়।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
কাজী মুশফিক: মিথ্যা কথা বলা।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
কাজী মুশফিক: এখনও জানিনা

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ
কাজী মুশফিক: নীল

প্রশ্নঃ পছন্দের খাবার ও পানীয়
কাজী মুশফিক: লিস্ট টা অনেক বড় । হাহা

প্রশ্নঃ পছন্দের পোশাক
কাজী মুশফিক: পাঞ্জাবী

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ
কাজী মুশফিক: নেট এ অনেক অনেক ছবি দেখ এবং অনেক অনেক ছবি তুলো। গিয়ার এর পিছে না দৌড়ায়ে ছবির পিছে দৌড়াতে হবে। চেষ্টা থাকলে সাফল্য আসবেই। আর হ্যা সবসময় মাথায় রাখবা ঈউ আর ঈউর কান্ট্রি । সো এক্ট লাইক দ্যাট। অনেক ফাউ উপদেশ দিয়ে ফেললাম। নিজেকে এবার একটু জ্ঞানী লাগতিসে। হেহে

Photo
© কাজী মুশফিক

Bangladeshi Wedding Photographer

আনিলা মায়োশি

একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তরুণদের উপরে। তারা যদি এগিয়ে যায়, তাহলে সে দেশের ভবিষ্যৎ যে উজ্জ্বল, তা বলা যায় কোনকিছু না ভেবেই। আর এরকম তরুণদের মাঝে যদি উদ্দ্যোক্তা থাকে, তাহলে উজ্জ্বলতম ভবিষ্যৎটা যে শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার। ১৮ পেরনোর আগে তাকে শিশুই ধরা হয়। কিন্তু এ ১৮ পেরোনোর আগেই কেও যদি নিজেকে নিয়ে যায় অনন্য এক উচ্চতায়, কি বলবেন তাকে? এমনই একজন আনিলা মায়োশি। যিনি কাজ করছেন একজন সফল ফ্যাশন ডিজাইনার হিসাবে। বৃষ্টিস্নাত এক সন্ধায় আনিলা মায়োশি কথা বললেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক নওরীন মেহনাজ বর্ষার সাথে। সে আলাপচারিতার নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

প্রশ্নঃ ফ্যাশন হাউজ নিয়ে কিছু বলুন। কেন নিজেকে এখানে নিয়ে এলেন?
আনিলা মায়োশি: ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনার মত বয়স এখনো আমার হয় নি, আমার বয়স কেবল ১৮, ছোট বেলা থেকেই মাকে দেখে শেখার মধ্য দিয়ে আমার এ জগতে প্রবেশ। মাকে দেখেই মনে ইচ্ছে জাগে একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হবার। তারপরই অনলাইন পর্যায়ে আমি মা’র ব্যবসাটাকে নিয়ে আসি।

ভিবজিওর এ ফ্যাশন বুথ। এটি অনলাইন ফ্যাশন হাউজ। রংধনু এর ৭ রঙ যার শুরু লাল থেকে বেগুনী পর্যন্ত। এই রঙ এর ধারাবাহিকতা মনে রাখার জন্য রঙ এর প্রথম অক্ষর দিয়ে ধারাবাহিক ভাবে ভিবজিওর হয়। এভাবেই VIBGYOR শব্দটি দাঁড়ায় v- violet , i – indigo ,b – blue , g- green . y- yellow , o- orange . r- red – । ৭ রঙের সমারহ এই ভিবজিওর এ।
অনলাইনে ভালভাবে শুরু করার পর আমি মায়ের সাহায্যে ডিজাইন করতে শুরু করি, ফটোশুট এর উদ্যোগ নেই, পুরো অনলাইনে তা পাব্লিসিটি করি এবং তা ক্রমশ খুব পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা পায়। যা ছিল আমার জন্য অনেক বড় এক অনুপ্রেরণা।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
আনিলা মায়োশি: আমাদের ডিজাইনগুলো যখন খুব জনপ্রিয়তা পেল তখন ধীরে ধীরে আমাদের ডিজাইনের রেপ্লিকা করা শুরু হল। আমার আইডিয়া কে নকল করে ছড়িয়ে দিল সব জায়গায়, যা আমার জীবনে প্রথম প্রতিবন্ধকতা। খুব ভেঙ্গে পরেছিলাম। মা বোঝানোর পর নিজেকে সামলে নিলাম।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা কি?
আনিলা মায়োশি: আমি বর্তমানে ভিবজিওর এ ফ্যাশন ডিজাইন করি। অনলাইন প্রমোশন্‌, ম্যানেজমেন্ট, ফটোশুট, ইভেন্ট, র‍্যাম্প করানো ইত্যাদি আমি দেখাশুনা করি। ভিবজিওর এর অনেক ফ্যান ফলোয়ারস আমার আর মার অনেক সাধনার পর ভিবজিওর আজ এই অবস্থানে।
আমি পরাশুনা ও ফ্যাশান হাউজ এ কাজ করার পাশাপাশি ফটোগ্রাফিও করে থাকি, তার পাশাপাশি আমি একজন মেহেদি আর্টিস্ট।

ফটোগ্রাফি এর সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা দিয়েছে আমাকে সামি আব্দুল ওয়াহেদ ভাইয়া যার ছিল আমার প্রতি অগাধ বিশ্বাস। তারপর আমি স্যার প্রিত রেযার কাছে কোর্স করি এবং ওনার কিছু ওয়ার্কশপে অংশ নিয়েছি। ইতিমধ%

Bird

ফিরোজ আল সাবাহ

Firoz Al Sabah
ফিরোজ আল সাবাহ এর এ ছবিটি তুলেছেন আলোকচিত্রি নাজমুল হাসান

ফিরোজ আল সাবাহ ১৯৯০ সালে জন্ম নিয়েছেন এ দেশের পাখিদের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দিতে। পেয়েছেন “DUPS National Photography Festival” এ প্রথম পুরষ্কার। এছাড়াও অর্জন করেছেন আরও বেশ কয়েকটি পুরষ্কার। প্রায় পনেরটি প্রদর্শনী স্থান পায় তার অসাধারণ সব ছবি। লেখালেখি করেন বাংলার পাখি ম্যগাজিনে। তিনটি ছবি প্রকাশিত হয়েছে “National Geographic Birdwatch Magazine” এ। প্রেস বাংলাদেশের সাথে এক আড্ডায় তিনি জানিয়েছেন অনেক কথাই। সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। পাঠকদের জন্য নির্বাচিত অংশ।

Blue-tailed bee-eater
নীল লেজ সুইচোরা
ছবিঃ ফিরোজ আল সাবাহ

প্রশ্নঃ কতদিন হল ফটোগ্রাফি শুরু করেছেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: 5 বছর

প্রশ্নঃ শুরু করার পেছনের কারণ?
ফিরোজ আল সাবাহ: ছোট বেলা থেকেই ক্যামেরার প্রতি ভালবাসা ছিল। ছোট বেলায় ফিল্ম ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতাম। ২০১১ সালে ডিএসএলআর কেনার পর থেকে মুলত ফটোগ্রাফি শুরু হয়। পাখিদের প্রতি ভালোবাসা থেকে ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি শুরু।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে প্রাতিশঠাকনিক শিক্ষা?
ফিরোজ আল সাবাহ: নেই।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
ফিরোজ আল সাবাহ: বর্তমান মহাবিপন্ন মদনটাক/Lesser Adjutant ও শেখ ফরিদ/Black Frankolin নিয়ে কনজারভেশন ও ডকুমেনটারি তৈরি করছি। আই ইউ সি এন এ “White rumped Vulture conservation project” নিয়ে ব্যস্ত।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ফিরোজ আল সাবাহ: ওয়াইল্ড লাইফ নিয়ে কাজ করা। বাংলাদেশের পাখিদের মানসম্পন্ন ফটোগ্রাফিক একটি ডাটাবেজ তৈরি করা।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ
ফিরোজ আল সাবাহ: “Never give up”

প্রশ্নঃ বন্যপ্রাণী সংরক্ষনে বিশেষ করে বিল্পুপ্ত প্রায় প্রানীদের জন্য আপনার মতে কি কি করা উচিৎ?
ফিরোজ আল সাবাহ: জনগণের মাঝে ব্যাপক গনসচেতনতা , বন্যপ্রাণী পরিবেশ এর ভারসাম্য বজায় রাখতে কি কি ভুমিকা পালন করে তা বোঝানো । শিকারীদের প্রতিহত করা । সরকারকে আরো আগ্রহী হতে হবে।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
ফিরোজ আল সাবাহ: একজন সফল ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার হিসেবে নিজেকে দেখতে চাই, পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সংরক্ষন নিয়ে কাজ করে যেতে চাই।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: অনেক যেমন পারিবারিক যদিও এখন আর সমস্যা নেই , আর্থিক । ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফির বাজার আমাদের দেশে নেই বললেই চলে । তাই এটিকে পেশা হিসেবে নেয়ার ইচ্ছে থাকেলও উপায় নেই।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
ফিরোজ আল সাবাহ: যা আয় হয়, তার চেয়ে ছবি তোলায় ব্যয় অনেক বেশি। বন জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো, রাত কাটানো, বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: IUCN ও বন বিভাগ।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
ফিরোজ আল সাবাহ: এখন পর্যন্ত ভাল। চেষ্টা করব এটাকে ধরে রাখতে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: টিম ল্যেমান (ইউ এস এ)

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: ছবি তোলা, বই পড়া, ট্রাভেল করা, মুভি দেখা। কারণ এইসব থেকে আমি সবচেয়ে বেশি শিক্ষা নিতে পাড়ি জীবন সম্পর্কে।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: অল্পে রেগে যাই, খুব বেশী অলস। এইসব আমার কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
ফিরোজ আল সাবাহ: মুভি দেখি বই পড়ি।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: জঙ্গলে, পছন্দের কিছু ওয়াইল্ডমেট এর সাথে।

প্রশ্নঃ পছন্দের খাবার?
ফিরোজ আল সাবাহ: মায়ের হাতের আলু ভর্তা।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
ফিরোজ আল সাবাহ: অহংকার।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান? কেন ভয় পান?
ফিরোজ আল সাবাহ: মানুষ দেখে, কারণ পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে আর হিংস্র প্রাণী নেই।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
ফিরোজ আল সাবাহ: বলে ফেললে সবাই জেনে ফেলবে।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
ফিরোজ আল সাবাহ: বলে ফেললে তো আর লুকানো থাকবেনা।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত ও কষ্টের মুহুর্ত কি ছিল?
ফিরোজ আল সাবাহ: মা যখন হাসেন।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
ফিরোজ আল সাবাহ: কিছু কথা থাক না গুপনে গুপনে।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
ফিরোজ আল সাবাহ: আসেন কানে কানে বলি।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: গাল গাদত(ইসরায়েল)

প্রশ্নঃ কি দেখলে সবচেয়ে বেশি রেগে যান?
ফিরোজ আল সাবাহ: পাখি শিকার।

প্রশ্নঃ কেমন দুষ্ট ছিলেন ছোটবেলায়?
ফিরোজ আল সাবাহ: খুব বেশি।

প্রশ্নঃ বাথরুমে সাধারণত কি ধরনের গান গেয়ে থাকেন?
ফিরোজ আল সাবাহ: ইদানিং “আমাকে আমার মত থাকে দাও” গাই। এই ধরনের গান আর কি।

প্রশ্নঃ চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে কার বিপরীতে অভিনয় করার ইচ্ছা?
ফিরোজ আল সাবাহ: গাল গাদত(ইসরায়েল)

প্রশ্নঃ ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা।
ফিরোজ আল সাবাহ: সামনে জন্মদিন আসছে। কেও চাইলে একটা ৮০০ মিমি লেন্স উপহার দিতে পারেন।

Bangladeshi Wedding Photographer

Salma

সৈয়দা সালমা

Salma
সৈয়দা সালমা

আমরা চাকরি করব না, আমরা চাকরি দেব, এ মন্ত্রেই উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশের অনেক তরুণ-তরুণী এখন নিজেরাই কিছু করার চেষ্টা করছে। কেও বন্ধু বান্ধবদের নিয়ে ব্যান্ড গঠন করে এখন দেশ বিদেশে কনসার্ট করছে, আবার কেও ফটোগ্রাফি করে উপার্জন করছে। এমনও অনেকেই আছে, যারা সামান্য কিছু টাকা নিয়ে ব্যবসা করছে। তাদের কাছে টাকা নয়, তাদের বুদ্ধিমত্তাই আসল মূলধন। তবে শুরুতে অনেক বাধা-বিপত্তি আসে। কেননা আমরা সাধারণত পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করে দুটো পয়সা উপার্জন করাকেই নিরাপদ জীবন বলে ধরে নেই। এর বাইরে এশে কেউ কিছু চিন্তা করবে, এরকম লোক খুব কম আমাদের দেশে। কিন্তু এখন সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের ধ্যান ধারনাও। ঠিক এরকম একজন আশাবাদী মানুষ সৈয়দা সালমা যিনি সৃষ্টি করেছেন ড্রেস ডিলাইট যা বর্তমানে বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের এক নবদিগন্তের নাম। এ আশাবাদী মানুষটির সাথে এক আড্ডায় ছিলেন প্রেস বাংলাদেশের প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। তার সাথে তার স্বপ্ন ড্রেস ডিলাইট নিয়ে গল্প হয়, গল্প হয় আরও অনেক কিছুই নিয়ে। টার নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য-

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
সৈয়দা সালমা: দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে চাই।

প্রশ্নঃ সবুজ পৃথিবী তৈরি করতে আপনার অভিমত
সৈয়দা সালমা: সুযোগ থাকলে গাছ লাগাতে হবে, বিদ্যুত ও জ্বালানির ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে
আপনি মনে করেন।
সৈয়দা সালমা: মানুষের মৌলিক চাহিদা গুলো মিটাতে হবে।

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
সৈয়দা সালমা: যেখানে দেশের সবার মুখে হাসি থাকবে।কারো কোনো কষ্ট থাকবে না।

প্রশ্নঃ পোশাক তৈরির জন্য কি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন?
উত্তর: না। এই বিষয়ে আমি স্বশিক্ষিত। আমার গ্রেজুয়েশন ল তে।

প্রশ্নঃ ড্রেস ডিলাইট শুরু করার পেছনের কারণ?
সৈয়দা সালমা: সবার মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেয়া।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
সৈয়দা সালমা: বলার বাইরে।

প্রশ্নঃ ড্রেস ডিলাইট নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
সৈয়দা সালমা: দেশ ও বিদেশের মাটিতে ড্রেস ডিলাইটকে নিয়ে যাওয়া।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
সৈয়দা সালমা: সবার সাথে সবার মাঝে।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
সৈয়দা সালমা: অনেক, তবে আমার পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় সব পার হতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
সৈয়দা সালমা: ধৈর্য ধারন করি। কাউকে কষ্ট না দেয়ার চেষ্টা করি।

প্রশ্নঃ শুরুতে মূলধন কি ছিল?
সৈয়দা সালমা: ৫ হাজার টাকা।

প্রশ্নঃ কিরকম আয় হচ্ছে?
সৈয়দা সালমা: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
সৈয়দা সালমা: আলহামদুলিল্লাহ, খুবই ভালো।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
উত্তর: হেলেন কিলার, উনি দৃষ্টি ও বাক প্রতিবন্ধী হয়েও মানুষের জন্য অনেক ভাবতেন এবং অনেক কিছু করেছেন, আমি সুস্থ থেকে কেন কিছু করতে পারব না?

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
সৈয়দা সালমা: অবশ্যই পোশাক, সাজগোজ, ভ্রমন, ফুটবল এবং ক্রিকেট।
অন্যান্য প্রশ্ন

প্রশ্নঃ এমন কিছু আছে যার প্রতি বিশেষ ধুর্বলতা এবং কেন?
সৈয়দা সালমা: পার্সিমন ফল এবং পেয়ারা, কোনো কারণ ছাড়াই।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা কি কি এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
সৈয়দা সালমা: কঠোর হতে পারি না। জীবনে কঠোর হওয়ারও দরকার হয়।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
সৈয়দা সালমা: গান শুনি, বেড়াতে যাই , সিনেমা বা টেলিভিশন দেখি।

প্রশ্নঃ খেলাধুলা করেন?
সৈয়দা সালমা: অল্প, সময় সুযোগ পেলে।

প্রশ্নঃ নিজেকে এতটা ফিট রেখেছেন, কিভাবে তা সম্ভব?
উত্তর: পরিমিত আহার এবং পরিশ্রম।

প্রশ্নঃ মেকাপ ছাড়া ফটোশুট এর অফার পেলে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: কে ছবি তুলবে তার উপর নির্ভর করবে।

প্রশ্নঃ সেলফি তোলার সময়ে সাধারনত মুখ কোন দিকে বাকা করেন?
সৈয়দা সালমা: নির্দিষ্ট কোনো দিক নেই। ছবি তোলার সময় আমি সবসময়ই হাসতে থাকি।

প্রশ্নঃ আচমকা কোন বিপদে পড়লে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: ধৈর্য্য ধরব এবং পরিচিত জনদের সাথে যোগাযোগ করে পরামর্শ বা সাহায্য চাবো।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
সৈয়দা সালমা: প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরা পরিবেশ ভালো লাগে। সব সময়ই আমার বন্ধুদের এবং পরিবারের সাথে ঘুরতে ভালো লাগে।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
সৈয়দা সালমা: মানুষ ঠকানো, মিথ্যা কথা, প্রতারণা এসব।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
সৈয়দা সালমা: আমি ভুতের সিনেমা দেখি এবং পরে অসম্ভব ভয় পাই।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
সৈয়দা সালমা: সব কিছুই কেউ না কেউ জানে।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
সৈয়দা সালমা: নেই।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
সৈয়দা সালমা: যখন আমার ইয়ানার জন্ম হয়। সম্ভবত যখন ব্রাজিল জার্মানির কাছে ওয়ার্ল্ড কাপে হারে। অনেক কেদেছিলাম ঐদিন।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
সৈয়দা সালমা: যাকে ভালোবাসি তার সাথে।

প্রশ্নঃ এমন কেও আছে, যাকে বিয়ে করতে পারেন নি বলে কেদেছিলেন? নীরবে ফেলেছিলেন চোখের পানি?
সৈয়দা সালমা: না।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
সৈয়দা সালমা: ঋত্তিক রোশান। পেশীর ভাজগুলো দেখেছেন?

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
সৈয়দা সালমা: অনন্ত জলিল, কারণ উনি ভেরি ভেরি স্মার্ট।

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
সৈয়দা সালমা: দই ফুচকা।

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
সৈয়দা সালমা: সব রংই পছন্দ তবে নীল্ ও কালো রং বেশি ভালো লাগে।

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
সৈয়দা সালমা: বার বার সেলফি তুলা।

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: জনকল্যানমূলক কিছু করব।

প্রশ্নঃ পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
সৈয়দা সালমা: প্রেম করব, কারণ আমার জীবনে একজনই প্রেমিক এবং সেই আমার লাইফ পার্টনার।

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
সৈয়দা সালমা: সেলফি তুলা, সেলফি তুলা, সেলফি তুলা, সেলফি তুলা এবং সেলফি তুলা।

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
উত্তর: সবচেয়ে বেশি ভয় পাই কপিবাজদের যারা আমার ডিজাইন কপি করে।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ
উত্তর: ধৈর্য্য। এর কোনো বিকল্প নাই।

dress
সৈয়দা সালমার নকশা করা পোশাকে মডেল সাদিয়া আফরোজ ও আনুশকা রহমান

Bangladeshi Wedding Photographer

Fashion Portrait

আটিলা ফ্রিচয

Photographer
আটিলা ফ্রিচয

আটিলা ফ্রিচয ইন্দোনেশিয়ার স্বনামধন্য ফ্যাশন ফটোগ্রাফার। অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরষ্কার। প্রকাশিত হয়েছে তার ছবি নামকরা সব ফ্যাশন ম্যাগাজিনে। তিনি তৈরি করেছেন “Women’s Portraits Only“। প্রেস বাংলাদেশকে তিনি দিয়েছেন কিছু সময়। জনিয়েছেন কিছু কথা। সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য।

Fashion Portrait
সমুদ্র সৈকতে তোলা আটিলা ফ্রিচয এর অসাধারণ একটি পোরট্রেইট

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফার হবার পেছনে রহস্য।
আটিলা ফ্রিচযঃ আমার সব অসাধারণ বন্ধু। যারা আমাকে সহযোগিতা করেছে

প্রশ্নঃ ফ্যাশন ফটোগ্রাফার হবার পেছনে রহস্য।
আটিলা ফ্রিচযঃ সুন্দরী রমনী।

প্রশ্নঃ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন ফটোগ্রাফি শেখার জন্য?
আটিলা ফ্রিচযঃ সেরকম নয়। অনেকটা নিজে থেকেই শেখা।

প্রশ্নঃ আপনার আদর্শ কে?
আটিলা ফ্রিচযঃ এরিখ ক্যাপারাস ও ডিনো এরোসা

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আটিলা ফ্রিচযঃ স্টক ফটো এজেন্সি তৈরি করা যেখানে একজন ফটোগ্রাফার ভাল মুল্যে তার ছবি বিক্রি করতে পারবে। বর্তমানে যেগুলো আছে, সেগুলো ফটোগ্রাফারদের শোষণ করে। খুব সামান্য পরিমাণ টাকা দেয়।

প্রশ্নঃ একটি ভাল ছবির জন্য দরকার মডেলদের সাথে সখ্যতা। আর এটি কিভাবে তৈরি করতে পাড়েন?
আটিলা ফ্রিচযঃ আমি তাদের ভালবাসি এবং তারা আমায় ভালবাসে। এভাবেই মডেলদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক তৈরি হয়, যা আমাকে একটি ভাল ছবি উপহার দেয়।

প্রশ্নঃ একটি সুন্দর ছবির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন জিনিস কোনটি বলে আপনার ধারণা?
আটিলা ফ্রিচযঃ সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন হচ্ছে, তাদের হাসি। এটি আপনাকে বের করে আনতে হবে।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশে কবে আসছেন?
আটিলা ফ্রিচযঃ বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দর একটি দেশ। বিশেষ করে এর প্রাকৃতিক দৃশ্য যা আমাকে অত্যন্ত মুগ্ধ করে। চেষ্টা করব, অতি শীঘ্রই এ সুন্দর দেশটি ভ্রমন করব।

Fashion Portrait
আটিলা ফ্রিচয এর তোলা অসাধারণ একটি পোরট্রেইট
Fashion Portrait
আটিলা ফ্রিচয এর তোলা অসাধারণ একটি পোরট্রেইট
Press Bangladesh

ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার

ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার
ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার

‘International Water Color Society’ দ্বারা নির্বাচিত বিশ্বের ১১তম শ্রেষ্ঠ জলরঙ চিত্রশিল্পী ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার। ফটোগ্রাফি, বক্তৃতা, জ্যোতির্বিদ্যা, কবিতা আবৃতি, হস্তবিদ্যা, অভিনয় প্রভৃতির দিকে ঝোঁক ছিল তার সেই ছোটবেলা থেকেই। ঢাকা আর্ট কলেজের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এর ছাত্র এই দেবব্রত। স্কেচ করে দেবব্রত গোল্ড মেডেল পেয়েছিলেন ১৯৯৫ সালে। ময়মনসিংহ মুসলিম ইন্সটিটিউটে ১ম পুরস্কার পেয়েছিলেন উপস্থিত বক্তৃ্তার জন্য। নকিয়া ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ২০০৮ এর বিজয়ী ছিলেন তিনি। এরকম আর অসংখ্য পুরষ্কার তিনি পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালে, কিশোরগঞ্জ জেলার কাঁঠালতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহের বিখ্যাত সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে এস এস সি শেষ করে তিনি ঐতিহ্যবাহী কে,বি,আই, কলেজে গমন করেন। এরপরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ২০০৩ সালে তিনি চিকিৎসক হবার ব্রত নিয়ে ডাক্তারি পড়াশোনা শুরু করেন। পড়াশোনার পাঠ শেষ করে তিনি মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। অসাধারণ এ জলরঙের শিল্পী সময় দিয়েছেন প্রেস বাংলাদেশ কে। সাথে ছিলেন যুবাইর বিন ইকবাল। আড্ডার ফাকে তার কাছ থেকে শোনা গিয়েছে তারা নানা জানা অজানা দিক। পাঠকদের জন্য তারই নির্বাচিত অংশ

Mermaid
মৎস্য কন্যা সৃষ্টি করেছেন ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার, যে সৃষ্টির জন্য তিনি অর্জন করেছেন ‘International Water Color Society’র পুরস্কার।

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
দেবব্রতঃ দেশ গঠনে প্রথমে দরকার সুন্দর নীতিমালা। নীতিমালা হওয়া উচিত দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে নয়। দ্বিতীয়ত, দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন খুব বেশি দরকার, দরকার সহনশীলতার।
ব্যক্তিগতভাবে কিছু করা কঠিন আমাদের দেশে। হয়ত ১টা স্কুল দিলাম বা ১টা হাসপাতাল-যাতে বিনামূল্যে পড়ালেখা বা সেবা মানুষ পেতে পারে,কিন্তু দেশগঠনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা কাম্য।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন।
দেবব্রতঃ সামাজিক মূল্যবোধ ছোটবেলা থেকে শেখানো জরুরী,বিশেষ করে পরিবারের ছেলেদেরকে। সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা খুব প্রয়োজন। ইন্টারনেট এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
দেবব্রতঃ আমি বাংলাদেশি। এটা আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই দেশের উন্নতি আমার কাম্য। আমাদের দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করেছে, এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই। জানি এটা অনেক কঠিন ব্যাপার, তবুও আশা ছাড়ছি না।

প্রশ্নঃ আপনি একজন সফল চিকিৎসক। এর পাশাপাশি জল রঙ দিয়ে আঁকেন অসাধারন ছবি। ঠিক কিভাবে আবিষ্কার করলেন নিজেকে একজন শিল্পী হিসাবে?
দেবব্রতঃ আসলে শিল্পী স্বত্তাটা আমার ভেতরেই ছিল বোধহয়। আমার বাবা,পরলোকগত সত্যরঞ্জন আইচ মজুমদার বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ছিলেন। কিন্তু তিনি ময়মনসিংহের একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বেশ কিছু পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।স্কুল প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন। ধ্রুপদী, লৌহিত্য,শুক্রবাসারীয় সাহিত্য সংসদ সহ বিভিন্ন সাহিত্য গোষ্ঠির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে হিসেবে বাসায় ১টি সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছিল। দিদি গান করত আর আমি শিশু একাডেমি, মুসলিম ইন্সটিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি প্রভৃতি জায়গায় যেতাম। মা আরতি বিষ্ণু নিয়ে যেতেন ওসব জায়গায়। সে হিসেবে নিজেকে শিল্পী হিসেবে আবিষ্কার করতে হয় নি।চিকিসক হবার আগে আমি শিল্পী।

প্রশ্নঃ চিকিৎসক হবার গল্পটা
দেবব্রতঃ সত্যি কথা বলতে আমার মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছাই ছিল না। চেয়েছিলাম আর্কিটেকচার এ পড়তে। তাই মেডিকেল কোচিং এ যেতে ভালো লাগত না। তাই এমনও হয়েছে কোচিং এর ভাইয়ারা বাসায় এসে মডেল টেস্ট এর প্রশ্ন দিয়ে যেত। মাঝে মধ্যে রাগারাগি করত। তবে বকা ঝকা কখনও করেনি। যাই হোক ঢাকা মেডিকেলে চান্স হবার পর বাসার সবাই বলল তুই ময়মনসিংহে মাইগ্রেশন করে চলে আয়। আসলে তখন আমরা অত কিছু বুঝতাম না। কিন্তু তখনকার ঢাকা মেডিকেলের প্রিন্সিপাল, হোসনে আরা তাহমিনা মাডাম, আমাকে ডাকলেন। গালে হালকা করে থাপ্পড় দিলেন ( ম্যাডাম আমাকে আদর করতেন )।বললেন, গাধা… ঢাকা মেডিকেল ছেড়ে কেউ অন্যটাতে যায়? একদিন বুঝবি। তুই আবেদন করলেও আমি যেতে দিব না।
ম্যাডাম আমার আবেদন এ সই করেন নি। আমি ম্যাডামের কাছে কৃতজ্ঞ। এটাই চিকিৎসক হবার পেছনের গল্পটা।

প্রশ্নঃকোথায় শিখেছেন আঁকা?
দেবব্রতঃ ‘আঁকা হলো বাস্তবতাকে ঘিরে কল্পনার এক পৃথিবী,যেখানে আলো-ছায়াটা মূখ্য’-এটা গুরু অধ্যাপক মীর মোঃ রেজাউল করিম স্যার এর কথা;যিনি ঢাকা আর্ট কলেজে চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এর সরাসরি ছাত্র ছিলেন।তাঁর ঐ কথার উপর ভিত্তি করেই চিত্রকর জীবনের শুরু ২য় শ্রেণীতে।তবে প্রতিযোগিতায় প্রথম অংশগ্রহণ করা শুরু হয় ৩য় শ্রেণীতে উঠার পর।
স্যার ছিলেন বাবার বন্ধু। স্কুলে আঁকার ম্যাডামের কাছে আঁকা শিখতাম না বলে তিনি কম নাম্বার দিতেন। ফলে পরীক্ষায় ২য়/৩য় হয়ে যেতাম।স্যার এর কাছে যাবার পর আঁকা শেখা শুরু হল।আমাকে তখন পায় কে! ৩য় থেকে ১০ ম শ্রেনী পর্যন্ত প্রথম হয়েছিলাম। ওহ… ৯ম শ্রেনীতে উঠার সময় একবার ২য় হয়েছিলাম :3
স্যার আমাকে কখনো প্রথাগত ভাবে শেখান নি।কিন্তু তার সবটা দিয়ে আমাকে শিখিয়েছেন। চারুকলায় না পড়েও চারুকলার প্রায় সব ই স্যার আমাকে শিখিয়েছেন।

প্রশ্নঃ জল রঙকে কেন বেছে নিলেন?
দেবব্রতঃ জল রং সবচেয়ে কঠিন মাধ্যম, কিন্তু সেই সাথে সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম। এটা দিয়ে যে কত কিছু করা যায়…জল রঙ শিল্পীর হয়ে কথা বলে। আপনার কিছু করতে হবে না, রংটাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেন…ও নিজেই নিজের পথ বের করে নিবে। সেজন্যই এর প্রতি আলাদা ১টি দুর্বলতা আছে।

প্রশ্নঃ চিকিৎসক ও চিত্রশিল্পি হিসাবে আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা কি?
দেবব্রতঃ কর্মব্যস্ততা অনেক বেশি।ডাক্তারির জন্য আঁকার সময় খুব ১টা পাই না।

প্রশ্নঃ চিকিৎসক ও চিত্রশিল্পি হিসাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
দেবব্রতঃ ভবিষ্যত পরিকল্পনা তো অনেক আছে। ওতো তো বলা ঠিক নয় 🙂 তবে দেশের জন্য কিছু করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও কিছু করতে চাই।

প্রশ্নঃ এগুলোর পাশাপাশি আর কোন বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে?
দেবব্রতঃ হুম। ফটোগ্রাফি, বক্তৃতা, জ্যোতির্বিদ্যা, কবিতা আবৃতি, হস্তবিদ্যা, অভিনয়। অভিনয় এর প্রতি দুর্বলতা অনেক বেশি। যদিও এখন করা হয় না।আমি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি,ময়মনসিংহ শাখার নাট্য দলের সদস্য ছিলাম। আমাদের কিছু নাটক টাউন হলেও প্রদর্শিত হয়েছিল।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
দেবব্রতঃ নিজেকে তো সবাই ভালো অবস্থানেই দেখতে চায়। আমিও। অন্তত চাই ভালো কিছু কাজ করে যেতে, যাতে মানুষ মনে রাখে।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
দেবব্রতঃ প্রতিবন্ধকতা তো ছিলই। এত ঝামেলার মুখোমুখি হয়েছি জীবনে যে সেগুলো দিয়ে কয়েকটা উপন্যাস হয়ে যাবে :3 এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে কাউকে বিশ্বাস করাটাও দায়।মানুষ অন্যকারো ক্ষতি করার জন্য নিজের ক্ষতি করতেও পিছপা হয় না।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
দেবব্রতঃ চেষ্টা করি নিজেকে বোঝাতে। এটাই জীবন। সবাই তোমাকে সম্মান দিবে বা বুঝবে বা সাহায্য করবে সেটা সম্ভব নয়।

প্রশ্নঃ ভক্ত ও দর্শকদের কিভাবে সামাল দেন?
দেবব্রতঃ আমি কেন জানি নীরব হয়ে গেছি। তাই সামলাতে হয় না। ওরকম কোন পরিস্থিতি কখনো হয় নি।তবে চেষ্টা করি কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর দিতে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
দেবব্রতঃ বাবার মত সৎ থাকতে চাই। আর ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো, ক্লদ মনেট,দালি,শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন,পিকাসো,সতীশ,হাশেম খান-উনাদের সবার মত আঁকতে চাই , যদিও সম্ভব নয় কারণ, এক এক জনের আঁকার স্টাইল এক এক রকম, কিন্তু সবারটাই unique।

প্রশ্নঃ এমন কিছু আছে যার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা এবং কেন?
দেবব্রতঃ সৌন্দর্য, কারন জানি না।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা কি কি এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
দেবব্রতঃ হঠাত করে রেগে যাওয়া, কারণ এতে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে, সম্প্রীতি কমার সম্ভাবনা থাকে, ভুল বুঝা-বুঝি বেড়ে যায়।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
দেবব্রতঃ সিনেমা দেখি। আগে বই পড়তাম। এখন আর পড়া হয় না।

প্রশ্নঃ খেলাধুলা করেন?
দেবব্রতঃ আগে করতাম নিয়মিত। এখন মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলে মাঠে নেমে যাই।

প্রশ্নঃ সেলফি তোলার সময়ে সাধারনত মুখ কোন দিকে বাকা করেন?
দেবব্রতঃ সেলফি তোলা হয় নআ।

প্রশ্নঃ আচমকা কোন বিপদে পড়লে কি করবেন?
দেবব্রতঃ চেষ্টা করব নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগাবার, যতটুকু পারা যায় আর কি !

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
দেবব্রতঃ সাগর, পাহাড়- দুইটাই ভালো লাগে। মাকে । তাছাড়া আপাতত কেউ নেই নিয়ে যাবার।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
দেবব্রতঃ মিথ্যা কথা বলা ও কথা দিয়ে কথা না রাখা।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
দেবব্রতঃ জানি না ঠিক।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
দেবব্রতঃ বললে তো বলাই হয়ে গেল।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
দেবব্রতঃ আছে। কিন্তু বলতে চাচ্ছি না।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
দেবব্রতঃ সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ১৯৯৫ সালে সারা দেশের মধ্যে আঁকাতে প্রথম হওয়া। কোনটা যে সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
দেবব্রতঃ কারও সাথেই এখনো হয় নি।

প্রশ্নঃ এমন কেও আছে, যাকে বিয়ে করতে পারেন নি বলে কেদেছিলেন? নীরবে ফেলেছিলেন চোখের পানি?
দেবব্রতঃ নাহ।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
দেবব্রতঃ একজন মেয়ে।

প্রশ্নঃ কে সেই মেয়ে? সানি লিওন?
দেবব্রতঃ হাহা হাহা। তবে সানি অনেক সুন্দরী।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
দেবব্রতঃ তেমন কেউ নেই। কারন যাওয়া সম্ভব না।

প্রশ্নঃ ধরুন সানি লিওন আপনাকে নয়ে যেতে চাইল, কি করবেন?
দেবব্রতঃ বিষ খাব!

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
দেবব্রতঃ ভাত, ডাল আর কিছু বিশেষ রেসিপি। ফাস্ট ফুড খাওয়া হয় না খুব একটা

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
দেবব্রতঃ নীল, নীলচে সবুজ।

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
দেবব্রতঃ রেগে যাওয়া, মানুষকে বিশ্বাস করা

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
দেবব্রতঃ ব্যাংকে অর্ধেক রাখব। বাকি অর্ধেক এর কিছু দরকারি কাজে লাগাবো, বিভিন্ন দেশ ভ্রমনে যাব।

প্রশ্নঃ পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
দেবব্রতঃ ছিল না কখন। আমারতো আর সালমান খান এর বডি নেই। বিল গেটস এর মত গাড়িও নেই।

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
দেবব্রতঃ ঘুমের মধ্যে মাঝে মধ্যে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে কেউ ডাকলে বিরক্ত হওয়া, হঠাত রেগে যাওয়া, হঠাত করে সিদ্ধান্ত নেয়া, কাউকে কষ্ট দিতে না চাওয়া।

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
দেবব্রতঃ কোনটিই না. তবে মাকড়সা দেখলে মাঝে মধ্যে কেমন জানি লাগে।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ
দেবব্রতঃ প্রতিভা থাকলেই হয় না, তার বিকাশ দরকার। শুধু কষ্ট করলেই হয় না, ভাগ্যও লাগে। সফলতার কোন সংক্ষিপ্ত রাস্তা নেই।কষ্ট করে উপরে উঠলে সেই সাফল্যের প্রতি মমতা থাকে।
মানুষ তোমাকে বাধা দিবে, কিন্তু আর মাঝেই চেষ্টা করতে হবে।

Dreamy Night
ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার এর রঙতুলির আঁচরে তৈরি করা “স্বপ্নের রাত”

Debobrata’s world of dream‘ নামে আঁকার একটি পেজ আছে যেখানে আপনি দেখতে পারেন, এই শিল্পির অসাধারণ সব সৃষ্টি।

Bangladeshi Wedding Photographer

Faisal Akram Ether

ফয়সাল আকরাম ইথার

Faisal Akram Ether
আলোকচিত্রি মেজবাহ ঊল আজীজ এর তোলা ফয়সাল আকরাম ইথার এর এ ছবিটি তোলা হয়েছে রানওয়েতে।

ফয়সাল আকরাম ইথার অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন মানুষ। এই মানুষটির বন্ধুত্ব প্লেনের সাথে। তার দিন কাটে প্লেনের দিকে তাকিয়ে। প্লেনের ছবি তুলে। নিচ থেকে শব্দ শুনেই তিনি বলে দিতে পারেন, কোন প্লেন যাচ্ছে। অবশ্য তিনি বেশ কিছু নামে পরিচিত। এগুলোর মধ্যে ইথার বাই, পিলেন বাই, কাট্টুন বাই, গাদক বাই, খাদক বাই বেশ উল্লেখযোগ্য। আহসানউল্লাহ বিজ্ঞ্যান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি বর্তমানে কাজ করছেন গ্রামীনফোনে একজন প্রযুক্তিবিদ হিসাবে। জনপ্রিয় এ প্লেন স্পটার এর সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ এর প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। তার সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে তার জীবনের নানা গল্প। পাঠকদের জন্য নির্বাচিত অংশঃ

concert
ফয়সাল আকরাম ইথার এর ধারণ করা একটি অসাধারণ কনসার্টের ছবি।

প্রশ্নঃ প্রথমেই জানতে চাইব আপনার মজার ভাষার কথা। কেন এবং কিভাবে শুরু হল এই ভাষার?
ফয়সাল আকরাম ইথার: মজা টা আসলে পরে আসছে। এই ভাবে লিখলে মজা হবে কিনা তা প্রথমে ভাবি নাই। লিখতে যখন হাত থেইকা নিশ পিশ আওয়াজ বাইর হইত, তখন দেখা গেল লিখতে গেলে করেছি লিখতে ছ এর পরে রশ্য ই না দির্ঘ ই চিন্তা করতে করতে কি নিয়া লিখত বইসিলাম ভুইলা গেসি। তাই ঠিক করসিলাম, ধুরো ছাতা, যেম্নে ভাবতাসি অম্নেই লিখুম। পরে ঠিক করুম নে। সেই পরে টা আর আসে নাই। আমি আবার খুব “এক্টিব” তো। তাই সময় পাই নাই। পরে দেখা গেসে এইটাই একটা স্টাইল হয়া গেসে নিজের।

প্রশ্নঃ চাকরি করছেন দেশের সবচেয়ে বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানে এবং একি সাথে ফটোগ্রাফি এবং সেই সাথে লেখালেখি। কিভাবে এতগুলো জিনিস ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: একটা আরেক্টার লগে মাখায় মুখায় চালায় যাইতাসি আরকি। আর ঠিক ধারাবাহিক ভাবে না। পাশা পাশি কইতে পারেন। অফিসের কাজ করতে করতে অনেক লেখা মাথায় আসে। আবার লেখা লেখি করতে করতে অফিসের অমুক কাজ টা তো করি নাই মনে হয়। আর ফটোগ্রাফিটা আসলে চব্বিশ ঘন্টার একটা অভ্যাস। এইটা মনে হয় যে কোন মানুষ যারা অনেক কিছুর মাঝখানে ফটোগ্রাফিটারে আলাদা কইরা ভালবাসে তারা সবাই স্বীকার করবেন যে যখন আমাদের সাথে ক্যামেরা থাকে তখন আমরা ছবিটা তুলি আর যখন থাকে না তখন মনে মনে ছবি টা দেখি। তাই আলাদা কইরা সময় বাইর না করলেও ফটোগ্রাফি চলতেই থাকে ভিতরে ভিতরে।

প্রশ্নঃ আপনি গ্রামীণ ফোনে চাকরি করেন। গোপনে কি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সিম ব্যবহার করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: চেষ্টা কইরা দেখসি। কিন্তু খুবই দুঃখ জনক ব্যাপার অফিসের সিম ছাড়া অন্য সিম ব্যবহার করলে মুবাইলে টেকা টুকা ভরা লাগে। ফ্রি তে ইউজ করতে করতে এমুন অভ্যাস খারাপ হইসে যে চাইলেও কুনু গুপন সিম ব্যাবহার করতে পারি না।

প্রশ্নঃ কোন কাজটি বেশি উপভোগ করেন? চাকরি, ফটোগ্রাফি নাকি লেখালেখি।
ফয়সাল আকরাম ইথার: সব চেয়ে উপভোগ করি খাওয়া দাওয়া। এর উপ্রে কিছু নাই। এই ইন্টারভিউ দেয়ার বিনিময়ে হাল্কা খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা আসে নাকি ভাই?

প্রশ্নঃ গীটার বাজাতে পারেন আপনি। কখনও কি ইচ্ছা হয়, একটি ব্যান্ড করবেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: একটা ব্যান্ড তো আসে আমার। আইকন্স। প্রতিষ্ঠাতা মেম্বার আমি আর রিজু। প্রথমে এই ব্যান্ড এ ভেজ ঘিটার বাজাইতাম আর লিরিক্স লিখতাম। তারপর শুধু লিরিক্স এ স্টিক করলাম। আমাদের এল্বাম ও বাইর হইসিল নাম “ইশ্বরনীয়”।

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: পুরা এডুকেশন সিস্টেম পালটায় ফালাইতে চাই। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত কোন পরীক্ষা থাকবে না। ক্লাস টু পর্যন্ত আর কোন সাব্জেক্ট থাকবে না শুধু কমন সেন্স, সিভিক সেন্স, নৈতিক শিক্ষা এই সব থাকবে।

প্রশ্নঃ সবুজ পৃথিবী তৈরি করতে আপনার অভিমত
ফয়সাল আকরাম ইথার: সবাই কয় সবুজ পৃথিবীর কথা। কিন্তু কেউ কয়না এইডা কেম্নে করুম। সবাই কয় গাছ লাগান (নন অশ্লিল অর্থে) পরিবেশ বাচান। আরে ব্যাডা, ডাহা শহরে গাছ লাগামু কোনহানে? মোর বাসার সিমেন্ট এর ছাদে না আন্নের মাতায়? আপ্নে জায়গায় জায়গায় গাছ লাগানোর জায়গা দ্যান, গাছের চারা দ্যান, এই গাছ কে লাগাইসে তা মার্ক করার ব্যাবস্থা করেন, দেখেন লোকজন কেম্নে নিজ উৎসাহে গাছ লাগায়।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন।

ফয়সাল আকরাম ইথার: অবক্ষয় আর অপরাধ তখন ই বেশি হইব যখন মানুষ মনে করব ইটস ওকে, আমার জন্য ইটস ওকে, আমি গরিব, আমি অবহেলিত, আমি সমাজের ভিক্টিম, তাই আমি করলে ইটস অকে। আমরা দুর্নিতি দেখতে দেখতে বড় হই, প্রতিবাদ করা অন্যদের দায়িত্ব মনে করি, আমাদের গায়ের জোর কম, আমরা এই ধরনের কাজ রে ঝামেলা মনে করি। মনে করি , আমার কি। যেমন ধরেন জ্যাম এর মধ্যে একটা রিকশা রং সাইডে গেলেও তার যাত্রি উদাশ মুখে বইসা থাকে, ভাবে আমার কি, আমি তো আগে যাইতাসি। । মানুষ কে প্রতিবাদ করার অভ্যাস করাইলে অবক্ষয় আর অপরাধ কইমা যাইব নিজে নিজেই। একজন বেলাইনে গেলে দশজন তারে কানে ধইরা লাইনে নিয়া আসবো।

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: কুথাও নিয়া যাইতে চাই না। শুধু একটা ভাল লিডার দরকার। যে কিনা নিজের মনে কইরা দেশ টার দেখাশোনা করব। আর তারে সাহায্য করতে আগায় আসবো নিজের ভবিষ্যত এর চেয়ে দেশের প্রতি অনেক ভালবাসা আছে এমন কিছু লোক। তাইলেই দেশ এর চেহারা পাল্টায়া যাইবো।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি শুরু করার পেছনের কারণ?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি দেখলাম কিছু কিছু ছবি দেখলে আমার অনেক ভালো লাগে। তখন মনে হইল নিজে এমন কিছু তৈরি করতে পারি কিনা। আর ব্যাপারটার মধ্যে অনেক কিছু শিখার আছে। শুধু যে ক্যামেরার হাড্ডি গুড্ডি শিখা তা না, ছবির এসথেটিকাল ব্যাপার গুলা নিয়া ঘাটাঘাটি করলে নিজের সৌন্দর্যবোধ এরও অনেক উন্নতি হয়। তাই ফটোগ্রাফির সাথে চিপকায় গেলাম।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে কি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: জি। প্রথমে পাঠশালায় এক মাস এর একটা বেসিক কোর্স করসি। তারপর দেহি যুইত লাগতাসে না তারপর তিন মাস এর একটা ফাউন্ডেশন করসি। তারপরও দেখি কিছুই পারি না। তাই একবছরের একটা ডিপ্লোমা করসি পাঠশালা থেইকা। তারপর আর দুই বছর কইরা গ্র্যাজুয়েশন করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সময় ম্যানেজ হয় নাই। তাই আপাতত বাদ দিসি। আবার দুই বছর শেষ করতে যাবো, যখন অফিস থেইকা রিটায়ার করবো তখন।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
ফয়সাল আকরাম ইথার: মেইনলি অফিস নিয়াই। এর ফাকে ফাকে একটু গান বাজনা, একটু প্লেন স্পটিং, একটু কবিতা ইত্যাদি। সবকিছু অই একটু এক্টুই আরকি।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অনেক গুলা প্রজেক্ট মাথায় আসে প্রায় ই। ওগুলা করতে চাই যদি সময় পাই। আর মানুষ জন এর কাছে ফটোগ্রাফি শেখার জায়গাটা এখনো ধোয়া ধোয়া । কই যাবো, কি শিখব, ক্যামেরা কি কিনবো এগুলা যখন কারো মাথায় আসে তখন এই ইনফরমেশন এর যুগে আইসাও লোকজন অসহায় ফিল করে। ইচ্ছা আছে বাংলায় , সহজ ভাষায় এই নতুন দের জন্য ইন্টারেক্টিভ কিছু করার।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি মেডেল আর পুরষ্কার দিয়ে ঘর ভইরা ফালাইতে চাই না।আমি চাই আমার একটা ছবি হলেও মানুষের মনে থাকুক। কোথাও দেখলে যাতে মনে করতে পারে এইটা আমার তোলা।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: মেইন ঝামেলা করসে সামি। এই সামি আমারে কিছু করতেই দিত না। নতুন কিছু করার চিন্তা করলেই সামি বাধা দিত। এই সামির বাধা অতিক্রম করতে পারলে আর কোন বাধাই ব্যাপার না। সামির পুরা নাম আইল-সামি।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি মনে মনে ভাবি আচ্ছা থাক, ব্যাপার না। যা হইসে তা হইসে। এইডাই তো জীবনের শেষ জিনিশ না। আরো সুজুগ আইবো নে। আল্লায় দিব।

প্রশ্নঃ শুরুতে ক্যামেরা কি ছিল?
ফয়সাল আকরাম ইথার: একদম শুরু তে ছিল প্যানাসনিক লুমিক্স, ৪ মেগাপিক্সেল এর। এই টা অবশ্য নিজের ছিল না। খালার কেমেরা। ভয়ে ভয়ে ধরতে হইত। ধরার আগে হাত ধুইতে হইত। নাইলে কেমেরায় ভাইরাস ধরবে। তারপর একটা নাইকন পয়েনট এন্ড শুট গিফট পাইলাম বইনের কাছ থেইকা। ২০০৯ সালে আইসা নিজের প্রথম ডি এস এল আর কিনলাম। ক্যানন ৪৫০ ডি।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আপাতত কোন আয় করতাসি না। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করতাম প্রফেশনালি ২০১৪ পর্যন্ত। তারপর ছেড়ে দিসি।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: প্রোফেশনালি বড় কাজ বলতে ২০০৬ সালে আইকন্স এর এল্বাম ফটোগ্রাফি আমি করসি যদিও ফটোগ্রাফার হিসাবে অন্য বন্ধুর নাম দিতে হইসে, সে বিরাট স্পন্সর আইনা দিসিল তাই। ব্র্যাক ব্যাংক এর বিলবোর্ড এর কাজ করসি একটা। ভোরের কাগজ এর ফ্যাশন আর ট্রাভেল পেজ এর জন্য ছবি তুলসি। ওয়েডিং ফটোগ্রাফির কাজের জন্য দেশে কয়েক জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হইসে। তারপর প্লেন স্পটিং এর ভূত ঘাড়ে চাপলো আর তারপর শুধু প্লেন এর ছবি ই তুলি । কয়েকদিন আগে সিভিল এভিয়েশন এর জন্য কাজ করসি কিছু।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ভালই তো। এক ক্লায়েন্ট এর রেফারেন্স এ অন্য ক্লায়েন্ট কাজ পাইতাম । তয় একবার এক ক্লায়েন্ট বলসিল “এই সব কি ঝাপ্সা ছবি তুলসেন, আমি কিলিয়ার, পিছনে ঘুলা”।

প্রশ্নঃ বিনে পয়সায় কেও ছবি তুলতে চাইলে কিভাবে তাকে অপমান করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অপমান করি না। তুইলা দেই। আমি একটা বেক্কল । না করতে পারি না।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: মনির ভাই। মনিরুজ্জামান। একটা ছবি দিয়াও যে উপন্যাস বইলা ফালানো যায় তা উনার ছবি দেইখাই প্রথম বজ্রাহত হইসিলাম।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অদিতি, প্লেন, খাওয়া, লেগো, গান, বাজনা, আঁকা আকি, ফটোগ্রাফি, বই, সিনেমা, ঘুম।এই সব কিছু আমাকে ভাবায় বাইচা থাকা একটা চমৎকার ব্যাপার, তাই পছন্দ।

প্রশ্নঃ প্লেনের প্রতি ধুর্বলতা কেন এবং কিভাবে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ছোটবেলায় পাইলট হইতে চাইসিলাম। কিন্তু আমাদের গুষ্টির কেউ পাইলট নাই, তাই কেউ কইতে পারে নাই পাইলট কেম্নে হওয়া যায়। ছোটবেলা থেইকাই আমি প্লেন দেখলে হা কইরা আকাশের দিকে তাকায় থাকি। আমার আম্মা সাক্ষী।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি না বলতে পারি না। আমার লগে কেউ চিল্লাইলে উলটা চিল্লাইতে পারি না। এই জন্য অনেক কষ্ট পাইতে হয় মানসিক এবং শারিরিক।

প্রশ্নঃ একটি পুরনো দিনের প্রশ্ন, ক্লাস এইট এ আপনার রোল নম্বর কত ছিল, কিংবা আচ্ছা ক্লাস সিক্স এর ষান্মাসিক পরীক্ষায় পরিবেশ পরিচিতি সমাজ এ কত পেয়েছিলেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ৮ ছিল রোল। ক্লাস এইট এর শান্মাশিক পরীক্ষায় মনে হয় ৫০ এ ৪০ পাইসিলাম। আমি সামাজিক বিজ্ঞানে ভালা আসিলাম

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
ফয়সাল আকরাম ইথার: কত্ত কিছু করি। বইলা শেষ করা যাবে না। যা ইচ্ছা হয় তাই করি। বই পড়ি, লেগো বানাই, লিখি, ইন্টারনেট এ গুতাগুতি করি। আর ঘুমাই। পচুর ঘুমাই।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি ঘুবি ঘর পাগলা মানুষ। আমার লরতে চরতে মুঞ্ছায় না।তবু যদি দেখি যে যেখানে যামু সেইখানে কই খামু, কই থাকুম এই সব বিষয় অল্রেডি আরেকজন টেক কেয়ার করতাসে, তাইলে আমি যাওয়ার কথা ভাবতেও পারি। আর ভ্রমন সঙ্গি হিসাবে চালু লুকজন কে নিতে পছন্দ করি। যারা লুকজন এর সাথে ডিল করতে পারবে যখন আমি হারায়া যাওয়া পিচ্চির মত ঘুইরা বেড়াইতে পারুম।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অবিনয়ী লুকজন। অনেক টেলেন্টেড একজন যখন উচ্চ শীর কইরা আসে তার টেলেন্ট টাকে আমি শ্রদ্ধা করি কিন্তু তার অবিনয় কে ঘিন্না করি।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: বড় মাকরশা দেখলে ভয় পাই। আর ভুত না দেইখাই ভয় পাই। আর ঠুশ ঠাশ অবলিলায় মিসা কথা কইয়া ফালাইতে পারে এরম লুকজন ভয় পাই। এরা এমন ভাবে আগের কথা অস্বীকার করে যে নিজের উপ্রেই সন্দেহ জন্মায় যায়।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমার লেখা পড়লে আমাকে যেমন মনে হয় সেই আমি টার দেখা পাইতে হইলে অনেক সময় দিতে হয়। আমি কারো সাথে হুট কইরা কম্ফরটেবল না। সময় লাগে আমার কাউরে পুরা পুরি নিজের আসল রুপ দেখাইতে।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
ফয়সাল আকরাম ইথার: পাইলট হইতে পার্লাম না 🙁

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
ফয়সাল আকরাম ইথার: সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত ছিল নটরডেম এ চান্স পাওয়ার পর বাবার জড়ায়া ধরাটা আর কষ্টের মুহুর্ত ছিল আমার বিড়াল অরুর মারা যাওয়া টা।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: নার্সারি তে থাকতে আগের দিন বাঙলা সিনামা দেইখা শিখসিলাম আই লাভ ইউ বলা। ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটা কে গিয়া বলসি, শুন আই লাভ ইউ, তুমিও বল আই লাভ ইউ। মেয়েটা বলসে, এসব বললে আম্মু বকবে। আমার খুব প্রেস্টিজ এ লাগসিল আর আমি বলসিলাম, ইইহ, আমার আম্মুও বকবে।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল? গুপন ফ্রেন্ডের রহস্য কি আজীবন রহস্যই থাকবে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: প্রথম ক্রাশ ছিল নায়িকা ববিতা। আর গুপন ফ্রেন্ড আর রহস্য নাই। গুপন ফ্রেন্ড আসলে একটা কন্সেপ্ট ছিল। লুকজন জি এফ জি এফ করতো। আমি জি এফ এর বাঙলা করসিলাম গুপন ফ্রেন্ড।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ড্রু ব্যারিমোর এর লগে যাইতে পারলে মজা হইত। তাইন রে আমার হেবি লাগে।

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: চুমু

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
ফয়সাল আকরাম ইথার: টক্টইক্কা লাল।

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি “হয় হয়” বেশি বলি, এত বেশি বলি যে বন্ধুদের মধ্যেও এইটা ঢুইকা যায়।

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: খরচ কর্মু। জমায়া রাখা আমারে দিয়া হইব না। কিন্তু আমার মনে হয় খরচ করার আগেই লুকজন আমাত্তে ধার লয়া সব টেকা টুকা নিয়া যাইবো গা। এইটা একটা বিরাট প্রব্লেম। আমি যে কত জন এর কাসে কত টাকা পাই।

প্রশ্নঃ বিয়ের পরে পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: পুরানো প্রেমিক তো নাই, অত আধুনিক হইতে পারি নাই। পুরানা প্রেমিকার লগে দেখা হইল হ্যাং মাইরা যাইতে পারি, স্লামালাইকুম ভাল আছেন আপা কয়া ফালাইতে পারি।

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
ফয়সাল আকরাম ইথার: আইলসামি বেশি করি, সবাইরে ভালা মনে করি, শরীর (নিজের) চর্চা করি না, মিষ্টি বেশি খাই, সব কিছুই বেশি খাই।

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ফ্লাইং তেলাপোকা ইজ দা মেইন রিজন অফ অল হার্ট এটাক্স।

প্রশ্নঃ সেলুনের লোকগুলো আপনার অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু আপনার দেখা তারা পায় না। কেন তাদের দুঃখ দেন এভাবে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ভালা জিনিষ কম কম খাওন লাগে। আর দেখা দেই তো। যখন আয়নায় নিজেরে দেখতে দেখতে বোর্ড লাগে তহন এক্কেরে ছুইল্লা মুরগি হয়া যাই। আর এইটা একটা সামাজিক ভাল কাজ ও। হয়তো সেলুনের লোক্টার সারাদিন খুব খারাপ গেসে। কিন্তু আমারে দেইখাই সবটি দাত বাইর কইরা যেই হাসি দ্যায় তার দাম কুটি ট্যাকা।

Shahjalal International Airport
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর Chengdu F-7 MB 427 যুদ্ধবিমানের অবতরণের ছবিটি তুলেছেন ফয়সাল আকরাম ইথার হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর রানওয়ে থেকে।

পুরষ্কার
বলার মত তেমন কিছু নাই, ছোট খাট কিছু আছে

প্রদর্শনী
Exhibition for World Ocean Day at London
Through The Lens Bangladesh Annual Exhibitions
Exhibition at Shilpokola Academy

প্রকাশনা
Cover Photo “Star Magazine” of Daily Star, Mothers Day Edition
Various Publications at Vorer Kagoj
Online Photography tutorials in Bangla in Blogs and Facebook

Bangladeshi Wedding Photographer