Press Bangladesh

ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার

ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার
ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার

‘International Water Color Society’ দ্বারা নির্বাচিত বিশ্বের ১১তম শ্রেষ্ঠ জলরঙ চিত্রশিল্পী ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার। ফটোগ্রাফি, বক্তৃতা, জ্যোতির্বিদ্যা, কবিতা আবৃতি, হস্তবিদ্যা, অভিনয় প্রভৃতির দিকে ঝোঁক ছিল তার সেই ছোটবেলা থেকেই। ঢাকা আর্ট কলেজের কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এর ছাত্র এই দেবব্রত। স্কেচ করে দেবব্রত গোল্ড মেডেল পেয়েছিলেন ১৯৯৫ সালে। ময়মনসিংহ মুসলিম ইন্সটিটিউটে ১ম পুরস্কার পেয়েছিলেন উপস্থিত বক্তৃ্তার জন্য। নকিয়া ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ২০০৮ এর বিজয়ী ছিলেন তিনি। এরকম আর অসংখ্য পুরষ্কার তিনি পেয়েছেন। ১৯৮৬ সালে, কিশোরগঞ্জ জেলার কাঁঠালতলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ময়মনসিংহের বিখ্যাত সরকারি ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে এস এস সি শেষ করে তিনি ঐতিহ্যবাহী কে,বি,আই, কলেজে গমন করেন। এরপরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ২০০৩ সালে তিনি চিকিৎসক হবার ব্রত নিয়ে ডাক্তারি পড়াশোনা শুরু করেন। পড়াশোনার পাঠ শেষ করে তিনি মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। অসাধারণ এ জলরঙের শিল্পী সময় দিয়েছেন প্রেস বাংলাদেশ কে। সাথে ছিলেন যুবাইর বিন ইকবাল। আড্ডার ফাকে তার কাছ থেকে শোনা গিয়েছে তারা নানা জানা অজানা দিক। পাঠকদের জন্য তারই নির্বাচিত অংশ

Mermaid
মৎস্য কন্যা সৃষ্টি করেছেন ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার, যে সৃষ্টির জন্য তিনি অর্জন করেছেন ‘International Water Color Society’র পুরস্কার।

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
দেবব্রতঃ দেশ গঠনে প্রথমে দরকার সুন্দর নীতিমালা। নীতিমালা হওয়া উচিত দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে নয়। দ্বিতীয়ত, দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন খুব বেশি দরকার, দরকার সহনশীলতার।
ব্যক্তিগতভাবে কিছু করা কঠিন আমাদের দেশে। হয়ত ১টা স্কুল দিলাম বা ১টা হাসপাতাল-যাতে বিনামূল্যে পড়ালেখা বা সেবা মানুষ পেতে পারে,কিন্তু দেশগঠনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা কাম্য।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন।
দেবব্রতঃ সামাজিক মূল্যবোধ ছোটবেলা থেকে শেখানো জরুরী,বিশেষ করে পরিবারের ছেলেদেরকে। সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা খুব প্রয়োজন। ইন্টারনেট এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
দেবব্রতঃ আমি বাংলাদেশি। এটা আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই দেশের উন্নতি আমার কাম্য। আমাদের দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করেছে, এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই। জানি এটা অনেক কঠিন ব্যাপার, তবুও আশা ছাড়ছি না।

প্রশ্নঃ আপনি একজন সফল চিকিৎসক। এর পাশাপাশি জল রঙ দিয়ে আঁকেন অসাধারন ছবি। ঠিক কিভাবে আবিষ্কার করলেন নিজেকে একজন শিল্পী হিসাবে?
দেবব্রতঃ আসলে শিল্পী স্বত্তাটা আমার ভেতরেই ছিল বোধহয়। আমার বাবা,পরলোকগত সত্যরঞ্জন আইচ মজুমদার বাংলাদেশ কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ছিলেন। কিন্তু তিনি ময়মনসিংহের একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বেশ কিছু পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।স্কুল প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন। ধ্রুপদী, লৌহিত্য,শুক্রবাসারীয় সাহিত্য সংসদ সহ বিভিন্ন সাহিত্য গোষ্ঠির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। সে হিসেবে বাসায় ১টি সাংস্কৃতিক পরিবেশ ছিল। দিদি গান করত আর আমি শিশু একাডেমি, মুসলিম ইন্সটিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি প্রভৃতি জায়গায় যেতাম। মা আরতি বিষ্ণু নিয়ে যেতেন ওসব জায়গায়। সে হিসেবে নিজেকে শিল্পী হিসেবে আবিষ্কার করতে হয় নি।চিকিসক হবার আগে আমি শিল্পী।

প্রশ্নঃ চিকিৎসক হবার গল্পটা
দেবব্রতঃ সত্যি কথা বলতে আমার মেডিকেলে পড়ার ইচ্ছাই ছিল না। চেয়েছিলাম আর্কিটেকচার এ পড়তে। তাই মেডিকেল কোচিং এ যেতে ভালো লাগত না। তাই এমনও হয়েছে কোচিং এর ভাইয়ারা বাসায় এসে মডেল টেস্ট এর প্রশ্ন দিয়ে যেত। মাঝে মধ্যে রাগারাগি করত। তবে বকা ঝকা কখনও করেনি। যাই হোক ঢাকা মেডিকেলে চান্স হবার পর বাসার সবাই বলল তুই ময়মনসিংহে মাইগ্রেশন করে চলে আয়। আসলে তখন আমরা অত কিছু বুঝতাম না। কিন্তু তখনকার ঢাকা মেডিকেলের প্রিন্সিপাল, হোসনে আরা তাহমিনা মাডাম, আমাকে ডাকলেন। গালে হালকা করে থাপ্পড় দিলেন ( ম্যাডাম আমাকে আদর করতেন )।বললেন, গাধা… ঢাকা মেডিকেল ছেড়ে কেউ অন্যটাতে যায়? একদিন বুঝবি। তুই আবেদন করলেও আমি যেতে দিব না।
ম্যাডাম আমার আবেদন এ সই করেন নি। আমি ম্যাডামের কাছে কৃতজ্ঞ। এটাই চিকিৎসক হবার পেছনের গল্পটা।

প্রশ্নঃকোথায় শিখেছেন আঁকা?
দেবব্রতঃ ‘আঁকা হলো বাস্তবতাকে ঘিরে কল্পনার এক পৃথিবী,যেখানে আলো-ছায়াটা মূখ্য’-এটা গুরু অধ্যাপক মীর মোঃ রেজাউল করিম স্যার এর কথা;যিনি ঢাকা আর্ট কলেজে চিত্রশিল্পী শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন এর সরাসরি ছাত্র ছিলেন।তাঁর ঐ কথার উপর ভিত্তি করেই চিত্রকর জীবনের শুরু ২য় শ্রেণীতে।তবে প্রতিযোগিতায় প্রথম অংশগ্রহণ করা শুরু হয় ৩য় শ্রেণীতে উঠার পর।
স্যার ছিলেন বাবার বন্ধু। স্কুলে আঁকার ম্যাডামের কাছে আঁকা শিখতাম না বলে তিনি কম নাম্বার দিতেন। ফলে পরীক্ষায় ২য়/৩য় হয়ে যেতাম।স্যার এর কাছে যাবার পর আঁকা শেখা শুরু হল।আমাকে তখন পায় কে! ৩য় থেকে ১০ ম শ্রেনী পর্যন্ত প্রথম হয়েছিলাম। ওহ… ৯ম শ্রেনীতে উঠার সময় একবার ২য় হয়েছিলাম :3
স্যার আমাকে কখনো প্রথাগত ভাবে শেখান নি।কিন্তু তার সবটা দিয়ে আমাকে শিখিয়েছেন। চারুকলায় না পড়েও চারুকলার প্রায় সব ই স্যার আমাকে শিখিয়েছেন।

প্রশ্নঃ জল রঙকে কেন বেছে নিলেন?
দেবব্রতঃ জল রং সবচেয়ে কঠিন মাধ্যম, কিন্তু সেই সাথে সবচেয়ে সুন্দর মাধ্যম। এটা দিয়ে যে কত কিছু করা যায়…জল রঙ শিল্পীর হয়ে কথা বলে। আপনার কিছু করতে হবে না, রংটাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেন…ও নিজেই নিজের পথ বের করে নিবে। সেজন্যই এর প্রতি আলাদা ১টি দুর্বলতা আছে।

প্রশ্নঃ চিকিৎসক ও চিত্রশিল্পি হিসাবে আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা কি?
দেবব্রতঃ কর্মব্যস্ততা অনেক বেশি।ডাক্তারির জন্য আঁকার সময় খুব ১টা পাই না।

প্রশ্নঃ চিকিৎসক ও চিত্রশিল্পি হিসাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
দেবব্রতঃ ভবিষ্যত পরিকল্পনা তো অনেক আছে। ওতো তো বলা ঠিক নয় 🙂 তবে দেশের জন্য কিছু করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবেও কিছু করতে চাই।

প্রশ্নঃ এগুলোর পাশাপাশি আর কোন বিষয়ে আপনার আগ্রহ আছে?
দেবব্রতঃ হুম। ফটোগ্রাফি, বক্তৃতা, জ্যোতির্বিদ্যা, কবিতা আবৃতি, হস্তবিদ্যা, অভিনয়। অভিনয় এর প্রতি দুর্বলতা অনেক বেশি। যদিও এখন করা হয় না।আমি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি,ময়মনসিংহ শাখার নাট্য দলের সদস্য ছিলাম। আমাদের কিছু নাটক টাউন হলেও প্রদর্শিত হয়েছিল।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
দেবব্রতঃ নিজেকে তো সবাই ভালো অবস্থানেই দেখতে চায়। আমিও। অন্তত চাই ভালো কিছু কাজ করে যেতে, যাতে মানুষ মনে রাখে।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
দেবব্রতঃ প্রতিবন্ধকতা তো ছিলই। এত ঝামেলার মুখোমুখি হয়েছি জীবনে যে সেগুলো দিয়ে কয়েকটা উপন্যাস হয়ে যাবে :3 এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে কাউকে বিশ্বাস করাটাও দায়।মানুষ অন্যকারো ক্ষতি করার জন্য নিজের ক্ষতি করতেও পিছপা হয় না।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
দেবব্রতঃ চেষ্টা করি নিজেকে বোঝাতে। এটাই জীবন। সবাই তোমাকে সম্মান দিবে বা বুঝবে বা সাহায্য করবে সেটা সম্ভব নয়।

প্রশ্নঃ ভক্ত ও দর্শকদের কিভাবে সামাল দেন?
দেবব্রতঃ আমি কেন জানি নীরব হয়ে গেছি। তাই সামলাতে হয় না। ওরকম কোন পরিস্থিতি কখনো হয় নি।তবে চেষ্টা করি কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলে তার উত্তর দিতে।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
দেবব্রতঃ বাবার মত সৎ থাকতে চাই। আর ভিঞ্চি, মাইকেল এঞ্জেলো, ক্লদ মনেট,দালি,শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন,পিকাসো,সতীশ,হাশেম খান-উনাদের সবার মত আঁকতে চাই , যদিও সম্ভব নয় কারণ, এক এক জনের আঁকার স্টাইল এক এক রকম, কিন্তু সবারটাই unique।

প্রশ্নঃ এমন কিছু আছে যার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা এবং কেন?
দেবব্রতঃ সৌন্দর্য, কারন জানি না।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা কি কি এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
দেবব্রতঃ হঠাত করে রেগে যাওয়া, কারণ এতে ক্ষতি হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে, সম্প্রীতি কমার সম্ভাবনা থাকে, ভুল বুঝা-বুঝি বেড়ে যায়।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
দেবব্রতঃ সিনেমা দেখি। আগে বই পড়তাম। এখন আর পড়া হয় না।

প্রশ্নঃ খেলাধুলা করেন?
দেবব্রতঃ আগে করতাম নিয়মিত। এখন মাঝে মধ্যে সুযোগ পেলে মাঠে নেমে যাই।

প্রশ্নঃ সেলফি তোলার সময়ে সাধারনত মুখ কোন দিকে বাকা করেন?
দেবব্রতঃ সেলফি তোলা হয় নআ।

প্রশ্নঃ আচমকা কোন বিপদে পড়লে কি করবেন?
দেবব্রতঃ চেষ্টা করব নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগাবার, যতটুকু পারা যায় আর কি !

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
দেবব্রতঃ সাগর, পাহাড়- দুইটাই ভালো লাগে। মাকে । তাছাড়া আপাতত কেউ নেই নিয়ে যাবার।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
দেবব্রতঃ মিথ্যা কথা বলা ও কথা দিয়ে কথা না রাখা।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
দেবব্রতঃ জানি না ঠিক।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
দেবব্রতঃ বললে তো বলাই হয়ে গেল।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
দেবব্রতঃ আছে। কিন্তু বলতে চাচ্ছি না।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
দেবব্রতঃ সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত ১৯৯৫ সালে সারা দেশের মধ্যে আঁকাতে প্রথম হওয়া। কোনটা যে সবচেয়ে কষ্টের মুহূর্ত তা এ মুহূর্তে বলতে পারছি না।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
দেবব্রতঃ কারও সাথেই এখনো হয় নি।

প্রশ্নঃ এমন কেও আছে, যাকে বিয়ে করতে পারেন নি বলে কেদেছিলেন? নীরবে ফেলেছিলেন চোখের পানি?
দেবব্রতঃ নাহ।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
দেবব্রতঃ একজন মেয়ে।

প্রশ্নঃ কে সেই মেয়ে? সানি লিওন?
দেবব্রতঃ হাহা হাহা। তবে সানি অনেক সুন্দরী।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
দেবব্রতঃ তেমন কেউ নেই। কারন যাওয়া সম্ভব না।

প্রশ্নঃ ধরুন সানি লিওন আপনাকে নয়ে যেতে চাইল, কি করবেন?
দেবব্রতঃ বিষ খাব!

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
দেবব্রতঃ ভাত, ডাল আর কিছু বিশেষ রেসিপি। ফাস্ট ফুড খাওয়া হয় না খুব একটা

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
দেবব্রতঃ নীল, নীলচে সবুজ।

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
দেবব্রতঃ রেগে যাওয়া, মানুষকে বিশ্বাস করা

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
দেবব্রতঃ ব্যাংকে অর্ধেক রাখব। বাকি অর্ধেক এর কিছু দরকারি কাজে লাগাবো, বিভিন্ন দেশ ভ্রমনে যাব।

প্রশ্নঃ পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
দেবব্রতঃ ছিল না কখন। আমারতো আর সালমান খান এর বডি নেই। বিল গেটস এর মত গাড়িও নেই।

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
দেবব্রতঃ ঘুমের মধ্যে মাঝে মধ্যে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে কেউ ডাকলে বিরক্ত হওয়া, হঠাত রেগে যাওয়া, হঠাত করে সিদ্ধান্ত নেয়া, কাউকে কষ্ট দিতে না চাওয়া।

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
দেবব্রতঃ কোনটিই না. তবে মাকড়সা দেখলে মাঝে মধ্যে কেমন জানি লাগে।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ
দেবব্রতঃ প্রতিভা থাকলেই হয় না, তার বিকাশ দরকার। শুধু কষ্ট করলেই হয় না, ভাগ্যও লাগে। সফলতার কোন সংক্ষিপ্ত রাস্তা নেই।কষ্ট করে উপরে উঠলে সেই সাফল্যের প্রতি মমতা থাকে।
মানুষ তোমাকে বাধা দিবে, কিন্তু আর মাঝেই চেষ্টা করতে হবে।

Dreamy Night
ডাঃ দেবব্রত আইচ মজুমদার এর রঙতুলির আঁচরে তৈরি করা “স্বপ্নের রাত”

Debobrata’s world of dream‘ নামে আঁকার একটি পেজ আছে যেখানে আপনি দেখতে পারেন, এই শিল্পির অসাধারণ সব সৃষ্টি।

Bangladeshi Wedding Photographer

ফয়সাল আকরাম ইথার

Faisal Akram Ether
আলোকচিত্রি মেজবাহ ঊল আজীজ এর তোলা ফয়সাল আকরাম ইথার এর এ ছবিটি তোলা হয়েছে রানওয়েতে।

ফয়সাল আকরাম ইথার অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন মানুষ। এই মানুষটির বন্ধুত্ব প্লেনের সাথে। তার দিন কাটে প্লেনের দিকে তাকিয়ে। প্লেনের ছবি তুলে। নিচ থেকে শব্দ শুনেই তিনি বলে দিতে পারেন, কোন প্লেন যাচ্ছে। অবশ্য তিনি বেশ কিছু নামে পরিচিত। এগুলোর মধ্যে ইথার বাই, পিলেন বাই, কাট্টুন বাই, গাদক বাই, খাদক বাই বেশ উল্লেখযোগ্য। আহসানউল্লাহ বিজ্ঞ্যান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি বর্তমানে কাজ করছেন গ্রামীনফোনে একজন প্রযুক্তিবিদ হিসাবে। জনপ্রিয় এ প্লেন স্পটার এর সাথে ছিলেন প্রেস বাংলাদেশ এর প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। তার সাথে আলাপচারিতায় উঠে আসে তার জীবনের নানা গল্প। পাঠকদের জন্য নির্বাচিত অংশঃ

concert
ফয়সাল আকরাম ইথার এর ধারণ করা একটি অসাধারণ কনসার্টের ছবি।

প্রশ্নঃ প্রথমেই জানতে চাইব আপনার মজার ভাষার কথা। কেন এবং কিভাবে শুরু হল এই ভাষার?
ফয়সাল আকরাম ইথার: মজা টা আসলে পরে আসছে। এই ভাবে লিখলে মজা হবে কিনা তা প্রথমে ভাবি নাই। লিখতে যখন হাত থেইকা নিশ পিশ আওয়াজ বাইর হইত, তখন দেখা গেল লিখতে গেলে করেছি লিখতে ছ এর পরে রশ্য ই না দির্ঘ ই চিন্তা করতে করতে কি নিয়া লিখত বইসিলাম ভুইলা গেসি। তাই ঠিক করসিলাম, ধুরো ছাতা, যেম্নে ভাবতাসি অম্নেই লিখুম। পরে ঠিক করুম নে। সেই পরে টা আর আসে নাই। আমি আবার খুব “এক্টিব” তো। তাই সময় পাই নাই। পরে দেখা গেসে এইটাই একটা স্টাইল হয়া গেসে নিজের।

প্রশ্নঃ চাকরি করছেন দেশের সবচেয়ে বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানে এবং একি সাথে ফটোগ্রাফি এবং সেই সাথে লেখালেখি। কিভাবে এতগুলো জিনিস ধারাবাহিক ভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: একটা আরেক্টার লগে মাখায় মুখায় চালায় যাইতাসি আরকি। আর ঠিক ধারাবাহিক ভাবে না। পাশা পাশি কইতে পারেন। অফিসের কাজ করতে করতে অনেক লেখা মাথায় আসে। আবার লেখা লেখি করতে করতে অফিসের অমুক কাজ টা তো করি নাই মনে হয়। আর ফটোগ্রাফিটা আসলে চব্বিশ ঘন্টার একটা অভ্যাস। এইটা মনে হয় যে কোন মানুষ যারা অনেক কিছুর মাঝখানে ফটোগ্রাফিটারে আলাদা কইরা ভালবাসে তারা সবাই স্বীকার করবেন যে যখন আমাদের সাথে ক্যামেরা থাকে তখন আমরা ছবিটা তুলি আর যখন থাকে না তখন মনে মনে ছবি টা দেখি। তাই আলাদা কইরা সময় বাইর না করলেও ফটোগ্রাফি চলতেই থাকে ভিতরে ভিতরে।

প্রশ্নঃ আপনি গ্রামীণ ফোনে চাকরি করেন। গোপনে কি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সিম ব্যবহার করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: চেষ্টা কইরা দেখসি। কিন্তু খুবই দুঃখ জনক ব্যাপার অফিসের সিম ছাড়া অন্য সিম ব্যবহার করলে মুবাইলে টেকা টুকা ভরা লাগে। ফ্রি তে ইউজ করতে করতে এমুন অভ্যাস খারাপ হইসে যে চাইলেও কুনু গুপন সিম ব্যাবহার করতে পারি না।

প্রশ্নঃ কোন কাজটি বেশি উপভোগ করেন? চাকরি, ফটোগ্রাফি নাকি লেখালেখি।
ফয়সাল আকরাম ইথার: সব চেয়ে উপভোগ করি খাওয়া দাওয়া। এর উপ্রে কিছু নাই। এই ইন্টারভিউ দেয়ার বিনিময়ে হাল্কা খাওয়া দাওয়ার ব্যাবস্থা আসে নাকি ভাই?

প্রশ্নঃ গীটার বাজাতে পারেন আপনি। কখনও কি ইচ্ছা হয়, একটি ব্যান্ড করবেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: একটা ব্যান্ড তো আসে আমার। আইকন্স। প্রতিষ্ঠাতা মেম্বার আমি আর রিজু। প্রথমে এই ব্যান্ড এ ভেজ ঘিটার বাজাইতাম আর লিরিক্স লিখতাম। তারপর শুধু লিরিক্স এ স্টিক করলাম। আমাদের এল্বাম ও বাইর হইসিল নাম “ইশ্বরনীয়”।

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: পুরা এডুকেশন সিস্টেম পালটায় ফালাইতে চাই। ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত কোন পরীক্ষা থাকবে না। ক্লাস টু পর্যন্ত আর কোন সাব্জেক্ট থাকবে না শুধু কমন সেন্স, সিভিক সেন্স, নৈতিক শিক্ষা এই সব থাকবে।

প্রশ্নঃ সবুজ পৃথিবী তৈরি করতে আপনার অভিমত
ফয়সাল আকরাম ইথার: সবাই কয় সবুজ পৃথিবীর কথা। কিন্তু কেউ কয়না এইডা কেম্নে করুম। সবাই কয় গাছ লাগান (নন অশ্লিল অর্থে) পরিবেশ বাচান। আরে ব্যাডা, ডাহা শহরে গাছ লাগামু কোনহানে? মোর বাসার সিমেন্ট এর ছাদে না আন্নের মাতায়? আপ্নে জায়গায় জায়গায় গাছ লাগানোর জায়গা দ্যান, গাছের চারা দ্যান, এই গাছ কে লাগাইসে তা মার্ক করার ব্যাবস্থা করেন, দেখেন লোকজন কেম্নে নিজ উৎসাহে গাছ লাগায়।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন।

ফয়সাল আকরাম ইথার: অবক্ষয় আর অপরাধ তখন ই বেশি হইব যখন মানুষ মনে করব ইটস ওকে, আমার জন্য ইটস ওকে, আমি গরিব, আমি অবহেলিত, আমি সমাজের ভিক্টিম, তাই আমি করলে ইটস অকে। আমরা দুর্নিতি দেখতে দেখতে বড় হই, প্রতিবাদ করা অন্যদের দায়িত্ব মনে করি, আমাদের গায়ের জোর কম, আমরা এই ধরনের কাজ রে ঝামেলা মনে করি। মনে করি , আমার কি। যেমন ধরেন জ্যাম এর মধ্যে একটা রিকশা রং সাইডে গেলেও তার যাত্রি উদাশ মুখে বইসা থাকে, ভাবে আমার কি, আমি তো আগে যাইতাসি। । মানুষ কে প্রতিবাদ করার অভ্যাস করাইলে অবক্ষয় আর অপরাধ কইমা যাইব নিজে নিজেই। একজন বেলাইনে গেলে দশজন তারে কানে ধইরা লাইনে নিয়া আসবো।

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: কুথাও নিয়া যাইতে চাই না। শুধু একটা ভাল লিডার দরকার। যে কিনা নিজের মনে কইরা দেশ টার দেখাশোনা করব। আর তারে সাহায্য করতে আগায় আসবো নিজের ভবিষ্যত এর চেয়ে দেশের প্রতি অনেক ভালবাসা আছে এমন কিছু লোক। তাইলেই দেশ এর চেহারা পাল্টায়া যাইবো।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি শুরু করার পেছনের কারণ?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি দেখলাম কিছু কিছু ছবি দেখলে আমার অনেক ভালো লাগে। তখন মনে হইল নিজে এমন কিছু তৈরি করতে পারি কিনা। আর ব্যাপারটার মধ্যে অনেক কিছু শিখার আছে। শুধু যে ক্যামেরার হাড্ডি গুড্ডি শিখা তা না, ছবির এসথেটিকাল ব্যাপার গুলা নিয়া ঘাটাঘাটি করলে নিজের সৌন্দর্যবোধ এরও অনেক উন্নতি হয়। তাই ফটোগ্রাফির সাথে চিপকায় গেলাম।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে কি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: জি। প্রথমে পাঠশালায় এক মাস এর একটা বেসিক কোর্স করসি। তারপর দেহি যুইত লাগতাসে না তারপর তিন মাস এর একটা ফাউন্ডেশন করসি। তারপরও দেখি কিছুই পারি না। তাই একবছরের একটা ডিপ্লোমা করসি পাঠশালা থেইকা। তারপর আর দুই বছর কইরা গ্র্যাজুয়েশন করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সময় ম্যানেজ হয় নাই। তাই আপাতত বাদ দিসি। আবার দুই বছর শেষ করতে যাবো, যখন অফিস থেইকা রিটায়ার করবো তখন।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
ফয়সাল আকরাম ইথার: মেইনলি অফিস নিয়াই। এর ফাকে ফাকে একটু গান বাজনা, একটু প্লেন স্পটিং, একটু কবিতা ইত্যাদি। সবকিছু অই একটু এক্টুই আরকি।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অনেক গুলা প্রজেক্ট মাথায় আসে প্রায় ই। ওগুলা করতে চাই যদি সময় পাই। আর মানুষ জন এর কাছে ফটোগ্রাফি শেখার জায়গাটা এখনো ধোয়া ধোয়া । কই যাবো, কি শিখব, ক্যামেরা কি কিনবো এগুলা যখন কারো মাথায় আসে তখন এই ইনফরমেশন এর যুগে আইসাও লোকজন অসহায় ফিল করে। ইচ্ছা আছে বাংলায় , সহজ ভাষায় এই নতুন দের জন্য ইন্টারেক্টিভ কিছু করার।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি মেডেল আর পুরষ্কার দিয়ে ঘর ভইরা ফালাইতে চাই না।আমি চাই আমার একটা ছবি হলেও মানুষের মনে থাকুক। কোথাও দেখলে যাতে মনে করতে পারে এইটা আমার তোলা।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: মেইন ঝামেলা করসে সামি। এই সামি আমারে কিছু করতেই দিত না। নতুন কিছু করার চিন্তা করলেই সামি বাধা দিত। এই সামির বাধা অতিক্রম করতে পারলে আর কোন বাধাই ব্যাপার না। সামির পুরা নাম আইল-সামি।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি মনে মনে ভাবি আচ্ছা থাক, ব্যাপার না। যা হইসে তা হইসে। এইডাই তো জীবনের শেষ জিনিশ না। আরো সুজুগ আইবো নে। আল্লায় দিব।

প্রশ্নঃ শুরুতে ক্যামেরা কি ছিল?
ফয়সাল আকরাম ইথার: একদম শুরু তে ছিল প্যানাসনিক লুমিক্স, ৪ মেগাপিক্সেল এর। এই টা অবশ্য নিজের ছিল না। খালার কেমেরা। ভয়ে ভয়ে ধরতে হইত। ধরার আগে হাত ধুইতে হইত। নাইলে কেমেরায় ভাইরাস ধরবে। তারপর একটা নাইকন পয়েনট এন্ড শুট গিফট পাইলাম বইনের কাছ থেইকা। ২০০৯ সালে আইসা নিজের প্রথম ডি এস এল আর কিনলাম। ক্যানন ৪৫০ ডি।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আপাতত কোন আয় করতাসি না। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি করতাম প্রফেশনালি ২০১৪ পর্যন্ত। তারপর ছেড়ে দিসি।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: প্রোফেশনালি বড় কাজ বলতে ২০০৬ সালে আইকন্স এর এল্বাম ফটোগ্রাফি আমি করসি যদিও ফটোগ্রাফার হিসাবে অন্য বন্ধুর নাম দিতে হইসে, সে বিরাট স্পন্সর আইনা দিসিল তাই। ব্র্যাক ব্যাংক এর বিলবোর্ড এর কাজ করসি একটা। ভোরের কাগজ এর ফ্যাশন আর ট্রাভেল পেজ এর জন্য ছবি তুলসি। ওয়েডিং ফটোগ্রাফির কাজের জন্য দেশে কয়েক জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হইসে। তারপর প্লেন স্পটিং এর ভূত ঘাড়ে চাপলো আর তারপর শুধু প্লেন এর ছবি ই তুলি । কয়েকদিন আগে সিভিল এভিয়েশন এর জন্য কাজ করসি কিছু।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ভালই তো। এক ক্লায়েন্ট এর রেফারেন্স এ অন্য ক্লায়েন্ট কাজ পাইতাম । তয় একবার এক ক্লায়েন্ট বলসিল “এই সব কি ঝাপ্সা ছবি তুলসেন, আমি কিলিয়ার, পিছনে ঘুলা”।

প্রশ্নঃ বিনে পয়সায় কেও ছবি তুলতে চাইলে কিভাবে তাকে অপমান করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অপমান করি না। তুইলা দেই। আমি একটা বেক্কল । না করতে পারি না।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: মনির ভাই। মনিরুজ্জামান। একটা ছবি দিয়াও যে উপন্যাস বইলা ফালানো যায় তা উনার ছবি দেইখাই প্রথম বজ্রাহত হইসিলাম।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অদিতি, প্লেন, খাওয়া, লেগো, গান, বাজনা, আঁকা আকি, ফটোগ্রাফি, বই, সিনেমা, ঘুম।এই সব কিছু আমাকে ভাবায় বাইচা থাকা একটা চমৎকার ব্যাপার, তাই পছন্দ।

প্রশ্নঃ প্লেনের প্রতি ধুর্বলতা কেন এবং কিভাবে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ছোটবেলায় পাইলট হইতে চাইসিলাম। কিন্তু আমাদের গুষ্টির কেউ পাইলট নাই, তাই কেউ কইতে পারে নাই পাইলট কেম্নে হওয়া যায়। ছোটবেলা থেইকাই আমি প্লেন দেখলে হা কইরা আকাশের দিকে তাকায় থাকি। আমার আম্মা সাক্ষী।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি না বলতে পারি না। আমার লগে কেউ চিল্লাইলে উলটা চিল্লাইতে পারি না। এই জন্য অনেক কষ্ট পাইতে হয় মানসিক এবং শারিরিক।

প্রশ্নঃ একটি পুরনো দিনের প্রশ্ন, ক্লাস এইট এ আপনার রোল নম্বর কত ছিল, কিংবা আচ্ছা ক্লাস সিক্স এর ষান্মাসিক পরীক্ষায় পরিবেশ পরিচিতি সমাজ এ কত পেয়েছিলেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ৮ ছিল রোল। ক্লাস এইট এর শান্মাশিক পরীক্ষায় মনে হয় ৫০ এ ৪০ পাইসিলাম। আমি সামাজিক বিজ্ঞানে ভালা আসিলাম

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
ফয়সাল আকরাম ইথার: কত্ত কিছু করি। বইলা শেষ করা যাবে না। যা ইচ্ছা হয় তাই করি। বই পড়ি, লেগো বানাই, লিখি, ইন্টারনেট এ গুতাগুতি করি। আর ঘুমাই। পচুর ঘুমাই।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি ঘুবি ঘর পাগলা মানুষ। আমার লরতে চরতে মুঞ্ছায় না।তবু যদি দেখি যে যেখানে যামু সেইখানে কই খামু, কই থাকুম এই সব বিষয় অল্রেডি আরেকজন টেক কেয়ার করতাসে, তাইলে আমি যাওয়ার কথা ভাবতেও পারি। আর ভ্রমন সঙ্গি হিসাবে চালু লুকজন কে নিতে পছন্দ করি। যারা লুকজন এর সাথে ডিল করতে পারবে যখন আমি হারায়া যাওয়া পিচ্চির মত ঘুইরা বেড়াইতে পারুম।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
ফয়সাল আকরাম ইথার: অবিনয়ী লুকজন। অনেক টেলেন্টেড একজন যখন উচ্চ শীর কইরা আসে তার টেলেন্ট টাকে আমি শ্রদ্ধা করি কিন্তু তার অবিনয় কে ঘিন্না করি।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: বড় মাকরশা দেখলে ভয় পাই। আর ভুত না দেইখাই ভয় পাই। আর ঠুশ ঠাশ অবলিলায় মিসা কথা কইয়া ফালাইতে পারে এরম লুকজন ভয় পাই। এরা এমন ভাবে আগের কথা অস্বীকার করে যে নিজের উপ্রেই সন্দেহ জন্মায় যায়।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমার লেখা পড়লে আমাকে যেমন মনে হয় সেই আমি টার দেখা পাইতে হইলে অনেক সময় দিতে হয়। আমি কারো সাথে হুট কইরা কম্ফরটেবল না। সময় লাগে আমার কাউরে পুরা পুরি নিজের আসল রুপ দেখাইতে।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
ফয়সাল আকরাম ইথার: পাইলট হইতে পার্লাম না 🙁

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
ফয়সাল আকরাম ইথার: সবচেয়ে আনন্দের মুহুর্ত ছিল নটরডেম এ চান্স পাওয়ার পর বাবার জড়ায়া ধরাটা আর কষ্টের মুহুর্ত ছিল আমার বিড়াল অরুর মারা যাওয়া টা।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: নার্সারি তে থাকতে আগের দিন বাঙলা সিনামা দেইখা শিখসিলাম আই লাভ ইউ বলা। ক্লাসের সবচেয়ে সুন্দর মেয়েটা কে গিয়া বলসি, শুন আই লাভ ইউ, তুমিও বল আই লাভ ইউ। মেয়েটা বলসে, এসব বললে আম্মু বকবে। আমার খুব প্রেস্টিজ এ লাগসিল আর আমি বলসিলাম, ইইহ, আমার আম্মুও বকবে।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল? গুপন ফ্রেন্ডের রহস্য কি আজীবন রহস্যই থাকবে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: প্রথম ক্রাশ ছিল নায়িকা ববিতা। আর গুপন ফ্রেন্ড আর রহস্য নাই। গুপন ফ্রেন্ড আসলে একটা কন্সেপ্ট ছিল। লুকজন জি এফ জি এফ করতো। আমি জি এফ এর বাঙলা করসিলাম গুপন ফ্রেন্ড।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ড্রু ব্যারিমোর এর লগে যাইতে পারলে মজা হইত। তাইন রে আমার হেবি লাগে।

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: চুমু

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
ফয়সাল আকরাম ইথার: টক্টইক্কা লাল।

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
ফয়সাল আকরাম ইথার: আমি “হয় হয়” বেশি বলি, এত বেশি বলি যে বন্ধুদের মধ্যেও এইটা ঢুইকা যায়।

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: খরচ কর্মু। জমায়া রাখা আমারে দিয়া হইব না। কিন্তু আমার মনে হয় খরচ করার আগেই লুকজন আমাত্তে ধার লয়া সব টেকা টুকা নিয়া যাইবো গা। এইটা একটা বিরাট প্রব্লেম। আমি যে কত জন এর কাসে কত টাকা পাই।

প্রশ্নঃ বিয়ের পরে পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
ফয়সাল আকরাম ইথার: পুরানো প্রেমিক তো নাই, অত আধুনিক হইতে পারি নাই। পুরানা প্রেমিকার লগে দেখা হইল হ্যাং মাইরা যাইতে পারি, স্লামালাইকুম ভাল আছেন আপা কয়া ফালাইতে পারি।

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
ফয়সাল আকরাম ইথার: আইলসামি বেশি করি, সবাইরে ভালা মনে করি, শরীর (নিজের) চর্চা করি না, মিষ্টি বেশি খাই, সব কিছুই বেশি খাই।

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ফ্লাইং তেলাপোকা ইজ দা মেইন রিজন অফ অল হার্ট এটাক্স।

প্রশ্নঃ সেলুনের লোকগুলো আপনার অপেক্ষায় থাকে, কিন্তু আপনার দেখা তারা পায় না। কেন তাদের দুঃখ দেন এভাবে?
ফয়সাল আকরাম ইথার: ভালা জিনিষ কম কম খাওন লাগে। আর দেখা দেই তো। যখন আয়নায় নিজেরে দেখতে দেখতে বোর্ড লাগে তহন এক্কেরে ছুইল্লা মুরগি হয়া যাই। আর এইটা একটা সামাজিক ভাল কাজ ও। হয়তো সেলুনের লোক্টার সারাদিন খুব খারাপ গেসে। কিন্তু আমারে দেইখাই সবটি দাত বাইর কইরা যেই হাসি দ্যায় তার দাম কুটি ট্যাকা।

Shahjalal International Airport
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর Chengdu F-7 MB 427 যুদ্ধবিমানের অবতরণের ছবিটি তুলেছেন ফয়সাল আকরাম ইথার হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর রানওয়ে থেকে।

পুরষ্কার
বলার মত তেমন কিছু নাই, ছোট খাট কিছু আছে

প্রদর্শনী
Exhibition for World Ocean Day at London
Through The Lens Bangladesh Annual Exhibitions
Exhibition at Shilpokola Academy

প্রকাশনা
Cover Photo “Star Magazine” of Daily Star, Mothers Day Edition
Various Publications at Vorer Kagoj
Online Photography tutorials in Bangla in Blogs and Facebook

Bangladeshi Wedding Photographer

ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

ইফফাত ই ফারিয়া
ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালে জন্ম এ নেয়া এ কন্যা, আসলে ত কোন কন্যা নয়, যেন একজন অগ্নিকন্যা!!! অত্যন্ত স্বাধীনচেতা এ রঙ। ই-কমার্স নিয়ে অনলাইনে পড়াশোনা করে তিনিও স্বপ্ন দেখতে থাকেন, তিনি নিজেই কিছু করবেন। আর যেহেতু ইন্টেরনেট এখন অনেক সহজলভ্য, তাই তিনি ই-কমার্স নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ঝোঁক ছিল তার রান্নার প্রতি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেছে নেন পোশাক। জন্ম দিয়েছেন প্যাস্টেলস এর। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে থাকেন পোশাকের এমনকি বিয়ের পোশাকও। তৈরি করেছেন সুন্দর একটি ফ্যাক্টরি। সব কাজ সেখানে করা হয়। ধীরে ধীরে সুনাম আসছে।

জামার মাপ ও কাটার জন্য রয়েছেন একজন সুদক্ষ কর্মী। কারখানায় কারচুপি এম্ব্রয়ডারি ও নকশীকাঁথার কাজগুলো করা হয় সুনিপুণভাবে। এ মুহুর্তে সর্বমোট আটজন কাজ করছে এ কারখানায়।

জদিও শুরুটা সহজ ছিল না। চারদিক থেকে অসংখ্য প্রতিবন্ধকতা। তবে এ প্রতিবন্ধকতাই তাকে উপরে এনেছে। একমাত্র বাবা ছাড়া আর তেমন কারোও সহযোগিতা পাননি। সবাই যখন পড়াশোনা শেষ করে একটি ভাল কোম্পানিতে চাকরি খুজতে চায়, তখন তিনি হেটেছেন বিপরীতে। । প্রতিদিনই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কাজ করছেন আমাদেরই জন্য। পড়াশোনা করছেন ইউনিভারসিটি অফ মেলবোর্ন, ফাউন্ডেশন ইয়ার, কেমিকৌশল বিভাগে।

স্বাধীনচেতা এ অগ্নিকন্যা প্রতিটী ইভটিজিং এর ঘটনা তিনি প্রতিবাদ করে আসছেন অত্যন্ত সাহস আর বুদ্ধির সাথে।

অগ্নিকন্যা আজ মুখোমুখি হয়েছিলো প্রেস বাংলাদেশ এর, সাথে ছিলেন যুবাইর বিন ইকবাল। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে অনেক কিছুই। পাঠকদের জন্য নির্বাচিত অংশ –

প্রশ্নঃ কবে সূচনা করেছেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ সেটা ছিলো ১৯ ডিসেম্বর ২০১৪!

প্রশ্নঃ এ ব্যবসা শুরু করার পেছনের কারণ?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার আসলে ছোট থেকেই ইচ্ছা ছিল নিজে কিছু করার। এডমিশনের পরে ৬ মাস সময় হাতে ছিলো। আমি একটা বিজনেস এডমিনিস্ট্রেসশন এর শর্ট কোর্স করে ফেলি তার মাঝে। ই-কমার্সের ব্যপারে ঘাটাঘাটি করে আগ্রহ আরো বেড়ে যায়।
আমি একি দিনে ২টা পেজ খুলি অনলাইনে। একটা ছিলো Pastels, আরেকটি Cookies, cupcakes & cardio. পোশাক আর ডেজার্ট আইটেমের ভেতর যেটা চলবে মনে হয়েছিলো সেটাই বেছে নিয়েছি পরে। মানুষের এখন বিয়ের শপিংয়েভারত পাকিস্তান যাবার যে ট্রেন্ড চলছে, আমার দেখে খুব খারাপ লাগত। তখন ভাবলা আমরা তো নিজেরাই পারি আনতে বা বানাতে!

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি এখন কামলা খাটি সোজা বাংলায় বলতে গেলে! পড়ালেখা+পার্টটাইম জব+নিজের ব্যবসা। সময় থাকে?

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার ইচ্ছা আছে দুই বিষয়ে স্নাতক শেষ করবো।ইঞ্জিনিয়ার হয়ে ফ্যাশান ডিজাইনিং নিয়ে বিজনেস! ইন্টারেস্টিং না?

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার অনেক বড় ক্ষতি করা হয়েছে। ৬৫ হাজার ফলোয়ারের ফেসবুক পেজ টা হ্যাক করে নিয়েছে একজন। ফেরত আনার চেস্টা করিনি আর। নতুন খুলে ফেলেছি। জীবনে থেমে গেলে চলবে?

প্রশ্নঃ কতজন কাজ করছে আপনার এ প্রতিষ্ঠানে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি প্রতিষ্ঠাতা। আমার সাথে আরো ৬ জন আছেন। তানভীর অরণ্য,জিহাদ কবি,রাহা চৌধুরি, সারোয়াত বারি,মুবাসসির সাকিব এবং জয় আচার্য। ৮ জন কাজ করে। কেউ করে কারচুপি, কেউ এম্ব্রয়ডারি, কেউ নকশীকাঁথা, মাপ মতো কাটা এবং সেলাইয়ের জন্য আলাদা মানুষ।
আর ইসলামবাদে আমাদের একটা শাখা আছে। প্রয়োজনে আমদানি করা হয় এজেন্ট এর মাধ্যমে।

প্রশ্নঃ শুরুতে মূলধন কত ছিল?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ৬০০০ টাকা!

প্রশ্নঃ বর্তমানে কিরকম আয় হচ্ছে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ খারাপ না। কিন্তু আমি খুব খরুচে স্বভাবের। সব খরচ করে ফেলি। পরে আবার টানাটানি তে পড়ে যাই!

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি সবসময় চাঁদ লক্ষ্যে রেখে আগাই। সেটা যদি হাতছাড়াও হয়ে যায়, কোনো না কোনো তারা তো হাতে পাবো?

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ৮০% ভালো। খারাপ কেউ বলেনা আসলে। হয়তো ডেলিভারি তে সময় লাগে, কাজে সামান্য ভুল হয়,মাপে গোলমাল হয়। সেটা আমরাই আবার ঠিক করে দেই। সবাই তো স্টুডেন্ট, এতো প্রফেশনালি কাজ পারিনা।

পুরষ্কার / সম্মাননাঃ
ইফফাত ই ফারিয়াঃ এটা আবার কি! প্যাস্টেলস নিয়ে ৫-৬ টা ফিচার হয়েছে কয়েক জায়গায়। সেটা কি সম্মাননা? আমি ছোটতে খুব ভালো নাচ-কবিতা-ড্রয়িং-গান পারতাম। নতুন কুঁড়ি, শিশু একাডেমী, শিল্পকলা, ইফা এর জেলা-বিভাগীয়-জাতীয় পর্যায় এর অনেক প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়েছি।সেগুলা কি পুরস্কার? ওহ হ্যা, ২০১২ তে গ্রামীনফোন আই জিনিয়াস প্রতিযোগীতায় রাজশাহী বিভাগে রানার্স আপ ছিলাম। ইউনিসেফ বাংলাদেশ এর CR আমি। এটা চলে?

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ গান। আর খাদ্য। আমি খুব ভালো রান্না জানি।এতো ভালো, যে আমি একা ছাড়া আর কেউ খেতে পারেনা। অবসরে সেগুলো খাই।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার পাথরের পাহাড় ভালো লাগে। সবুজ চোখ,বাদামি চুলের কোন মেয়ে সাথে থাকলে ভালো লাগবে।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ প্রশ্ন করা।মানুষ এর কৌতুহল আমার অসহ্য লাগে।সবকিছু জেনে ফেলতে চায় এরা। আর মানুষকে অবিশ্বাস করা।দয়াশীলতার অভাব ও অপছন্দ।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ৫ জনের সাথে একত্রে যাওয়া যাবে? জনি ডেপ, ফারহান আখতার, প্যাট্রিক ডেম্পসে, আরেফিন শুভ আর এমা ওয়াটসন!!!
কেনোর কোন উত্তর নাই। ভাল্লাগে, তাই।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ
ইফফাত ই ফারিয়াঃ না, আমি পরামর্শ দেবার মতো এমন কিছু এখনো হয়ে যাইনাই।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার নাম লিখে গুগল করেন! বাকিটা আপনি ও বুঝবেন। সে জোস!

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন তাকে দুর্বলতা মনে করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি মানুষকে অনেক বেশি তথ্য দিয়ে ফেলি নিজের বিষয়ে,যেটা তারা পরবর্তীতে খুব ভালোভাবে ব্যবহার করে। বিশ্বাস করি এবং আমি খুব ভালোবাসতে জানি। এটা খুব বড় দূর্বলতা।

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আসলে আমাদের প্রজন্মটা কেমন জানি। এদের বুকের ভেতর মায়া নাই দেশটার জন্য। আমি অবশ্যই চেস্টা করবো খুব বড় কিছু করে ফেলার। কিন্তু সেটা কি হবে এখনো ঠিক বুঝতে পারিনা। কিন্তু করবো।

প্রশ্নঃ সবুজ পৃথিবী তৈরি করতে আপনার অভিমত?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ শুধু সাদা মেঘ বা নীল পানি, ফিফটি শেডস অফ গ্রে দিয়ে ত জীবন চলবেনা। সবুজ লাগবে। গাছ যদি ফ্রি ওয়াইফাই দিতো, আমরা বোধহয় তাইলে সারাদিন গাছ লাগাতাম! আফসোস গাছ শুধু একটুখানি অক্সিজেন দেয়!

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার মাথা খারাপ হয়ে যায় মাঝেমধ্যে খবর দেখে। প্রতিদিন খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অসুখ, ঘুষ, এক্সিডেন্ট। আমার দেশটা রসাতলে যাচ্ছে! আমি বেশ কয়েকটি সংগঠনের সাথে কাজ করি। ইউনিসেফ, জাস্টিস ফর ওম্যান ফাউন্ডেশন, সেভ দ্য চিল্ড্রেন্স অস্ট্রেলিয়া, ন্যাশনাল চিল্ড্রেন্স টাস্ক ফোর্স, লাইটার ফাউন্ডেশন। সবখানেই খুব ছোট ছোট প্রচেষ্টা নিয়ে কয়েকজন আপ্রাণ চেস্টা করে যাচ্ছে! এটুকু তে ধীরে ধীরে একদিন খুব বড় কোনো পরিবর্তন হয়ে যাবে আশা করি! সবচেয়ে বড় কথা সচেতনতা লাগবে। অন্যায়ে আগায়ে গিয়ে প্রতিবাদ করা লাগবে। আজ অন্যের সাথে হচ্ছে, কাল আমার আপনার সাথেও হবে। শাস্তিদান নিশ্চিত করতে হবে অপরাধীর। কতোদিন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে এড়ানো যাবে?

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ বাংলাদেশ তো আমার একার হাতে না। আমি চেষ্টা করি সবসময় ভালো কিছু করার। কিন্তু সবাই মিলে যা শুরু করেছে,
আজকাল সবুজ পাসপোর্ট হাতে থাকা মানে অভিশাপ মনে হয়।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ নেই না। আমি খুব হতাশাবাদী মানুষ। আমি কোনো ঝামেলায় পড়লে নিজেকে গোল আলু মনে করে চুপচাপ বসে থাকি।

প্রশ্নঃ বিনে পয়সায় কেও কাজ করাতে চাইলে কিভাবে তাকে অপমান করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ অপমান করিনা। হয়তো স্ক্রিনশট নাম ঢেকে ফেসবুকে দিয়ে দেই। লজ্জা এমনিতেই পায়।
তবে কয়েকবার কিছু উদ্ভট ক্লায়েন্ট পেয়েছি যাদের আচার আচরণ এ বিরক্ত হয়ে মনে হয়েছে গিফট করে দেই। দানের খাতায় চলে যাবে।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার নিজেকে খুব পছন্দ। কেন হবেনা? এরকম আর কেউ আছে?

প্রশ্নঃ কিসের প্রতি বিশেষ দূর্বলতা এবং কেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ ভালো গান গাইতে পারে এরকম যেকোনো মানুষের প্রতি আমি টান অনুভব করি। চওড়া কাঁধ, সুন্দর চোখ, কোঁকড়া বাদামি চুল আর সুন্দর জুতা! আমার দূর্বল দিক।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার ইন্সমনিয়া আছে। আমি অন্ধকার ভয় পাই। এজন্য দিনে ঘুমাই। তাও খুব কম। আর পানি ভয় পাই।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার লম্বা গোলগাল কোঁকড়া বাদামি চুলের মেয়ে পছন্দ। খুব শখ একটা বৌ থাকবে নিজের!

প্রশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমার সবচেয়ে ভালোবাসার মানুষেরা কেন জানি ক্যান্সারে মারা যায়। এটা খুবই অদ্ভুত।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত আমার জানা নাই এখনো। কষ্টের কথা মনে হয় একজন আমার কোলে মাথা রেখে মারা যায়। তার রক্তবমি হচ্ছিলো,আমার গায়ে মেখে যায়। আমি সেদিন থেকে রাতে ঘুমাতে পারিনা। এটাই মনে হয়।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ প্রেমের সম্পর্ক? তানভীর অরণ্য। প্রথম ভালোবাসা অন্য আরেকজন।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ শব্দ। অসাধারণ গানের গলার রুপবান একটা ছেলে যে এখন ঘুমিয়ে আছে একটা পুকুর পাড়ে।

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ টিকিয়া। বাঁশপাতা মাছ। খাসির কাচ্চি। গাজরের হালুয়া। ব্লুবেরি পাই। পেস্তা বাদামের আইস্ক্রিম! লিস্ট শেষ হবেনা।

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ হাহা! আমি!

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আমি গালি দেই খুব। “ধুর্বাল” খুবই কমন। রাস্তা ঘাটে রিক্সাওয়ালা, বাসার দারোয়ান, চটপটির লোকের দেয়া প্রতিটা গালি আমি নোট করে রাখি আর সময়মত প্রয়োগ করি।

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ আম্মুকে মালদ্বীপ এর একটা ছোট অংশ কিনে রেখে আসব। জ্বালায় খুব।

প্রশ্নঃ বিয়ের পরে পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
ইফফাত ই ফারিয়াঃ জিজ্ঞেস করবো, “যে ৮০০০ টাকা ধার নিয়েছিলা, দিবা কবে?”

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
ইফফাত ই ফারিয়াঃ
১. গালি দেই
২. বেশি কথা বলি
৩. অল্পতে বিরক্ত হই
৪. নখ কামড়ে খাই!
৫. চুল আঁচড়াই না

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু
ইফফাত ই ফারিয়াঃ কুকুর।

bridal
ইফফাত ই ফারিয়া এর ডিজাইন করা পোশাক। ছবি তুলেছেন বাংলাদেশ এর বিখ্যাত আলোকচিত্রি জিয়া উদ্দীন
bridal dress
ইফফাত ই ফারিয়া এর ডিজাইন করা বিয়ের পোশাক।

Bangladeshi Wedding Photographer

নওরীন মেহনাজ বর্ষা

Nawrin Mehnaz Barsha
রেডিও জকি নওরীন মেহনাজ বর্ষা

আর জে নওরীন মেহনাজ বর্ষা!!! সদা লস্যাময়ী এ আর জে তার কথার জাদুতে মানুষকে একদম পাগল করে দেন। তার শো “Drama Queen” শুরুর আগেই শ্রোতারা চালু করে ফেলেন City fm. তবে শুধু জে আর জে, তা নয়, পাশাপাশি শখের বশে করেন ফটোগ্রাফি। তার তোলা ছবি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন করা হয়েছে। কাজ করেছেন বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে। এ “Drama Queen” এর সাথে কথা বললেন প্রেস বাংলাদেশের প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। পাঠকদের জন্য নির্বাচিত অংশ।

প্রশ্নঃ দেশ গঠনে কি কি করতে চান?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: মানুষের মানসিকতা বদলাতে চাই।

প্রশ্নঃ সমাজে এখন অবক্ষয়, অপরাধ অনেক বেশি। এগুলো কমাতে কি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন।
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: শিক্ষাব্যাবস্থা এবং মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।

প্রশ্নঃ বাংলাদশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: আমারা যেমন এখন বিদেশে যেতে চাই, স্বপ্ন দেখি বিদেশে বাস করার তেমনি একদিন সারা পৃথিবী বাংলাদেশে আসতে চাইবে, সকলে স্বপ্নের দেশ হবে বাংলাদেশ।

প্রশ্নঃ কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন রেডিওতে কাজ করার জন্য? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা কি দরকার?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: City fm এর RJ HUNT প্রতিযোগীতার মাধ্যমে আমার রেডিওতে আসা, সেখানেই তিন মাস ট্রেনিং করেছি, সু্যোগ হয়েছে গুনী ব্যাক্তিদের কাছ থেকে শেখার। প্রতিযোগীতামূলক বাজারে আমি মনে করি, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটা প্রয়োজন।

প্রশ্নঃ রেডিও জকি হিসাবে কাজ শুরু করার পেছনের কারণ?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ভালোলাগা।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: পড়াশোনা।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
নওরীন মেজনাজ বর্ষা: পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, তবে পাশাপাশি উপস্থাপনা করতে চাই।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: আদর্শ বা আইকন হিসেবে।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: পরিবার থেকে, কারন শুরুতে তারা রাজী ছিলেন না, তাদের কথা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশুনা করছ তাহলে আর জে হবার কি দরকার? প্রথমে অনেক দিন পরিবারের অগোচরে কাজ করতে হয়েছে, পরে আমার কাজের প্রতি ভালবাশা দেখে তারা সাপোর্ট দিয়েছে।

প্রশ্নঃ নেতিবাচক কিছু পেলে কিভাবে সামলে নেন নিজেকে?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: নেতিবাচক কিছু আসলে তেমন পাই নি, কারন নেতিবাচক কে ইতিবাচক করতে আমি জানি।

প্রশ্নঃ কিরকম আয় হচ্ছে?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: বাংলাদেশে শিল্পীদের মূল্য নাই, সেই কথা বলে লাভ নাই।

প্রশ্নঃ স্রোতাদের ফিডব্যাক কেমন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: আলহামদুলিল্লাহ ভাল।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন এবং কেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: আর জে নীরব খান। কারণ ছোটবেলা থেকে দাদার শো শুনে সপ্ন দেখতাম RJ হবার, আর দাদার কাছ থেকে শিখেছি বাংলার সঠিক উচ্চারন, কিভাবে নিজেকে প্রেজেন্টেবল করে তুলতে হয় এবং পথ চলার বাধা কে অতিক্রম করতে হয়। দাদার কাছে কৃতজ্ঞ কারণ মানুষ আমাকে বলে “তুমি খুব সুন্দর উচ্চারনে বাংলা বল, বাংলাকে বাংলার মত এবং ইংরেজি কে ইংরেজির মত করে বল” অনেক গুণি ব্যাক্তির কাছ থেকে এই কথা শূনেছি যার সব টুকু কৃতিত্ব নিরব দাদার।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ফোটোগ্রাফি,গান।

প্রশ্নঃ আপনিতো পাশাপাশি ফটোগ্রাফি করেন, কেমন উপভোগ করেন একে?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: চেষ্টা করি টুকটাক।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কটাক।
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ফোতোগ্রাফিকে সমাজে সম্মানিয় পেশার মর্যাদায় নিতে চাই।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফিতে কাকে আদর্শ মনে করেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: প্রিত রেজা ও যুবাইর বিন ইকবাল।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি শিখেছেন কোথা থেকে?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: প্রিত রেজা, জুযইর বিন ইকবাল।মুল হাতে খড়ি যুবাইর বিন ইকবালের কাছে, পরে প্রিত ভাইয়া।

প্রশ্নঃ কোন ধরণের ফটোগ্রাফিতে আগ্রহ বেশি?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ফ্যাশন।

প্রশ্নঃ কথায় কথায় কাজ করছেন আলোকচিত্রি হিসাবে?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: বিভিন্ন ইভেন্টে যেমন ICS 15, মেরিল প্রথম আলো ইত্যাদি

প্রশ্নঃ এমন কিছু আছে যার প্রতি বিশেষ ধুর্বলতা এবং কেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: গান

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা কি কি এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: মানুশকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করা।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: অবসর পাই না। পাইলে ঘুম।

প্রশ্নঃ খেলাধুলা করেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: না।

প্রশ্নঃ নিজেকে এতটা ফিট রেখেছেন, কিভাবে তা সম্ভব?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ফিট!!! আপনার মাথা ঠিক আছে???

প্রশ্নঃ মেকাপ ছাড়া ফটোশুট এর অফার পেলে কি করবেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ফটগ্রাফার হয়ে যাব 😉

প্রশ্নঃ সেলফি তোলার সময়ে সাধারনত মুখ কোন দিকে বাকা করেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ডানে

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: নিরিবিলি যায়গায়। সাথে কাকে নিতে চাই তা তো বলবো না। তবে ইমরান হাশমি হলে মন্দ হয় না। 😉

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: কথা দিয়ে কথা না রাখা।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: মানুশ।ভয়ঙ্কর প্রাণী, বাইরে থেকে চেনা যায় না।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: সেইটা না বলা ই থাক।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: লুকানো ই থাক।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: নিজের সপ্নের সাথে।

প্রশ্নঃ এমন কেও আছে, যাকে বিয়ে করতে পারেন নি বলে কেদেছিলেন? নীরবে ফেলেছিলেন চোখের পানি?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ইমরান হাশমি।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ইমরান হাশমি।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: ইমরান হাশমি। দেখতে চাই ও কি আসলেই এতটা রোম্যান্টীক!!!

প্রশ্নঃ কি খেতে পছন্দ করেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: মানুশের মাথা।

প্রশ্নঃ পছন্দের রঙ?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: গোলাপী, খাইয়া ফেলতে ইচ্ছা করে।

প্রশ্নঃ নিজের ভেতরে কি মুদ্রাদোষ খুজে পান?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: জিদ, রাগ, মুখে প্রকাশ করা ক্ষমতা কম।

প্রশ্নঃ লটারীতে এক কোটি টাকা পেলে কি করবেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: আগে পেয়ে নেই।

প্রশ্নঃ পুরনো প্রেমিকের সাথে দেখা হলে কি করবেন?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: কিছু কি করা উচিত?

প্রশ্নঃ নিজের পাঁচটি বদভ্যাসের কথা বলুন।
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: রাগ,জিদ, আর তো জানি না।

প্রশ্নঃ তেলাপকা নাকি টিকটিকি, কোনটিকে বেশি ভয় পান? নাকি অন্য কিছু?
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: তেলাপোকা।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কোন পরামর্শ
নওরীন মেহনাজ বর্ষা: “NO matter what people say, just do good, be good and stay good.” আর নিজের সংস্কৃতিকে নষ্ট করে কিছু করবেন না।

আরিয়ান রাজ

আরিয়ান রাজ পড়াশোনা করছেন বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটিতে এ.এম.টি। পাশাপাশি তিনি শখের বসে করেন ফটোগ্রাফি। আর এ ফটোগ্রাফি তাকে এনে দিয়েছে জনপ্রিয়তা। মনিপুর স্কুল এবং রাজউক কলেজ এ প্রদর্শিত হয়েছিলো তার ছবি। এ তরুণ আলোকচিত্রির সাথে কথা বলেছেন প্রেস বাংলাদেশ এর প্রতিবেদক যুবাইর বিন ইকবাল। নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য-

Aariyan Raj
আরিয়ান রাজ

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি শুরু করার পেছনের কারণ?
আরিয়ান রাজ: ভালো লাগা বলা যেতে পারে। শখ থেকে আশা পরে দেখলাম পকেট চলে যাই আর আগানো।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে কি কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন?
আরিয়ান রাজ: না কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেয়া হয়নি কখনো কিন্তু মেহেদি আকাশ আর তপন আমাকে অনেক সহযোগিতা করেছেন।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা
আরিয়ান রাজ: টুকটাক ছবি তোলা হচ্ছে, বিবাহের ফটোগ্রাফি বেশী করা হচ্ছে এখন।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
আরিয়ান রাজ: ভালো ছবি তোলা।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আরিয়ান রাজ: একজন ভালো ফটোগ্রাফার।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
আরিয়ান রাজ: মানুষের কথা

প্রশ্নঃ শুরুতে ক্যামেরা কি ছিল?
আরিয়ান রাজ: প্রথমে বন্ধুর ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলা শুরু করেছিলাম।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
আরিয়ান রাজ: আয় করা বলতে এখন নিজের পকেট মানি এইখান থেকেই আসে। আর কি রকম বললে বলবো আমি বেশ ভালো আছি।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
আরিয়ান রাজ: স্নাপি, হোম সুইট হোম, যুগান্তর এর কিছু বিশেষ কলামে আর কিছু অনলাইন ফ্যাশান হাউস।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
আরিয়ান রাজ: এখন অব্দি ভালো।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
আরিয়ান রাজ: মেহেদি আকাশ।

প্রশ্নঃ পছন্দের বিষয় কি এবং কেন?
আরিয়ান রাজ: যদিও আমি ফ্যাশান ফটোগ্রাফি করি কিন্তু আমার পছন্দের বিষয় স্ট্রিট কারণ মানুষের সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায় এবং সামনে থেকে তাদের উপলব্ধি করা যায়। এটা একটা অন্যরকম ভাল লাগা।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
আরিয়ান রাজ: কারোর কিছু খারাপ লাগলে বলতে পারি না যার জন্য পরে সমস্যায় পড়তে হয়।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
আরিয়ান রাজ: বই পড়ি

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
আরিয়ান রাজ: নদীর তীরে বন্ধুদের নিয়ে।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
আরিয়ান রাজ: আপাতত তেমন কিছু নেই যা আমার পছন্দ না তবে ক্লায়েন্ট এর দর কষাকষি আমার ভালো লাগেনা।

প্রশ্নঃ কি দেখে সবচেয়ে বেশি ভয় পান এবং কেন ভয় পান?
আরিয়ান রাজ: বড় কেউ আমার ছবি পছন্দ করলে কারণ তখন মাথার রাখা লাগে সামনে আরো ভালো কিছু আনতে হবে।

পশ্নঃ এমন একটি কথা, যা কেও জানে না এখন পর্যন্ত।
আরিয়ান রাজ: তেমন কিছু নেই আমার সব কথা আমার বন্ধুরা জানে।

পশ্নঃ কোন লুকানো কষ্ট?
আরিয়ান রাজ: আমি সুখি মানুষ।

পশ্নঃ জীবনের সবচেয়ে আনন্দ ও কষ্টের মুহুর্ত কি কি ছিল?
আরিয়ান রাজ: আনন্দের হচ্ছে বাবাকে একবার খুশী করতে পারা আর মায়ের মুখের হাসি আর কষ্ট হচ্ছে নানার মৃত্যু সংবাদ।

প্রশ্নঃ প্রথম প্রেম কার সাথে?
আরিয়ান রাজ: মনে করতে পারছি না।

প্রশ্নঃ প্রথম ক্রাশ কে ছিল?
আরিয়ান রাজ: প্রসূন আজাদ। তার থুতনির তিল আর হাসি, এগুলো দেখলে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারি না।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিঙে যেতে চান এবং কেন?
আরিয়ান রাজ: পিয়া বিপাশা তাকে খুব বেশী ভালো লাগে আমার।

Fashion Photography
আরিয়ান রাজ এর ক্যামেরায় বন্দি মডেল সাদিয়া আফরোজ

জয়া করিম

Joya Korem
Joya Korem

জয়া করিম বাংলাদশের একজন আলোকচিত্রী যিনি তার ছবি দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে বোটানিতে পড়াশোনা শেষ করেছেন। তবে বিশ্বজোড়া তার খ্যাতি এ আলোকচিত্রের জন্য। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন প্রদর্শনীতে ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। তাছাড়া ২০১৫ সালে ঢাকার গুলশানে ‘জয়ার পথচলা’ নামে প্রথম একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী হয়েছে। ২০১৫ সালে ‘জয়ার পথচলা’ নামে প্রথম প্রকাশনা প্রকাশিত হয়। কথা হল দেশের জনপ্রিয় ও অনিন্দ্য সুন্দরী এ আলোকচিত্রীর সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন যুবাইর বিন ইকবাল। নির্বাচিত অংশ-

প্রশ্নঃ কবে সূচনা করেছেন ফটোগ্রাফি?
জয়াঃ তিন বছর হল।

প্রশ্নঃ শুরু করার পেছনের কারণ?
জয়াঃ প্রধানত শখ থেকে শুরু করি, পরবর্তীতে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছি।

প্রশ্নঃ আপনার বর্তমান কর্মব্যস্ততা।
জয়াঃ এই মুহূর্তে আমি শিশুদের নিয়ে কাজ করছি, আশা করছি এই বছর একটি একক প্রদর্শনী করতে পারব।

প্রশ্নঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জয়াঃ আমি মূলত বক্তব্যনির্ভর ছবি তুলি, চেষ্টা করি ছবির মাধ্যমে সমাজ সচেতনতা সৃষ্টি করতে, ভবিষ্যতে এই প্রয়াসটিকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।

প্রশ্নঃ কি ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছেন?
জয়াঃ নারী আলোকচিত্রগ্রাহক হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখিন হয়েছি, তাছাড়া আমাদের সমাজে আলোকচিত্র শিল্প এখনও সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি, ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

প্রশ্নঃ এ থেকে আয় করেন? করলে কিরকম আয় হচ্ছে?
জয়াঃ না, আমি বাণিজ্যিক ছবি তুলি না।

প্রশ্নঃ নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
জয়াঃ আলোকচিত্র হল যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম, একটি ছবির ফ্রেমের মাধ্যমে অনেক না বলা কথা প্রকাশ করা যায়। আমি আমার কাজের মাধ্যমে সমাজের কিছু না বলে কথা প্রকাশ করতে চাই।

প্রশ্নঃ কোথায় কোথায় কাজ করেছেন?
জয়াঃ শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত আছি। তাছাড়া বাংলাদেশের প্রথম নারী সাংবাদিক সাইদা খানমের সাথে যুক্ত আছি।

প্রশ্নঃ ক্লায়েন্ট ফিডব্যাক কেমন?
জয়াঃ ভালো।

প্রশ্নঃ নতুনদের জন্য কিছু পরামর্শ
জয়াঃ নতুনদের নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। আমি মনে করি তারা এই শিল্প গড়ে ওঠার পিছনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। তবে আমাদের সবার উচিত স্বকীয় এবং মৌলিক ছবি তোলা এবং মাত্রাতিরিক্ত এডিট নির্ভরতা কমানো।

প্রশ্নঃ কাকে আদর্শ মনে করেন?
জয়াঃ বাংলাদেশের প্রথম প্রথিতযশা নারী সাংবাদিক সাইদা খানমকে আমি আদর্শ মনে করি।

প্রশ্নঃ ফটোগ্রাফিতে পছন্দের বিষয় এবং কেন?
জয়াঃ আমি মনে করি প্রতিটি ছবি একটি গল্পকে ধারণ করে। জীবনের নানা দিক তুলে ধরা যায় ছবির মাধ্যমে। তাই আমি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে কাজ করি এবং চেষ্টা করি ছবির মাধ্যমে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে।

প্রশ্নঃ নিজের দুর্বলতা এবং কেন একে দুর্বলতা মনে করেন?
জয়াঃ আসলে একজন নারী আলোকচিত্র শিল্পীর জন্য প্রতিবন্ধকতা অনেক বেশি, তাই মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে উঠি, আবার এটাও মনে করি যে, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করার দায়িত্ব তো আমাদেরই।

প্রশ্নঃ অবসরে কি করেন সাধারণত?
জয়াঃ অবসরে বই পড়ি, গান শুনি, প্রদর্শনী দেখি, ঘুরে বেড়াই আর আড্ডা দেই।

প্রশ্নঃ কোথায় ঘুরতে পছন্দ করেন এবং সাথে কাকে নিতে পছন্দ করেন?
জয়াঃ বন্ধু, পরিবার সবাইকে নিয়ে প্রকৃতির কাছাকাছি বেড়াতে ভালো লাগে।

প্রশ্নঃ অপছন্দের বিষয় কি?
জয়াঃ মিথ্যা বলতে ও শুনতে অপছন্দ করি।

প্রশ্নঃ কোন তারকার সাথে ডেটিং যেতে চান এবং কেন?
জয়াঃ শাকিব খান কেননা তিনি নাম্বার ওয়ান। আসলে মজা করে বলছি। ডেটিং কালচারের সাথে এখনো অভ্যস্ত হতে পারিনি তাই বলতে পারছি না।

Saint Martin
প্রকৃতির নৈসর্গিক ভুমি সেইন্ট মার্টিন দ্বীপে তোলা জয়া করিম এর একটি অসাধারণ ছবি।

অধ্যাপক টি এম টি ইকবাল

iqbal
অধ্যাপক টি এম টি ইকবাল

অধ্যাপক টি এম টি ইকবাল যাকে বলা হয় বৃক্ষ প্রেমিক। যিনি সাজিয়েছেন তার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরকে নানা ধরনের বৃক্ষ দিয়ে। এর মাঝে কিছু রয়ছে দুর্লভ। সংগ্রহ করেছেন কিছু গাছ সুদূর আফ্রিকা ও আরব থেকে।

অবসর, পরিবার পরিজনকে ভুলে গিয়ে তিনি সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন গবেষণা আর সবুজের সমৃদ্ধিতে।

জনপ্রিয় এ অধ্যাপক কৃষির উপরে লিখেছেন পাঁচটি বই, যেগুলো পাঠ্যবই হিসাবে ছিল বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে।

স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ব্যাচ হিসাবে সম্পন্ন করেন এস এস সি। ের পরে পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে পড়াশোনা শুরু করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিলাত গমন করেন ও তারপরে স্কটল্যান্ডে পরশনা শেষ করে বাংলাদেশ ফিরে আসেন এবং হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিজীবন শুরু করেন।