Portrait Photography

আত্মা

Fine art nude photography

আমি অন্ধকারে বিলীন হয়ে যাওয়া
আত্মাদের সন্ধান করছি
প্রতিদিন ওদের বীভৎস চিৎকার আমার ঘুম ভাঙায়

তোমাদের ভয় নেই, একটু অপেক্ষা কর
তোমাদের খোঁজ পেলেই –
আলোর দেবতার কাছে পাঠিয়ে দেব

অন্ধকারে থাকতে থাকতে –
তোমাদের চেতনা মরে গেছে
প্রাজ্ঞতার বিলুপ্তি ঘটেছে , বিস্ময়ের অন্ত হয়েছে –
বোধের বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে ।

আর একটু অপেক্ষা কর
তোমাদের পোস্টমর্টেম করেই
আলোর দেবতার কাছে পাঠিয়ে দেয়া হবে

তারপর চেতনা , বোধ ও বিস্ময়ের আত্মাকে ফুঁকে দিয়ে
ছেড়ে দেয়া হবে পৃথিবীর পথে ।

হুমায়ুন কবির তালুকদার

Press Bangladesh

চন্দ্রলোকের রুপকথা

চাঁদের সাথে সূর্যের কি দেখা হয়েছে কখনো!
প্রশ্ন জাগতেই,গ্রাস করে ধীবর নিমগ্নতা
ভেসে উঠে চোখের তলায় জানা অজানা
ভালবাসার কাহিনীগুলো,কিভাবে
একাকিত্বের হাত ধরে প্রদক্ষিণ করে
রাত গুনে গুনে চাঁদের বয়স বাড়ছে
বেড়েছে স্বপ্নের ওজন, শুধু অতিক্রান্ত হয়নি,
অতিক্রান্ত হয়নি সূর্যের সীমানা
সূর্য কে ঘিরে যে প্রেমপুঞ্জ,চাঁদ
তার খুব সন্নিকটে
ধ্রুবকের মত দৃষ্টি, গভীর একাগ্রতায়
ঠাঁই পেয়েছিল প্রেম, শুধু দেখার লোভে
একটিবার স্পর্শের লোভে,কেমন
হয় সেই অনাবিল মাধুর্যের স্নিগ্ধতা,
ঝলসে গেছে চন্দ্রলোকের রুপকথা বিভাকরী আগুনে

জেনিফার স্মৃতি

Bangladeshi Wedding Photographer

Love

প্রেমের নেতিকথা


নাদের যে কাদের হবে-
কাদের বাসবে ভাল?
কারাই বা ধরবে হাল-
নাদেরের ভবিষ্যৎ দিন গুলো।
কারও নাক সুন্দর তো কারও ঠোট,
কারও চোখের দিকে তাকিয়েই নাদের খায় হোঁচট।
কারও মুচকি হাসিতে টোল পড়ে,
কেউ দিবারাত্রি টোল নিয়েই ঘুরে।
কারও ছোট ধাপের চলন,
কারও মিষ্টি গন্ধের ব্যাপন।
কারও লম্বা কেশ কালো,
নাদেরের লাগে ভাল।
নাদের তবে কাদের হবে –
কাদের বাসবে ভাল?
কারা তবে রাখবে বহাল –
নাদের বংশের আলো।
ভাল লাগা গুলো বাসা বাঁধেনি,
ভালবাসা নামক মরীচিকা নাদের খুজে পায়নি।
দিন গেছে মাস গেছে চলে গেছে কয়েক বছর,
প্রেমের ভুত এখনো ছাড়েনি তার আছর।
নাদের ধ্যান করেছে অনেক-
পড়েছে শত কাব্যগাঁথা,
ভালোলাগা থেকে ভালবাসা –
এগুলো সব কথার কথা।
নাদের তবে কাদের হবে?
কাদের হওয়ার কথা?
প্রেম ভালবাসা সব ভাঁওতাবাজি –
নাদের আর মাথা ঘামায়না অযথা।
তাই প্রেমের গল্প শুনলে নাদের-
জানিয়ে দেয় “প্রেমের নেতিকথা”

-কুদরতি ইসলাম কিরন

Dhanmondi Lake

পরাবাস্তব এই নির্জনতা

এপারে খড়খড়ে মাঠে একটা সবুজ ঘাস উদাস গরুকে খেয়ে ফেললো
ওপারে পাহাড়টি বুঝল না সমতলের বিস্তীর্ণ রুক্ষ যন্ত্রণা নিয়ে চলা নদীটিকে
ভাবনার দোটানায় একটা দুরন্ত ল্যাজঝোলা পাখির
চোখা ঠোঁট থেকে খসে পড়ল আমিষসমৃদ্ধ একটি তারা
যদিও প্রতিজ্ঞাবদ্ধ সবার চোখ এড়ানোর কথা ছিল
তদুপরি পক্ষীশ্রেণী যথাযথ স্বভাবে বেসুরো উপহাসে ডেকে উঠল!
নিয়মানুযায়ী তারাটির পয়সা হয়ে পড়ার কথা ছিল
রহস্যনায়ক শিশুটির সব্যসাচী প্রবণতায়;
বেমানান রসিকতায় ছোঁ মেরে পড়ন্ত বস্তুর হিসাব
গড়বড়ে করে শূন্যে অস্থির ঝুলে রইল ফিঙে পাখির সাদা ছায়া!
তখন শঙ্কাহীন শীতের মেঘে অযাচিত কুয়াশা এসে শিশিরের মত
বুট ঠুকে শৈত্যপ্রবাহের ডাকাতির গল্প শোনায়
যেহেতু এ সংক্রান্ত পরিক্রমা ছাতিমের সামলানোর কথা
অতএব আড়মোড়া ভেঙ্গে মাথা চুলকায় নির্বোধ ডালগুলো!
অথচ কচুরিপানাপূর্ণ অবহেলিত ত্রিমাত্রিক আকাশ এসবই
নিয়মিত লক্ষ্য করে অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যায় শুকিয়ে চৌচির ফেটে গিয়ে
দাউদাউ নীলিমায় সূর্যের বুকে তেষ্টা বাড়ায়
অলক্ষ্যে ছ্যাত করা শীতলতায় আর্কটিকের নির্বাসিত বরফ
টলটলে দুঃখকে স্বাগত জানিয়ে সবকিছু বেমালুম চেপে গিয়ে
গড়িয়ে উঠে যায় সহমরণ রথে
এখানে কোন অবকাশযাপন নেই, ধুম্রবাজির হৈহুল্লোড় নেই,
ছন্দ উপচানো কাব্যসমগ্র নেই!
এখানে আছে পাঁচশ কোটি বছর ধরে উত্তর থেকে দক্ষিণে
ক্ষয়ে যাওয়া মাটির প্রলেপ আর প্রলেপের আবরণে স্তরীভূত
বিস্ময়াহত মানবের প্রিয় পাপসমৃদ্ধ বর্ণীল কঙ্কাল।

-হাফিজ আসাদ অঙ্কন

Rainy day

কবিতার প্রত্যাবর্তন

সংক্রামিত এক একাকিত্তের প্রান্তে দাঁড়িয়ে!
আপন আকাশের চাঁদ,এখন আর আমার নামে জোৎস্নার টিকিট বিলি করেনা,
সুখস্বপ্ন বরাবরি বিপরীত মেরু
মরীচিকার মত সরে সরে যায়
আমার বন্ধু নীল,প্রশ্ন করেছিল
কেন! জীবন নিয়ে খেলতে যাচ্ছ
এলোমেলো অগোছালো খেলা?
অল্প হেসে বলেছিলাম, বড়ই নেশাগ্রস্ত আমি!
প্রেম আমার শিরায় শিরায়
তুমি কি করে বুঝবে নীল
যে মেঘ, থমথম করছে মাথার উপর
কাল পর্যন্ত ছিল স্নিগ্ধ শিশির।
আমি আজ চাঁদ চিনিনা,আর না জোৎস্না
এক ছোট প্রদীপ জ্বেলে ঘরে,
আপন জোনাকির অপেক্ষায়
মাঝে মাঝে, কলম ফেলে নারী হয়ে উঠি
দুমড়ে মুচড়ে যখন ভিতর টা বড়ই ক্লান্ত,
তখন অহংকার গ্রাস করে,কলমের
মালিক বলে নিজেকে দাবী করি,
আঁচড়ে আঁচড়ে কাটি নিকৃষ্ট আবেগের দাগ,
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা,কালরাতের
বাসি ভাতের মত পাতিলের তলায়
পড়ে থাকা কিছু সংলাপ,
জানো তো! কষ্ট না পুষলে কবিতা হয়না,
আমার আবার প্রেমশব্দ বেশিদিন পেটে সয় না,
অবাক প্রত্যাবর্তন এর সুর ধরে
ফিরেফিরে পুনর্জন্ম নেই আমার কবিতা।

– জেনিফার ইসলাম স্মৃতি

Bangladesh Air Force

ফাঁসির মঞ্চে রাজাকার


সেই ৭১’ এর মাতাল খুনী
ফিসফিস করে কি যেন বলছে ,
হয়ত নতুন কোন ষড়যন্ত্র কিংবা বিষাক্ত ছোবলের প্রস্তুতি ।
ওই তো তারকাখচিত টুপিওয়ালা
হাতে সেই মেরুন রক্তে মাখা ছোরা ।
সেই উন্মত্ত রক্তচোষা
আজো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় রাজপথে ,
বিপুল জনসভায় বক্তৃতা দেয় তুমুল করতালির মাঝে ।
কখনো সখনো ফুলেতে গলা যায় ডুবে
এদের ভাবখানা এদেশের সেবা করতে পারলে জীবন হয় ধন্য ।
এত সহজে কি সব ভুলেছে বাঙ্গালী !
এত সহজে কি ঢেকে যাবে
একটার পর একটা ইটের দেয়ালে গাঁথানো ইতিহাস !
তা কী করে হয় !
‘৭১-এর লাশ কুড়ে কুড়ে খাওয়া শকুনগুলো নাকি
আমীরের পদপ্রার্থী ;
ঢং করার সাহস পায় কোত্থেকে ?
ন্যাকামীপনা অসহ্যতেও আমরা নিশ্চুপ ।
ঐ শালারা এদেশের বুকে রাজনীতির হালচাষ করে ।
সুযোগ নিয়ে ইসলামের নামে হত্যা করে নিরীহ প্রাণ ।
আল্লাহর নামে শপথ করে রুমালে মেরুন রঙ ঢাকে ।
ইসলাম মানে তো শান্তি, পবিত্র ।
কিন্তু ওরা তো ইসলামকেও পবিত্র রাখে নি ।
আল্লাহ্কে নোংরা করতে চায় ।
আর আমরা বাঙ্গালীরা এখন
এদেরকে আস্কারা দিয়ে মাথায় তুলেছি ,
ভালোবেসে দিয়েছি নাগরিকত্ব ।

ইদানিং শোনা যায় শ্লোগান ,
“আমরা সবাই তালেবান
বাংলা হবে আফগান ” ।
ওই তো এদেশকে নতুন আফগানিস্তান
কিংবা নতুন করে পাকিস্তানের জন্ম দেওয়া
এদের নতুন পরিকল্পনা ।
তারপর ফলাফল এসে দাঁড়াবে শেষে এরকম ,
আমাদের প্রিয় ভবিষ্যত বংশধরগণ আমাদেরকে বলবে ,
“আপ কেয়া মাংটা হ্যায়?”
তখন আমাদের পাল্টা জবাব কি হবে ?
নাকি সেবারও থাকব নিশ্চুপ আজকের মতোন ।
এখনও সময় আছে ,
এসো বিবেকবান বাঙ্গালী ,
এসো একত্রিত হই ।
রাজাকার, আলবদরের নীল নকশা করি ছাড়খার ।
এসো চিৎকার করি ,
“ আগুন জ্বালো আগুন জ্বালো ” ।
তবে আমরা সুস্পষ্ট দেখতে পাব এ বাংলার গর্বিত হাসি ।
ফাঁসির মঞ্চে তখন কতগুলো রাজাকারের লাশ ঝুলবে ,
তখন বাঙালীরা উত্তেজনায় চিৎকার করে বলবে ,
“ রাজাকার নিপাত যাক ।”


অয়ন আহমেদ