কেবল বাংলাদেশই এশিয়ায় চতুর্থ ইনিংসে ৪০০+ করেছে

cricket ball

এশিয়ার মাটিতে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড বাংলাদেশের। ২০০৮ সালে শ্রিলঙ্কার বিপক্ষে ৪১৩ রান করেছিল। আশরাফুল করেছিলেন ১০১। তবে ম্যান অফ দা ম্যাচ পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসে ২৬ রান করলেও পরের ইনিংসে করেন ৯৬ রান। আর প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট ও পরের ইনিংসে ১টি উইকেট লাভ করেন।

চতুর্থ ইনিংসে আশরাফুল এর ১০১ এবং সাকিব এর ৯৬ রানই বাংলাদেশ দলকে এনে দিয়েছিল এ রেকর্ডটি। রেকর্ড গড়া এ ম্যাচটি অবশ্য শ্রীলঙ্কা জয় পেয়েছিল। ১০৭ রানে। আর এ জয়ের এছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল মুরালিধরনের। ম্যাচে ১০ উইকেট ছিল।

এশিয়ার মাটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড পাকিস্তানের। শ্রীলঙ্কার মাটিতে তারা করেছিল ৩৮২। চতুর্থ ইনিংসে ইউনিস খান এর ১২২ রান করেন।

আর এ রেকর্ডটি বিশ্বের মাঝে ১২ নম্বরে রয়েছে। তালিকার প্রথমেই রয়েছে ইংল্যান্ড। ৬২৫ রান করেছিল দলটি ৫ উইকেটে। সাল ছিল ১৯৩৯ সাল। চতুর্থ ইনিংসে গিব ১২০, এনরিক ২১৯ এবং হ্যামন্ড ১৪০ করেছিল। ম্যাচটি হয়েছিল ডারবানে।

– সুত্রঃ ইএসপিএন

অবিস্মরণীয় জয় বাংলাদেশের

এক কথায় অবিস্মরণীয় জয়। কোন কিছুর সাথে তুলনা হতে পারে না এ জয়ের। ক্রিকেট খেলায় নাকি ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলায়, আর রঙ বদলের এমন ম্যাচে বাংলাদেশ রাঙ্গিয়ে দিল বিজয়ের রঙ। বাংলাদেশের ইনিংস এর মাঝে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ হয়ত ১৫০ ই করতে পারবে না। কিন্তু নাসির এর মোসাদ্দেক এর কল্যাণে ২০০ রান যখন নিশ্চিত, এমন সময়ে মোসাদ্দেক এর বিদায় হলে অধিনায়ক মাশরাফি আসেন। ৪৪ রান করেন ২৯ বলে, যাতে ছিল তিনটি বিশাল ছক্কা। আর এতেই ইংলিশদের সামনে টার্গেট দেয়া হল, ২৩৯ রানের। ইংল্যান্ডের মত দলের জন্য এমন টার্গেট কিছুই না। কিন্তু দিনটি ছিল, মাশরাফির, দিনটি ছিল বাংলাদেশের।

তৃতীয় ওভারেই ভিন্সকে ফেরালেন ম্যাশ, পরের ওভারে সাকিব ফেরালেন ডাকেট কে শূন্য রানে। সপ্তম ওভারেই আবারও ম্যাশের আঘাত, ফেরালেন রয় কে। নবম ওভারে প্যাভিলিয়েন ফিরে গেলে স্টোকস, এবারও ম্যাশ। এরপর একে একে সকলেই ফিরে যাচ্ছিলেন। শেষ দিকে একটু প্রতিরোধের চেষ্টা করল আদিল ও বল। কিন্তু তা শুধুই ব্যবধান কমাতে পেরেছে।

অবশেষে ৪৪ তম ওভারের চতুর্থ বলে ম্যাশকে তুলে মারতে গিয়েছিল জ্যাকব বল। কিন্তু তা জমা পড়ল ফিনিশার নাসির এর বিশ্বস্ত হাতে। আর রচিত হল বাংলাদেশের এক অবিস্মরণীয় জয়। ২০৪ রানে শেষ হল ইংলিশ ইনিংস। ৩৪ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ইংলিশ দল।

কাগজে কলমে হয়ত লেখা থাকবে, ৩৪ রানের পরাজয়। কিন্তু কিভাবে খাদের কিনারা থেকে বাংলাদেশ ফিরে এসেছে। আর সেই খাদে আবার ইংলিশদের ফেলে দিয়েছে, ম্যাশ, তাসকিন আর সাকিবদের গগনবিদারী চিৎকার কি লেখা থাকবে সেখানে? সেখানে কি লেখা থাকবে, ম্যাশের অতিমানবীয় অধিনায়কোচিত আচরণ? এ ম্যাচের পর যদি বলা হয়, ম্যাশের তুলনা শুধুই ম্যাশ, সেটা কি ভুল হবে? যদি কাওকে জিজ্ঞাসা করা হয়, অধিনায়ক এর সংজ্ঞা কি? এর উত্তরে যদি বলা হয়, ম্যাশ, সেটা কি খুব বাড়াবাড়ি হবে?

উপেক্ষিত নাসির, স্কোয়াডে থাকেন, কিন্তু একাদশে সুযোগ দেয়া হয় না। ফিনিশার খ্যাত নাসির এর জন্য তা কেবলই অবমাননা। পাপন সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দিলেন, কার জায়গায় খেলবেন? সোশ্যাল মিডিয়ায় চারদিক থেকে সকলেই সোচ্চার, তারা নাসিরকে চায়। অবশেষে সুযোগ পেলেন নাসির। এক বছর পরে খেলার সুযোগ পেয়ে জানিয়ে দিলেন, নির্বাচকরা কতটাই অবিচার করেছেন তার উপরে। যখন একটি রানকেও অনেক অনেক বেশি প্রয়োজন মনে হচ্ছিল, তখন তিনি করলেন অপরাজিত ২৭, এবং তা খলেলেন ২৭ টি বল খেলেই। সেই সঙ্গে দিলেন অধিনায়ক ম্যাশকে যোগ্য সঙ। বোলিং এর সময়ে আরও উজ্জ্বল তিনি। ১০ ওভার বলে করে একটি উইকেট পেলেন এবং তাও সেটি মঈন আলীর মূল্যবান উইকেট। সঙ্গে একটি মেডেন। এমনকি তার দশ ওভারে মাত্র একটি বাউন্ডারি পেয়েছে ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। আর সব শেষে জ্যাকব বলের ক্যাচ। যেভাবে ম্যাচটি ফিনিশ করলেন, তাকে বলাই যায়, দ্যা গ্রেট ফিনিশার।

মাত্র ২৯ বলে ৪৪ রান আর ২৯ রানে ৪ উইকেট, অধিনায়ক এর এমন প্রদর্শনীর পরে ম্যান অফ দা ম্যাচ এর পুরস্কারটা একমাত্র তার হাতেই মানায়।

স্কোরঃ www.espncricinfo.com