ইফফাত ই ফারিয়া ও তার প্যাস্টেলস এর গল্প

entrepreneur
ইফফাত ই ফারিয়া (রঙ)

সফল নারী উদ্যক্তা (Woman Entrepreneur) ইফফাত ই ফারিয়া ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে প্যাস্টেলস নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তিনি সাধারণত নিজের ডিজাইন করা পোশাক পরিধান করতেন আর এতে তিনি পেতেন সকলে প্রশংসাও। এরপরে অনেকেই তার কাছ থেকে নকশা করে জামা বানাত। এভাবেই তিনি প্যাস্টেলসের স্বপ্ন দেখা শুরু করেন। ২০১৪ সালে উচ্চশিক্ষার্থে মেলবোর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর সব কাজ শেষ করে অবসর সময়েই শুরু করলেন প্যাস্টেলস। শুধুমাত্র ৬০০০ টাকা মূলধনের সেই প্যাস্টেলসই ফারিয়া’র জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াল। এক বন্ধুর হলুদের পোশাক তৈরি করা থেকে শুরু করে তার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়, এরপর আর তাকে পেছনে ফিরতে হয় নি। বিয়ে কিংবা উৎসবের গাউন ডিজাইন করেন তিনি।

ছোট পরিসরে শুরু করা কাজ দিয়ে শুরু হয়ে প্যাস্টেলসের আজ আছে নিজস্ব উৎপাদন কেন্দ্র যেখানে আট জন কর্মচারী প্রতিনিয়ত কাজ করে। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে তিনি তৈরি করেছেন এ উৎপাদন কেন্দ্র। অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়েছে।তাদের ফেসবুক পেজটি হ্যাক হয়েছে, কিন্তু থেমে থাকেন নি ফারিয়া সদা হাস্যজ্জল এ সফল নারী। বাণিজ্যিক লাইসেন্স পেয়ে এখন আরও বড় পরিসরে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্বপ্নের প্যাস্টেলস প্রসঙ্গে রঙ বলেন, ‘আমার ডিজাইন করা পোশাক পরে একজন নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পদার্পণ করবে ভাবলেও একটা শিহরণ অনুভব করি। রঙিন পোশাকে হাসিখুশি তরুণীরা একেকজন পোশাকের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে বহুগুণ। দেশের বাইরে থেকেও আসে প্রচুর অর্ডার।

বৃস্টিভেজা সন্ধ্যায় ব্যালকনিতে এক হাতে নজরুল এর একটি কবিতার বই নিয়ে আর কফি’র কাপে চুমুক দিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক কোনো ফ্যাশন উইকে প্যাস্টেলসের পোশাক পরে সুপার মডেলরা হাঁটবে, এই স্বপ্ন দেখেন তিনি। আর এমন স্বপ্ন দেখতেই তিনি পারেন। তার বন্ধুরা জানালেন, রঙ তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

এ ছাড়াও তিনি কাজ করছেন, ইউনিসেফ, জাস্টিস ফর ওম্যান ফাউন্ডেশন, সেভ দ্য চিল্ড্রেন্স অস্ট্রেলিয়া, ন্যাশনাল চিল্ড্রেন্স টাস্ক ফোর্স, লাইটার ফাউন্ডেশন সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে। এ নারী সর্বদা স্বপ্ন দেখেন, একটি সুন্দর পৃথিবীর। যেখানে থাকবে না, কোন অন্যায়, অবিচার। এমন একটি পৃথিবী, যেখানে সুপ্রতিষ্ঠিত হবে একজন নারী’র অধিকার। বিভিন্ন নারী উদ্যক্তাদের নিয়ে বর্তমানে কাজ করছেন তিনি। জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাক এবং চ্যানেল আই অনলাইন পত্রিকায় নিয়মিত ফিচার লেখেন দেশের বিভিন্ন নারী উদ্যক্তাদের নিয়ে।

wedding dairy

নারী উদ্যোক্তা তাবাসসুম রহমান এর সৃষ্টি কুইকার বিডি

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারী মানেই ঘরকন্যার দেখা শোনা করবে। চার দেয়ালের ভিতরে থেকে স্বামী সন্তানের দেখা শোনা করবে। কিন্তু জাতীয় কবি নজরুল তো বলেছেন, অর্ধেক কাজ করিয়াছে নারী। তাহলে সারা বিশ্বেই যখন নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে, রেখেছে তাদের প্রতিভার স্বাক্ষর, সেখানে আমাদের দেশের নারীরা কেন পিছিয়ে থাকবেন?

অনেক নারীই উঠে এসেছেন তাদের কাজের মাধ্যমে। কেও গায়িকা, কেও নায়িকা। আবার কেও অভিনেত্রি। অনেকেই নিয়েছেন ব্যবসার মত কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাদের অনেকেই দেখেছেন সাফল্য। অনেকেই আবার সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে আরোহণ করেছেন। অনেকেই আবার এগিয়ে যাচ্ছেন দুর্দান্ত গতিতে। এরকমই একজন নারী তাবাসসুম রহমান

স্নাতক পাশ করার পরেই বিয়ে করে যখন ঘরের ভিতরে বসে ছিলেন, তিনি একে দেখেছেন সময় অপচয় হিসাবে। কিছু একটা করা দরকার। বেশ কিছু জিনিসের পরকল্পনা করেছিলেন।

অনলাইন কুরিয়ার সার্ভিস “কুইকার বিডি” প্রতিষ্ঠা করেন এ নারী উদ্যোক্তা। ২০১৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এ সার্ভিস। প্রথমে খুব ছোট পরিসরে কাজ শুরু করলেও এক বছরে তা বিস্তৃতি লাভ করেছে অনেকাংশে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ও বরিশালে রয়েছে তাদের শাখা অফিস। তার ব্যবসায়িক সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসাবে তিনি বেছে নিয়েছেন কাস্টমার স্যাটিসফ্যাকশন। তাছাড়া আরা ক্রেতদের দিয়ে থাকেন বিভিন্ন অফার ও মূল্যছাড়। শুরুটা হয়েছিলো মাত্র একজন ডেলিভারি ম্যান দিয়ে। তাবাসসুম দেখাশোনা করতেন একাউন্টস ও কাস্টমার কেয়ার। এখন ১২ জন ডেলিভারি ম্যান এবং ২ জন পিকা আপ ম্যান এবং ১ জন কাস্টমার কেয়ার কর্মরত রয়েছেন এখানে। পঞ্চাশ হাজার টাকা মূলধন দিয়ে তিনি শুরু করেন এ যাত্রা।

বর্তমানে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ব্যস্ত রেখেছেন এ কাজে। সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে ওঠার নেশা তাকে এমনভাবে পেয়ে বসেছে, যাতে অবসরের কোন চিন্তাই তিনি এখন করতে পারেন না। সফল নারী উদ্যোক্তা ইফফাত ই ফারিয়া বলেন, যদি এরকম নেশা সকল নারীদের পেয়ে বসে, তাহলে আমাদের দেশটা পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোর তালিকায় উপরের দিকে থাকবে।

স্বামী ওয়াহিদ মুরাদ তাকে একাজে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন। সন্তানদের সুন্দরভবাবে লালন পালন করে তিনি যেভাবে তিনি ব্যবসায় নিজেকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন, তা অন্য আট-দশজন নারীদের কাছে রীতিমত ইর্শনীয় ব্যাপার।