নিউজিল্যান্ড এর মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত পঞ্চাশ জন

নিউজিল্যান্ড এর ক্রাইস্টচার্চ শহর এর আল নুর মসজিদ এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় পঞ্চাশ জন নিহত হয়েছেন। নিহত পঞ্চাশ জন এর মাঝে দুটি শিশু রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরে লিনউড মসজিদে দ্বিতীয় হামলা হয়। সন্ত্রাসী ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্ট একাই এ হামলা করেন লাইসেন্সকৃত স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ব্যবহার করে। সে এ ন্যাক্কারজনক হামলার ভিডিও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে। আল নুর মসজিদে আনুমানিক তিনশজন এবং লিনউড মসজিদে একশজন মুসল্লি জুমুয়ার নামাজ আদায় করছিলেন।

আল নুর মসজিদ থেকে পঞ্চাশ জন এর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের শল্য বিভাগের প্রধান গ্রেগ রবার্টসন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আহত ৩৪ জন এখনো ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং বারজন এর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন।

নিউজিল্যান্ড এর প্রধানমন্ত্রি জ্যাকিন্দা আরড্রেন এ ঘটনাকে নিউজিল্যান্ড এর ইতিহাসের অন্যতম কালো দিন হিসাবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড এ ঘটনার সঠিক বিচার করবে। নিউজিল্যান্ডের অন্যান্য মসজিদে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এ ঘটনার জেরে ইংল্যান্ড ও আমেরিকাতেও নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা। এতে অভিবাসী ও মুসলিমদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

মসজিদের ভেতরে যখন গোলাগুলি হচ্ছিল, ঠিক ওই সময়ে মসজিদে প্রবেশ করছিল নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। একজন নারী তাদের জানান যে মসজিদের ভেতরে গোলাগুলি হচ্ছে এবং তাদের তিনি সরে পরতে বলেন। সাথে সাথেই ক্রিকেট দল বাসে উঠে পরে স্থান ত্যাগ করে। ক্রিকেটার তামিম ইকবাল জানান, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য তারা প্রাণে বেচে গিয়েছেন। এ হামলার পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ৩য় টেস্ট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাংলাদেশ দল দেশে ফিরে আসে। এ হামলার সময়ে বাংলাদেশ দলকে কোন ধরণের নিরাপত্তা দেয়া হয় নি। এজন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সমালোচনায় মুখর হয় সকলেই। এবং পরে সংবাদ সম্মেলন করে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, ভবিষ্যতে বিদেশ সফরের সময়ে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবে।

হামলার দশ মিনিট পূর্বে ব্রান্টন ৭৪ পৃষ্ঠার একটি মেনুফেস্টা (কর্মসূচির ঘোষণাপত্র) প্রধানমন্ত্রিকে পাঠায়। এতে সে জানিয়েছে, নিউজিল্যান্ড সাদা মানুষদের জন্য। এখানে অন্য কারও স্থান নেই। এজন্যই তিনি নিজে থেকে এ হামলা করেছেন।ব্রেন্টন টেরেন্ট তার শুক্রবারের রক্তক্ষয়ী হামলার কারণ ম্যানিফেস্টোতে বিস্তারিত তুলে ধরেছে। এতে বলেছে, আরেক সন্ত্রাসী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিকের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিউজিল্যান্ডে হামলা চালিয়েছে সে। একই সঙ্গে সে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগান এবং লন্ডনের মেয়র সাদেক খানের মৃত্যু কামনা করেছে। ওই ম্যানিফেস্টোর নাম দিয়েছে সে ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউজিল্যান্ড প্রধানমন্ত্রিকে ফোন করেন এবং তিনি যে কোন ধরণের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমেরিকা নিউজিল্যান্ড এর পাশে আছে। তিনি নিজের টুইটারে লিখেছেন ”
That we stand in solidarity with New Zealand – and that any assistance the U.S.A. can give, we stand by ready to help. We love you New Zealand! “

মার্কিন অভিনেতা জিম ক্যারি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন। এ ছবিতে তিনি লিখেন, My heart is with you New Zealand. My tears are for all of us.

পাকিস্তানি সাবেক ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই তামিম ইকবালকে ফোন করে বিশদ খোঁজ খবর নেন।

ভারতীয় ক্রিকেটার ভিরাট কোহলিও টুইটারে এ হামালার নিন্দা জানিয়ে লিখেন, “Shocking and tragic. My heart goes out to the ones affected by this cowardly act at Christchurch. Thoughts with the Bangladesh team as well, stay safe.”

ভারতীয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মা টুইটারে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন “Heartbreaking news coming out from New Zealand. What’s happened to humanity?”

আল নূর মসজিদ এর নিকটে অস্থায়ী সৌধে ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছে নিউজিল্যান্ড এর সর্বস্তরের মানুষ।

সন্ত্রাসী ব্রান্টনকে আদালতে নেয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে আদালতে সে নিশ্চিন্ত ছিল। তার মুখে ছিল হাসি এবং ফটোগ্রাফাররা তার ছবি নেয়ার সময়ে শ্বেতাঙ্গরাই শ্রেষ্ঠ, এ চিহ্ন প্রদর্শন করে।


Related posts

Leave a Comment