Mustafiz

আই পি এলে ইনজুরির কবলে মুস্তাফিজ

Mustafiz
মুস্তাফিজুর রহমান

আই পি এল এর শেষ কোয়ালিফায়ার ম্যাচের আগে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়েছেন কাটার মাস্টার মুস্তাফিজ। এবারের আই পি এলে প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছেন তিনি। বাদ পরার অভিজ্ঞতা তার নেই। তবে ইনজুরির কারণে না খেলার অভিজ্ঞতা অবশ্য এবারই প্রথম নয়, টি ২০ বিশ্বকাপের প্রথম ৪ টি ম্যাচ তিনি খেলতে পারেন নি পেস বোলারদের জন্ম শত্রু এ ইনজুরির কারণে। তবে ডাক্তার জানিয়েছেন, চোট খুব গুরুতর নয়। আজ জিতলে ফাইনাল মাচেই তাকে পাবার আশা করছেন দলের ফিজিও।

পুরো ক্রিকেটবিশ্ব আজ তাকিয়ে ছিল মুস্তাফিজের ৪ ওভারের জাদু দেখার জন্য। দলের অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার এর অন্যতম ভরসা ছিলেন যে তিনি। যদিও তার চেয়ে একটি উইকেট বেশি ভুবেনশ্বর কুমারের, কিন্তু ইকনমি রেট তার ধারে কাছেও নেই। তবুও ইনজুরির উপরেত আর কারও হাত নেই। তিনিও মেনে নিয়ছেন। তার পরিবর্তে দলে এসেছেন বোল্ট। তবে আশার প্রতিদান দিতে পারেন নি। ৪ ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান তবে রাইনাকে ফিরিয়েছেন মাএ ১ রানে।

Press Bangladesh

ক্রিকেটের সেরা একাদশ

বিশ্ব একাদশ
ইমরান খান (অধিনায়ক)
কুমার সাঙ্গাকারা (উইকেট রক্ষক)
শচীন টেন্ডুলকার
সাইদ আনোয়ার
মোহাম্মাদ ইউসুফ
রিকি পন্টীং
মাহেলা জয়াবর্ধনে
ওয়াসিম আকরাম
মুস্তাফিজুর রহমান
মুত্তিয়া মুরালিধরন
সাকিব আল হাসান

আম্প্যায়ার
বিলি বাডেন
স্টিভ বাকনর

স্টেডিয়াম
লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড

পাঁচজন ব্যাটসম্যান, পাঁচজন বোলার ও একজন উইকেট রক্ষক নিয়ে সাজানো হয়েছে এ বিশ্ব একাদশ। ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন ভারতীয় লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকার। আর এর পরেই পাকিস্তানী লিজেন্ড সাইদ আনোয়ার। আর এক পাকিস্তানী লিজেন্ড মোহাম্মাদ ইউসুফ রয়েছেন তালিকার তিনে। সাবেক অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টীং ও শ্রীলংকান লিজেন্ড মাহেলা জয়াবর্ধনে যথাক্রমে চার ও পাঁচে রয়েছেন।

কুমার সাঙ্গাকারা পেয়েছেন সর্বোচ্চ ভোট ইউকেট রক্ষক হিসাবে। ইউকেট রক্ষক হিসাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিলেন যথাক্রমে গিলক্রিস্ট ও মঈন খান।

পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন সুইং জাদুকর ওয়াসিম আকরাম। এর পরে ছিলেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান ও বাংলাদেশের বোলিং বিস্ময় মুস্তাফিজুর রহমান। মুত্তিয়া মুরালিধরন ছিলেন স্পিনারদের মাঝে সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিলেন যথাক্রমে ভেট্টরি ও শেন ওয়ার্ন।

অলরাউন্ডার এর তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন ইমরান খান ও সাকিব আল হাসান ও জ্যাক ক্যালিস।

অধিনায়ক হিসাবে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন, ইমরান খান। তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে ছিলেন যথাক্রমে স্টিফেন ফ্লেমিং ও রানাতুঙ্গা।

দর্শক ভোটে সবচেয়ে এগিয়ে দু আম্প্যায়ার বিলি বাডেন ও স্টিভ বাকনর।

Press Bangladesh

ম্যাজিক্যাল মুস্তাফিজ

আই পি এল এর আঠারতম ম্যাচে পাঞ্জাবের বিপক্ষে অসাধারণ বল করেছেন বাংলাদেশের বোলিং বিস্ময় মুস্তাফিজ। প্রথম ওভার মেডেন। অথচ উকেটে ছিলেন মানান ও শন মার্শ। মুস্তাফিজের বল কোন রকমে ঠেকিয়ে রান নিতে ছেয়েছিলেন, কিন্তু ধাওয়ানের সরাসরি থ্রোতে রান আউট। পরের ওভারে মাত্র এক রান দিয়ে শন মার্শের উইকেট।

হেনরিকসকে মারতে গিয়ে বল উঠিয়ে দেন ম্যাক্সওয়েল কিন্তু বল ধরার জন্য বাউন্ডারি লাইনে দারিয়ে ছিলেন ম্যাজিক্যাল মুস্তাফিজ। একটি অসাধারণ ক্যাচ।

শেষ ওভারটা অবশ্য বেশ খরুচে ছিল। দিয়েছেন ৬ রান! সাথে নিখিলের উইকেট। কেন না, আগের তিন ওভারে যে দিয়েছেন, মাত্র তিন রান, সাথে একটি মেডেন। ইকোনমি রেট ২.২৫!

আই পি এল ২০১৬ এর সেরা পেসার কে? ৭১ শতাংশ দর্শক ভোটে মুস্তাফিজ তালিকার সবার ওপরে। ২১ শতাংশ ভোট পেয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ম্যাক্লেনগন। ফকনার ও জনসন দুজনই পেয়ছেন ৪ শতাংশ ভোট।

Mustafiz

মুস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্যে সানরাইজার্সের জয়

Mustafiz
দলের মধ্যমণি মুস্তাফিজুর রহমান

টস জিতে গুজরাটকে ব্যাটিং করতে পাঠায় সানরাইজার্স। আর এরপরেই শুরু হল, মুস্তাফিজের বোলিং নৈপুণ্য। উইকেট পেয়েছেন মাত্র একটি, কিন্তু এমনভাবে চেপে ধরেছিলেন, যে কোনোভাবেই রান নিতে পারছিলেন না গুজরাটের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপ। নিজের করা ষোলতম ওভারে জাদেজাকে যেভাবে বোল্ড করেছেন, সেটি তাকে কতদিন পোড়াবে, তা একমাত্র সময়ই বলে দেবে। ইকোনমি রেট ৪.৭৫। আর এটাই বলে দিচ্ছে, আই পি এল এর মত টুর্নামেন্টে কতটা কৃপণ এ বাংলাদেশের রত্ন। শুধু একটি চার দিয়েছেন। কোন ওভার বাউন্ডারি দেন নি। এখন পর্যন্ত আই পি এলে ১২ ওভার বলে করে দিয়েছেন মাত্র একটি ওভার বাউন্ডারি।

Mustafiz

মুস্তাফিজের অন্যন্য কৃতিত্ব

Mustafiz
দলের মধ্যমণি মুস্তাফিজুর রহমান

মুস্তাফিজুর রহমান!!! আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করার পর থেকে শুধু একের পর এক বিস্ময়ের জন্ম দিয়েই যাচ্ছেন। প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যান যারা সব বোলারদের জন্য হয়ে আসেন দুঃস্বপ্ন হিসাবে, আর সেখানে তিনিই কিনা তাদের জন্যই দুঃস্বপ্ন। রহস্যময় কাটার, স্লোয়ার, সুইং, গতি কি নেই তার মাঝে?

একদিনের অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট!!! টেস্ট অভিষেক ম্যাচে ৪ উইকেট!!! টি ২০ অভিষেক ম্যাচে ২ উইকেট!!! এক কথায় কি বলা যায়? স্বপ্নের অভিষেক!!!

আর উইকেটগুলো যেন তেন ব্যাটসম্যানের নয়। যাদের নাম শুনলেই বোলারদের নাকের জল আর চোখের জল এক হয়ে যায়।

শহীদ আফ্রিদি, গ্যালারিতেই বল পাঠানো যার পছন্দের কাজ, সেই আফ্রিদিকে দিয়ে শুরু করেছিলেন তিনি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুসফিককে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন। বাংলাদেশে খেলতে এল ভারত। বিশ্বকাপে ভারতের কাছে বিতর্কিত ভাবে হেরে যাবার ঘা তখনও স্পষ্ট। রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরু করলেন ভারত বধ মিশন। কি বোকাটাই না তিনি হয়েছিলেন, বুঝতেই পারলেন না তার বল। হাশিম আমলা, টেস্টে যিনি দক্ষিন আফ্রিকার নির্ভরতার প্রতীক, সেই তিনিই কিনা খোঁচা মেরে আউট হলেন এই মুস্তাফিযের বলে। এর পরে গেলেন টি ২০ বিশ্বকাপ খেলতে। খেললেন মাত্র তিনটি ম্যাচ, উইকেট নিলেন ৯টি। শুরু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কাপ্তান স্মিথকে দিয়ে।

এছাড়াও খেলেছেন বি পি এল, সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়লেস আর আই পি এলে উইকেট মিশন শুরু করেছেন বর্তমানের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান ডি ভিলিয়ার্সকে দিয়ে।

সারা বিশ্বের সকল সাবেক খেলোয়ার, ধারা ভাস্যকর সকলেই মুস্তাফিজের বন্দনা করে চলেছেন।

ব্রায়ান লারাতো বলেই দিলেন, তার সৌভাগ্য যে, তাকে মুস্তাফিজের বল খেলতে হয় নি।