ব্রেস্ট ফিডিং এর উপকারিতা

ফর্মুলা মিল্ক বা কৌটা দুধে শিশুর স্বাস্থ্য ঝুঁকি
ছবিঃ গাস্তাভ ফিড়িং

সদ্যোজাত সন্তানের জন্য মাতৃদুগ্ধের চেয়ে উৎকৃষ্ট অন্য কোনও খাবার নেই। শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য এই মাতৃদুগ্ধের কোন বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে বাচ্চাদের রোগমুক্ত রাখতে তাদের অবশ্যই স্তন্যপান করানো উচিত। এটি শিশুর পাশাপাশি মায়ের পক্ষেও উপকারী। একটি গবেষণা অনুযায়ী যে মা স্তন্যপান করিয়ে থাকেন, তাঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে স্তন্যপান করানো কঠিন কাজ। এতে মায়ের সারাদিনে ৭০০ ক্যালরি পুড়ে যায়। তাই স্তন্যপানকারী মায়েদের পুষ্টিকর ডায়েট মেনে চলা উচিত। সবুজ শাকসবজি, তিসির বীজ, গোটা অন্ন, বাদাম নিজের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করলে শক্তির চাহিদা পূর্ণ হয়।

ব্রেস্ট ফিডিং এর উপকারিতা

  • যেসব শিশুরা বুকের নিয়ম মেনে অর্থাৎ ছয় মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র মায়ের বুকের দুধ আর দুই বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ পান করে তাদের মৃত্যুহার যারা বুকের দুধ পান করে না সেই শিশুদের তুলনায় ১৪ গুণ কম। ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশন এর তথ্য মতে শিশুকে জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে যদি বুকের দুধ পান করানো হয় সেক্ষেত্রে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমে যায়।
  • মায়ের বুকের দুধ বিভিন্ন এন্টিবডিতে ভরা যা শিশুকে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া থেকে রক্ষা করে। যেসব শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করে না বা সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে মায়ের বুকের দুধ পান করে না তাদের নিউমোনিয়া ডায়রিয়া ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • যেসব শিশুর জন্ম পরবর্তী ছয় মাস এক্সক্লুসিভ ব্রেস্ট ফিডিং (শুধুমাত্র বুকের দুধ পান করবে এমনকি একফোঁটা পানিও পান করবে না) তাদের বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগ, কণ্ঠনালী ও কানের ইনফেকশন জনিত বিভিন্ন রোগের আশংকা কমে যায়।
  • যেসব শিশুর বুকের দুধ পান করে তাদের পাকস্থলীর বিভিন্ন রোগের আক্রান্ত হওয়াসহ, অ্যাজমা, একজিমা ও অ্যালার্জি হওয়ার ঝুঁকি কম।
  • যে শিশুরা মায়ের বুকের দুধ দুই বছর পর্যন্ত পান করে এবং এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং করে তাদের বুদ্ধিমত্তা যারা মায়ের দুধ সঠিকভাবে পান করে না তাদের তুলনায় অনেক বেশি এবং তাদের মস্তিষ্কের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে মায়ের বুকের দুধে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান।
  • ৬. এসকল শিশুরা মায়ের বুকের দুধ পান করে তাদের সাথে মায়ের আত্মিক বন্ধন তৈরি করতে সাহায্য করে ফলে সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়ে ও আস্থা তৈরি হয়।
  • মায়ের দুধে যে উপাদান রয়েছে তাতে শিশুর ক্যান্সার প্রতিরোধ সহায়ক হয়। এছাড়াও জীবনের পরবর্তী পর্যায়গুলোতে ডায়াবেটিস, ওজনাধিক্য ও কিছু কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কম থাকে যে সকল শিশুর জন্মের পর সঠিকভাবে নিয়ম মেনে মায়ের বুকের দুধ পান করে তাদের। আর তাদের জীবনে পরবর্তী পর্যায়গুলোতে হাড় ও অস্থির গঠন মজবুত থাকে।
  • বাচ্চার মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে।
  • স্টূল ইনফেকশন কম হয়।

ব্রেস্ট ফিডিং এর উপকারিতা

top wedding photographerin bangladesh

Related posts

Leave a Comment